Home ব্যাংক-বীমা বড় অঙ্কের ঋণের দিকে বেশি ঝুঁকছে ব্যাংকগুলো

    বড় অঙ্কের ঋণের দিকে বেশি ঝুঁকছে ব্যাংকগুলো

    বড় অঙ্কের ঋণের দিকে বেশি ঝুঁকছে ব্যাংকগুলো
    Staff reporter (s)

    Published: 11:35:44
    63
    0

    image_pdfimage_print

    কর্পোরেট সংবাদ ডেস্কঃ একক গ্রাহককে বেশি ঋণ দেওয়ায় ব্যাংকিং খাত বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। কিন্তু সেই বড় অঙ্কের ঋণের দিকে বেশি ঝুঁকছে ব্যাংকগুলো। মোট ঋণের প্রায় সাড়ে ৫৭ শতাংশ বড় ঋণ। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের ৪০ শতাংশ, বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের ৬৫ শতাংশ, বিশেষায়িত ব্যাংকের ৪৭ শতাংশ এবং বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকের ৭৩ শতাংশ বড় ঋণ হিসেবে বিতরণ করা হয়েছে। ২০১৬ সালে ব্যাংকগুলোর মোট ঋণের ৫৮ শতাংশ ছিল বড় ঋণ, যা অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির পথে বাধা সৃষ্টি করছে। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) এক গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

    গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর মিরপুরে বিআইবিএম অডিটোরিয়াম এবং বাংলাদেশ ব্যাংক রাজশাহী অফিসে ‘ক্রেডিট অপারেশনস অব ব্যাংকস’ শীর্ষক বার্ষিক পর্যালোচনা কর্মশালায় উপস্থাপিত গবেষণা প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মোহাঃ রাজী হাসান। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন বিআইবিএমের মহাপরিচালক (চলতি দায়িত্বে) ড. শাহ মো. আহসান হাবীব। বিআইবিএমের কর্মশালাটি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে একই সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের রাজশাহী অফিস থেকে অংশগ্রহণ করেন রাজশাহীর বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকের আঞ্চলিক পর্যায়ের শীর্ষপর্যায়ের কর্মকর্তারা। কর্মশালায় গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করে বিআইবিএমের অধ্যাপক এবং পরিচালক (গবেষণা, উন্নয়ন এবং পরামর্শ) ড. প্রশান্ত কুমার ব্যানার্জীর নেতৃত্বে ৬ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল।

    ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মোহাঃ রাজী হাসান বলেন, ব্যাংক ঋণ সংক্রান্ত বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক সব সময়ই বিশেষ সজাগ। এর পরও খেলাপি ঋণসহ বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক কাজ করে যাচ্ছে। এরই মধ্যে বাংলাদেশ আর্থিক অনিয়ম বিষয়ে নজরদারি বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে খেলাপি ঋণ কমাতে বেশ কয়েকটি পদেক্ষপ নিয়েছে।

    মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনের সময় ড. প্রশান্ত কুমার ব্যানার্জী বলেন, ক্রেডিট ডিপোজিট রেশিও, শেয়ার মার্কেটে বিনিয়োগ সীমা এবং বড় ঋণের বিষয়ে বেশি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। একই সঙ্গে ঋণের গুণগত মান উন্নয়নের বিষয়ে বিশেষ নজর রাখতে হবে। তিনি বলেন, নৈতিকতাসম্পন্ন লোকের অভাব নেই। কিন্তু তারা যথার্থ মূল্যায়িত হয় না। বরং যারা নৈতিকতার সঙ্গে সমঝোতা করে তারা পেশাগত দিক থেকে এগিয়ে গেছে, যা ব্যাংকিং খাতের জন্য সুখকর নয়।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. বরকত-এ-খোদা বলেন, গ্রামের মানুষ ঋণ কম পাচ্ছে। এতে অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যাংকিং কম হচ্ছে। সুতরাং বিষয়টি নিয়ে নীতিনির্ধারকদের চিন্তা করতে হবে কীভাবে সবাইকে ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনা যায়।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক ইয়াছিন আলী বলেন, কিছু ধূর্ত লোক তার একই সম্পত্তি বারবার দেখিয়ে ঋণ নেয়। এ সংক্রান্ত বিষয়ে বারবার আলোচনা হয়েছে। কিন্তু সিআইবির মতো পর্যায়ে যায়নি। বিষয়টিতে এখন নজর দেওয়ার সময় এসেছে।

    সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ওবায়েদউল্লাহ আল মাসুদ বলেন, ঋণ দেওয়ার আগে গ্রাহকদের ৬ মাসের ব্যাংক লেনদেন খতিয়ে দেখতে হবে। খেলাপি ঋণ মনিটরিংয়ে ডাটা ব্যাংক করতে হবে। গৃহঋণের বিষয়ে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। কেননা আইনজীবীরা জমি সংক্রান্ত অনেক তথ্য দেয় যা সঠিক নয়। অবশ্যই সরেজমিন পরিদর্শন করে ঋণ দিতে হবে।

    কর্মশালায় অন্যদের মধ্যে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের এমডি সৈয়দ ওয়াসেক মোঃ আলী, এনআরবি ব্যাংকের এমডি মোঃ মেহমুদ হোসেন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

    আরও পড়তে পারেনঃ 

    সোনালী ব্যাংক ছাড়া রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রর ব্যবসা করছে সবাই

    Print Friendly, PDF & Email

    This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.