Home শিরোনাম অগ্রিম মূসক আদায়ের নির্দেশনা প্রজ্ঞাপন জারি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের

    অগ্রিম মূসক আদায়ের নির্দেশনা প্রজ্ঞাপন জারি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের

    Staff reporter (s)

    Published: 10:40:13
    46
    0

    image_pdfimage_print

    কর্পোরেট সংবাদ ডেস্কঃ দেশে খালি সিলিন্ডার আমদানির ক্ষেত্রে অগ্রিম মূসক (এটিভি) আদায়ের নির্দেশনা দিয়ে ২০১২ সালের ২৮ জুন একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। কিন্তু প্রজ্ঞাপনে অস্পষ্টতার অজুহাত দিয়ে মূসক প্রদান থেকে বিরত থাকেন ব্যবসায়ীরা। পরে অস্পষ্টতা দূর করে আরেকটি নির্দেশনা দেশের সব কাস্টম হাউজে পাঠায় এনবিআর। এরপরও চট্টগ্রাম বন্দর থেকে আমদানিকৃত খালি সিলিন্ডার খালাসের অগ্রিম মূসক আদায়ের নির্দেশনাটি পুরোপুরি মানা হচ্ছে না।

    এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সাল থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত সময়ে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে প্রায় ৮৬৯ কোটি টাকা মূল্যের খালি সিলিন্ডার আমদানি হলেও অগ্রিম মূসক আদায় হয়েছে মাত্র ১১ কোটি টাকা। এই সময়ে বিভিন্ন চালানে অগ্রিম মূসক আদায় করেনি, এমন আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে— বিএম এনার্জি বিডি লিমিটেড, তাসনিম কেমিক্যাল কমপ্লেক্স লিমিটেড, ওমেরা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড, এলপি গ্যাস লিমিটেড, ওরিয়ন পাওয়ার রূপসা লিমিটেড, তমা কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড কোম্পানি, মেসার্স সামুদা কেমিক্যাল কমপ্লেক্স, প্রিমিয়ার এলপি গ্যাস লিমিটেড, আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানি ও যমুনা স্পেসটেক জয়েন্ট ভেঞ্চার লিমিটেড।

    প্রযোজ্য অগ্রিম মূসক প্রদানের তাগিদ দিয়ে সম্প্রতি চারটি প্রতিষ্ঠানকে দাবিনামা পাঠিয়েছে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট চট্টগ্রাম। ৮১টি বিল অব এন্ট্রির বিপরীতে অগ্রিম মূসক বাবদ রাজস্ব জমা দিতে সর্বশেষ ওমেরা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের কাছে দাবিনামা পাঠিয়েছে সংস্থাটি। পর্যায়ক্রমে বাকি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও দাবিনামা পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

    এ বিষয়ে কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, চট্টগ্রামের কমিশনার সৈয়দ গোলাম কিবরীয়া বলেন, এনবিআরের নির্দেশনা অনুযায়ী খালি সিলিন্ডার আমদানির পর্যায়ে ৪ শতাংশ হারে এটিভি প্রদানে বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এরই মধ্যে চট্টগ্রামে চারটি প্রতিষ্ঠানকে এ-সংক্রান্ত দাবিনামা পাঠিয়েছি।

    তিনি জানান, এটিভি-সংক্রান্ত এসআরওতে স্থানীয় নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন পর্যায়ে মূলধনি যন্ত্রাংশ ও কাঁচামাল আমদানিতে অগ্রিম মূসক মওকুফের ঘোষণা থাকলেও খালি গ্যাস সিলিন্ডার আমদানিতে এ সুবিধা দেয়া হয়নি। এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে যে অস্পষ্টতার কথা বলা হয়েছিল, তা ২০১৪ সালের ৩ জুন এনবিআরের পক্ষ থেকে একটি নির্দেশনার মাধ্যমে পরিষ্কার করা হয়েছে।

    এনবিআরের জারি করা ওই নির্দেশনায় বলা হয়, সিলিন্ডার কোনোভাবেই পণ্যের মোড়কের পর্যায়ে পড়ে না। মোড়ক বারবার ব্যবহার করা যায় না, কিন্তু সিলিন্ডার বারবার ব্যবহার করা যায়। গ্যাস শেষ হওয়ার পর গ্রাহক সিলিন্ডার সরবরাহকারীর কাছে ফেরত দেয়। সরবরাহকারী পুনরায় এতে গ্যাস ভর্তি করে গ্রাহকের কাছে সরবরাহ করে। তাই প্রজ্ঞাপন (এসআরও নং: ০২৪২-আইন/২০১২/৫৬৯-মূসক) অনুযায়ী খালি সিলিন্ডার আমদানি পর্যায়ে অগ্রিম মূসক আদায়যোগ্য হবে।

    চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আমদানি হওয়া পণ্যের বিপরীতে অগ্রিম মূসক আদায়ের দায়িত্ব চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষের। যদিও পরবর্তীতে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ আদায়কৃত মূসক বুঝিয়ে দেন চট্টগ্রাম ভ্যাট কমিশনারেটের কাছে। দীর্ঘ সময় ধরে আমদানির শুল্কায়ন পর্যায়ে অগ্রিম মূসক না দিয়েই চট্টগ্রাম বন্দর থেকে খালি সিলিন্ডার খালাসের সুযোগ পেয়েছে বেশকিছু আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান। উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোয় নিরীক্ষাকালেও সঠিকভাবে মূসক পরিশোধ না হওয়ার প্রমাণ মিলেছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে এখন অগ্রিম মূসক আদায়ে মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করেছে চট্টগ্রাম ভ্যাট কমিশনারেট।

    এ বিষয়ে নাম না প্রকাশের শর্তে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা বলেন, এনবিআরের এসআরওকে নিজেদের পক্ষে ব্যাখ্যা করে অনেকে অগ্রিম মূসক না দিয়েই খালি সিলিন্ডার খালাস করে নিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে। নিয়ম অনুযায়ী চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষ অগ্রিম মূসক আদায় করে ভ্যাট কমিশনারেটকে জমা দিয়ে থাকে। তবে এখন কাস্টমস কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে সতর্ক রয়েছে।

    Print Friendly, PDF & Email