Home শিরোনাম বেনাপোল চেকপোস্টে সীমাহীন হয়রানি, যাত্রীদের মারধরের অভিযোগ

    বেনাপোল চেকপোস্টে সীমাহীন হয়রানি, যাত্রীদের মারধরের অভিযোগ

    সীমাহীন হয়রানি
    Corporate Sangbad Sub Editor

    Published: 12:08:03
    529
    0

    image_pdfimage_print

    হাবিবুর রহমান, যশোর: বৈধপথে ভারত ভ্রমণের ক্ষেত্রে বেনাপোল চেকপোস্টের বিপরীতে হরিদাসপুর চেকপোস্টে (পেট্রাপোল) ইমিগ্রেশন পুলিশ, কাস্টমস ও বিএসএফের ঘুষ আদায়, যাত্রী নির্যাতন ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ পুরনো। চাহিদা মতো টাকা না দিলে যাত্রীদের ইমিগ্রেশন পার হতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লেগে যায়।  শুধু এমন ভোগান্তিই নয়, দেশি-বিদেশি যাত্রীদের মারপিট করার অভিযোগও রয়েছে ভারতীয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন ধরে এমন অভিযোগ একের পর এক উঠলেও এ নিয়ে কোনো প্রতিকারের উদ্যোগ নেই সংশ্লিষ্ট বিভাগের।

    এছাড়াও ভারতীয় ইমিগ্রেশনে কাজের ধীর গতিতে প্রতিদিন কয়েক হাজার বাংলাদেশি যাত্রী সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার হয়ে ভারতীয় ইমিগ্রেশনের মধ্যে আটকা পড়ে থাকেন। বাঁশের খাঁচায় যাত্রীরা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে সীমাহীন কষ্টের মধ্যে থাকতে হয় রোগীসহ শিশুদেরও। মাঝে মাঝে এই লাইন চলে আসে নোম্যান্সল্যান্ড ছাড়িয়ে বাংলাদেশ সীমান্তে।

    যাত্রীরা বলছেন, বৈধপথে পাসপোর্ট-ভিসা নিয়ে এরকম দুর্ভোগ মেনে নেওয়া যায় না। এক্ষেত্রে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের নজর দেওয়া দরকার। একজন যাত্রী বৈধভাবে ভারতীয় হাই কমিশনে ভিসার নির্ধারিত ফি ও সরকারের ভ্রমণকরের টাকা জমা দিয়ে ভ্রমণ করতে ঘাটে ঘাটে বিপুল ঘুষের হাত থেকে রক্ষা পেতে অনেকে অবৈধ পথে ভারত পারাপার হচ্ছে। ফলে সরকার হারাচ্ছে লাখ লাখ টাকার রাজস্ব।

    বাংলাদেশের সঙ্গে বেনাপোল-পেট্রাপোল সড়ক দিয়ে ভারতের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়ার কারণে চিকিৎসা, ব্যবসা, আত্মীয়স্বজনদের দেখা ও ভ্রমণে দেশি-বিদেশি যাত্রীদের যাতায়াত দেশের অন্য পথের চেয়ে অনেক বেশি। এছাড়া প্রতিবেশী এই দেশটির নাগরিকদের সঙ্গে রয়েছে অনেক বাংলাদেশির রয়েছে আত্মীয়তার সম্পর্ক। ফলে দিন দিন দুই দেশের মধ্যে যাতায়াত বাড়ছে। বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ছয় থেকে আট হাজার বৈধ যাত্রী এ পথে যাতায়াত করেন।

    যাত্রীরা বলছেন, ঢাকাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে ওপারে পৌঁছানোর পর থেকে তারা নানাভাবে হয়রানির শিকার হন। কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন কেন্দ্রে ঢোকার পর শুরু হয় যাত্রী হয়রানি। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের ব্যাগ তল্লাশি শেষে পাসপোর্টপ্রতি ৫০০ থেকে এক হাজার টাকা ঘুষ দাবি করে। না দিলে তারা যাত্রীদের সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহার করে থাকে। অনেক সময় যাত্রীদের আনা মালামাল ‘অবৈধ’ বলে কেড়ে নেয়। কোনো কোনো যাত্রীর শরীর তল্লাশি করা হয় অসৌজন্যমূলকভাবে। চাহিদা মতো টাকা না দিলে যাত্রীদের বসিয়ে রাখা হয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা। ইমিগ্রেশনেও একই অবস্থা। তাদের চাহিদা আরো বেশি। চাহিদা পূরণ না করলে পাসপোর্টে সিল না মেরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হয়। পাসপোর্টে খোঁজা হয় ছোট খাটো ত্রæটি। ত্রুটি খুঁজে পেলেই মওকা। যাত্রীর কাছ থেকে জোর করে আদায় করা হয় কয়েকগুন বেশি টাকা। টাকা দিয়েই ইমিগ্রেশন পার হওয়ার উপায় নেই।

    ইমিগ্রেশন পার হলেও পড়তে হয় আরেক জুলুমের মুখে। লাল ও সবুজ পোশাকের ভারতীয় কুলি (লেবার) সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাংলাদেশি যাত্রীদের কাছ থেকে জোর করে প্রতিদিন আদায় করা হয় বিপুল টাকা। প্রায় ৯৫ শতাংশ যাত্রীর কাছ থেকে তারা জোর করে আদায় করছে ৫০০ থেকে দুই হাজার টাকা। কেউ টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে নানাভাবে হয়রানি করা হয়ে থাকে। মালামাল রেখে দেওয়ার ভয় দেখায় কুলিরা।

    এদিকে, ফেরার পথে যাত্রীদের অনেককেই আরেক দফা হয়রানির শিকার হতে হয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) হাতে। বেশি ব্যাগ দেখলেই নিয়ে যাওয়া হয় বিএসএফ ক্যাম্পে। প্রতিবাদ করলে দৈহিক নির্যাতনও জোটে বলে অভিযোগ আছে।

    ভারতীয় ভিসা দিতে ভারতীয় হাই কমিশন পাসপোর্ট প্রতি ৭০০ টাকা ফি নিয়ে থাকে। আর বাংলাদেশ সরকার নিচ্ছে ভ্রমণকর বাবদ ৫০০ ও টারমিনাল চার্জ বাবদ ৪২ টাকা করে। এছাড়া ভিসার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে আরো টাকা যায়। যাত্রীদের সুবিধার্থে বাংলাদেশ সরকার অনেক আগেই বেনাপোল চেকপোস্টে আন্তর্জাতিক কাস্টমস-ইমিগ্রেশন ভবন, স্ক্যানার মেশিন, প্যাসেনজার টারমিনালসহ বিভিন্ন স্থাপনার উন্নয়ন করেছে। বাড়ানো হয়েছে কাস্টমস ও পুলিশের জনবল। কিন্তু যাত্রীদের সুবিধার জন্য কিছুই করেনি ভারতীয় কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ। ভারতীয় কাস্টমস ও ইমিগ্রেশনে যাত্রীদের জন্য বিশ্রামাগার ও টয়লেট সুবিধা অপর্যাপ্ত। রোদ, বৃষ্টিতে ভিজে ও লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হয় যাত্রীদের। বেনাপোল ইমিগ্রেশন ও কাস্টমসের কাজ শেষ করে ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশনে প্রবেশের অপেক্ষায় পেট্রাপোল চেকপোস্টের নোম্যান্সল্যান্ডে খোলা আকাশের নিচে দীর্ঘ লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয় যাত্রীদের সেখানে নেই কোনো ওয়াশরুম বা শেড। পাসপোর্ট পরীক্ষার নামে ইমিগ্রেশন পুলিশের বিপুল সময় নষ্ট করার অভিযোগ পুরনো।

    বেনাপোল ইমিগ্রেশন সূত্র জানায়, বাংলাদেশে ভারতীয় হাই কমিশন থেকে ভারতের ভিসা সহজীকরণের কথা বলা হলেও টুরিস্ট, বিজনেস ও মেডিকেল ভিসায় বাংলাদেশি যাত্রীদের ওপর মাঝে মধ্যে অঘোষিত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে থাকেন পেট্রাপোল (হরিদাসপুর) ইমিগ্রেশন পুলিশ। জরুরি কাজে যারা ভারতে যাচ্ছেন, অল্প সময় বিরতি দিয়ে তাদের একাধিকবার যাতায়াতের অজুহাত দেখিয়ে পাসপোর্টে রিফিউজড সিল মেরে ফেরত পাঠায় ভারতীয় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ। এর ফলে ওই সব যাত্রী ভারতে তো যেতে পারেনই না, যাতায়াতসহ ভ্রমণকর বাবদ আর্থিকভাবে ক্ষতির শিকার হন তারা। রিফিউজড হয়ে আসা বাংলাদেশি যাত্রীরা বেনাপোল ইমিগ্রেশনকে বিষয়টি জানালেও তারা ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবেন’ বলেন। কিন্তু সমস্যার কোনো সুরাহা হয় না।

    গত ২১ এপ্রিল পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক বাংলাদেশি নারীকে মারাত্মক হয়রানি করেন পেট্রাপোল ইমিগ্রেশনের কর্মকর্তারা। ওই নারীর নাম অর্পিতা পাল। তার বিয়ে হয়েছে কলকাতার জনৈক আনন্দ দাশগুপ্তের সঙ্গে। তার ‘অপরাধ’ ছিল, পাসপোর্ট খানিকটা নষ্ট হয়ে গেছে। এ জন্য তাকে ভারতে ঢুকতে দিচ্ছিল না ইমিগ্রেশন পুলিশ। দীর্ঘ সময় তপ্ত রোদে দাঁড় করিয়ে রাখায় হয় অর্পিতাকে। এক পর্যায়ে অর্পিতার শরীর থেকে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। আতঙ্ক দেখা দেয় যে, এতে তার গর্ভস্থ সন্তানের ক্ষতি হয় কিনা। খবর পেয়ে পেট্রাপোল থানার ওসির হস্তক্ষেপে অর্পিতাকে তার গাড়িতে করে বনগাঁ হাসপাতালে, পরে অ্যাম্বুলেন্সে করে কলকাতার একটি নার্সিং হোমে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় ওই ইমিগ্রেশন পুলিশের কর্মকর্তাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছেন অর্পিতার স্বামী আনন্দ দাশগুপ্ত। সুবর্ণভূমিসহ ভারত-বাংলাদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যম এই সংবাদ খবর প্রকাশ করেছে। কিন্তু দায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

    এর আগে গত ১১ এপ্রিল বিকেলে পেট্রাপোল ইমিগ্রেশনে নুর আলী (৪৫) নামে একজন বাংলাদেশি যাত্রীকেও নির্যাতন করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। তার ‘অপরাধ’ ছিল মার্চ মাসজুড়ে আত্মীয় বাড়ি কেনো ছিলেন? দশ দিন পর আবার কেনো যাচ্ছে ভারতে? নুর আলী জানান, তিনি অসুস্থ, তাই চিকিৎসা নিতে তার নিকটআত্মীয় বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। ডাক্তার দশ দিন পর আবার আসতে বলেছেন। তাই আবার আসা। তারপরও নুর আলীকে মানসিক নির্যাতন করা হয় এবং তার পাসপোর্টে রিফিউজড সিল মেরে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
    নুর আলী সাতক্ষীরা জেলার আলীপুর পাঁচপোতা গ্রামের গহর আলীর ছেলে। তার পাসপোর্ট নম্বর বিকিউ-০৭৩৭৪৩৯।

    ৯ এপ্রিল দুপুরে পেট্রাপোল ইমিগ্রেশনে মিনহাজ আরাফাত (২৯) নামে একজন বাংলাদেশি যাত্রীকে নির্যাতন করে পুলিশ। তিনি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার খালিশপুর গ্রামের মতিয়ার রহমানের ছেলে। তার পাসপোর্ট নম্বর বিই-০৮৯৯৬৭৭। তার ‘অপরাধ’ ছিল ইমিগ্রেশন লাইনে দাঁড়ানো অবস্থায় কাছে থাকা সেল ফোনে রিং এলো কেনো? এ কারণে তার ওপর অমানুষিক নির্যাতন করে পাসপোর্টে রিফিউজড সিল মেরে বাংলাদেশে ফেরত পাঠায় ইমিগ্রেশন পুলিশ।

    এছাড়া ২০১৭ সালের ৫ নভেম্বর রোববার বাংলাদেশের ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গা উপজেলার রবিউল ইসলামের ছেলে আব্দুল কুদ্দুসকে (পাসপোর্ট নম্বর-বিকে-০৩০৭৭৬৭) ভারতে যাওয়ার সময় এন্ট্রি রিফিউজড সিল মেরে ফেরত পাঠানো হয়। যশোরের শার্শার কুলপালা গ্রামের আব্দুল হান্নানের ছেলে শহিদুল ইসলাম (পাসপোর্ট নম্বর- বিপি-০২৭৬১৮৩) ভারতে গেলে তাকে পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন রিফিউজড সিল মেরে বলে, ‘এক মাস পর আসবে’।

    ৪ নভেম্বর ব্যবসায়িক কাজে ভারতে যাওয়ার জন্য ইমিগ্রেশনে গেলে ভারতীয় পুলিশ বাংলাদেশি নাগরিক হজরতকে ফেরত পাঠিয়ে জানিয়ে দেন, ‘১৫ দিন পরে আসো’।

    ২ মার্চ ঢাকা-কলকাতার মধ্যে সরাসরি চলাচলকারী ভারতের সৌহার্দ্য পরিবহনের দুটি বাস দেরিতে ঢোকার কারণে পেট্রাপোল সীমান্তের নোম্যান্সল্যান্ডে আটকে রাখেন ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা। বাসের ৫১ জন যাত্রীকে সারা রাত সীমান্তের নোম্যান্সল্যান্ডে বাসে বন্দি রেখে পরের দিন সকালে ভারত যেতে দেওয়া হয়।

    বেনাপোলের সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম জানান, যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়ার কারণে ব্যবসা, ভ্রমণ ও চিকিৎসার প্রয়োজনে এ পথে মানুষের যাতায়াত গত পাঁচ বছরে বেড়েছে তিন গুণ। একই সঙ্গে যাত্রী হয়রানিও বেড়েছে পাল্লা দিয়ে। বিষয়টি নিয়ে উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা জরুরি বলে তিনি মনে করেন।

    বেনাপোল চেকপোস্টের মানিচেঞ্জার জাকির হোসেন বলেন, ‘মাল্টিপল টুরিস্ট ভিসার অর্থ ভিসার মেয়াদ থাকা পর্যন্ত যতবার দরকার ততবার যাওয়ার সুযোগ। কিন্তু সেখানে যদি ভারতীয় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ সময় বেঁধে দেয় তাহলে এ ভিসার কোনো অর্থ হয় না। যেখানে দুই দেশের সরকার মানুষের প্রয়োজন ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক জোরদার করতে ভিসা ব্যবস্থা সহজীকরণ করছে, সেখানে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের এ ধরনের সিদ্ধান্ত অত্যন্ত দুঃখজনক।’

    বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে বার বার অভিযোগ জানিয়ে আসছে ভারতীয় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। প্রতিদিনই যাত্রী বাড়ছে। বেনাপোল ইমিগ্রেশন ১৬টি ডেস্কে যাত্রীদের পাসপোর্টের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়। এদেশের ইমিগ্রেশনে কোনো যাত্রী তাদের পাসপোর্টের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করতে লাইনে দাঁড়িয়ে না থাকলেও ভারতের ইমিগ্রেশনের ধীরগতির কারণে মাঝে মধ্যে যাত্রীদের দীর্ঘ লাইন পড়ে যায়। মাঝে-মধ্যে তারা যাত্রীদের ফেরতও পাঠাচ্ছে।

    আরও পড়তে পারেন: ডিআইজি মিজানকে দুদকের জিজ্ঞাসাবাদ

    Print Friendly, PDF & Email

    This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.