Home তথ্য-প্রযুক্তি হুয়াওয়ের বিরুদ্ধে তদন্তে মার্কিন বিচার বিভাগ

    হুয়াওয়ের বিরুদ্ধে তদন্তে মার্কিন বিচার বিভাগ

    huawei
    Staff reporter (s)

    Published: 11:49:24
    20
    0

    image_pdfimage_print

    ডেস্ক রির্পোটঃ  যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পণ্য ইরানে রফতানি বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তা অমান্য করে চীনা প্রযুক্তি কোম্পানি হুয়াওয়ে টেকনোলজিস দেশটিতে পণ্য রফতানি করেছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে মার্কিন বিচার বিভাগ। খবর এএফপি।

    যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগ ইরানে পণ্য রফতানির কারণে এরই মধ্যে চীনা নেটওয়ার্ক সরঞ্জাম নির্মাতা জেডটিইর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এর ফলে মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো আগামী সাত বছর জেডটিইকে কোনো ধরনের চিপ বা সফটওয়্যার সরবরাহ করতে পারবে না। এবার হুয়াওয়ের বিরুদ্ধে একই ধরনের তদন্ত শুরু করল দেশটির সংশ্লিষ্ট বিভাগ।

    এএফপির প্রতিবেদনে হুয়াওয়ের বিরুদ্ধে তদন্ত সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়নি। তবে চুক্তির শর্ত ভেঙে চীনা প্রতিষ্ঠানটি ইরান ও উত্তর কোরিয়ায় পণ্য রফতানি করেছে কিনা, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে মার্কিন বাণিজ্য ও ট্রেজারি বিভাগও, যা প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়।

    এদিকে জেডটিইর কাছে যন্ত্রাংশ ও সফটওয়্যার বিক্রি না করতে গত সপ্তাহে মার্কিন কোম্পানিগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগ। নিষেধাজ্ঞা অনুযায়ী, মার্কিন কোম্পানিগুলো জেডটিইর কাছে সাত বছর যন্ত্রাংশ ও সফটওয়্যার বিক্রি করতে পারবে না।

    যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, চীন সরকারের সঙ্গে হুয়াওয়ের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটির টেলিকম সরঞ্জাম কিংবা ডিভাইস ব্যবহার করলে মার্কিন নাগরিকদের তথ্য চুরি হতে পারে। চীন সরকার গুপ্তচরবৃত্তির ক্ষেত্রে হুয়াওয়ের সরঞ্জাম কিংবা ডিভাইস ব্যবহার করতে পারে বলে যুক্তরাষ্ট্রের আশঙ্কা। গত ফেব্রুয়ারিতে হুয়াওয়ের স্মার্টফোন না কিনতে মার্কিন নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির ছয় গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান। সিনেট ইন্টেলিজেন্স কমিটির শুনানিতে তারা এ আহ্বান জানান।

    হুয়াওয়ের ভাষ্যমতে, বিশ্বের দেড় শতাশিক দেশের সরকার ও গ্রাহকের আস্থা অর্জন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। অন্য প্রতিষ্ঠানের মতো তাদের পণ্যে বড় ধরনের সাইবার হামলার ঝুঁকি নেই। কারণ হুয়াওয়ে গ্রাহক নিরাপত্তা বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়।

    হুয়াওয়ের মুখপাত্র চার্লস জিনকোভস্কি এক বিবৃতিতে জানান, হুয়াওয়ে যেসব দেশে কার্যক্রম পরিচালনা করে, সেসব দেশের আইন মেনে চলে।

    গত মাসে ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশন (এফসিসি) মার্কিন টেলিকম নেটওয়ার্কে চীনা সরঞ্জামের প্রবেশ ঠেকাতে নতুন একটি আইনের প্রস্তাব করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারে, এমন প্রতিষ্ঠানের হার্ডওয়্যার ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে সেই প্রস্তাবনাটিতে। মার্কিন টেলিকম খাতে হুয়াওয়ে ও জেডটিইর প্রবেশ ঠেকাতে গত ফেব্রুয়ারিতে সিনেটর ম্যাক্রো রুবিও ও টম কটন কংগ্রেসে একটি বিল উত্থাপন করেন। এর আগে আরো দুজন সিনেটর অনুরূপ বিল উত্থাপন করেন।

    এটিঅ্যান্ডটি ও ভেরাইজনের সহায়তায় হুয়াওয়ে মার্কিন ডিভাইস বাজারে ব্যবসা জোরদারের চেষ্টা করেছে। কিন্তু মার্কিন প্রশাসনের চাপে শেষ পর্যন্ত তা সম্ভব হয়নি। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বৃহৎ ইলেকট্রনিকস খুচরা পণ্য বিক্রেতা বেস্ট বাই ইনকরপোরেশন হুয়াওয়ের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছে। হুয়াওয়ের ফোন, ল্যাপটপ, ট্যাবলেট, স্মার্টওয়াচসহ প্রতিষ্ঠানটির সব ধরনের পণ্য বিক্রি না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বেস্ট বাই।

    যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাধার মুখে পড়লেও বৈশ্বিক বাজারে হুয়াওয়ের সাফল্য ঈর্ষণীয়। গত বছর প্রতিষ্ঠানটি ১৫ কোটি ৩০ লাখ ফোন বিক্রি করেছে। এ সময়ে মুনাফা বেড়েছে ২৮ দশমিক ১ শতাংশ। ২০১৭ সালে মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকায় প্রতিষ্ঠানটির ফোন বিক্রি বেড়েছে।

    চীনা সেনাবাহিনীর সাবেক প্রকৌশলী রেন ঝেংফি ১৯৮৮ সালে হুয়াওয়ে প্রতিষ্ঠা করেন। চীনের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম, যা বৈশ্বিক টেক জায়ান্টদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্ব্বিতা করছে। বর্তমানে টেলিযোগাযোগ যন্ত্রাংশ ও স্মার্টফোন খাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কোম্পানি হুয়াওয়ে। গত বছর প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বের তৃতীয় বৃহৎ স্মার্টফোন বিক্রেতা ছিল।

    আরও পড়ুনঃ 

    আলতাবা ইনকরপোরেশনকে সাড়ে ৩ কোটি ডলার জরিমানা এসইসি’র

    Print Friendly, PDF & Email