Home কর্পোরেট সংবাদ বাংলাদেশের ব্যাংকিং, আইসিটি খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী ভারতীয় উদ্যোক্তারা

বাংলাদেশের ব্যাংকিং, আইসিটি খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী ভারতীয় উদ্যোক্তারা

বাংলাদেশের ব্যাংকিং, আইসিটি খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী ভারতীয় উদ্যোক্তারা
Staff reporter (s)

Published: 12:17:52
27
0

image_pdfimage_print

কর্পোরেট সংবাদ ডেস্কঃ  বাংলাদেশের চিকিৎসাসেবা, শিক্ষা, তথ্যপ্রযুক্তি ও ব্যাংকিং খাতে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ভারতীয় উদ্যোক্তারা। গতকাল ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) নেতাদের সঙ্গে আলোচনাকালে এ আগ্রহ প্রকাশ করেন বাংলাদেশ সফররত ভারতের বেঙ্গল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রতিনিধিরা।

বেঙ্গল চেম্বারের ১৮ সদস্যবিশিষ্ট এক প্রতিনিধি দল গতকাল এফবিসিসিআইয়ের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে। এফবিসিসিআই সভাপতি মো. সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিনের সভাপতিত্বে এফবিসিসিআই মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ আলোচনা সভায় বেঙ্গল চেম্বারের সভাপতি চন্দ্র শেখর ঘোষ, এফবিসিসিআইয়ের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এফবিসিসিআই সভাপতি তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্ক বর্তমানে এক নতুন উচ্চতায় উন্নীত হয়েছে। যেহেতু বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম দ্রুত অগ্রসরমাণ অর্থনীতির একটি, সেহেতু এ দেশের বাজারে ভারতের ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। ভারত বাংলাদেশের অন্যতম বাণিজ্য অংশীদার হতে পারে। দেশ দুটির বিদ্যমান বাণিজ্য সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সম্ভাবনাময় খাতগুলো খুঁজে দেখা দরকার বলে মনে করেন তিনি।

বেঙ্গল চেম্বারের সভাপতি চন্দ্র শেখর ঘোষ পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যকার পরিবেশ, সংস্কৃতি, খাবার ইত্যাদি ক্ষেত্রে সামঞ্জস্যের বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, প্রতিবেশী দুই দেশের বাণিজ্য উদ্যোক্তারা চিকিৎসাসেবা, শিক্ষা, তথ্যপ্রযুক্তি ও ব্যাংকিং খাতে যৌথভাবে কাজ করে লাভবান হতে পারেন। এসব খাতে ভারতীয় বিনিয়োগকারীরা কাজ করতে আগ্রহী বলে জানান তিনি।

ডিসিসিআইয়ের সঙ্গে আলোচনা, শুল্ক বাধা দূর করার আহ্বান:

বেঙ্গল চেম্বারের প্রতিনিধি দলটি মঙ্গলবার ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি আবুল কাসেম খান ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে। ডিসিসিআই সভাপতি আবুল কাসেম খান প্রতিনিধি দলটির সদস্যদের বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সম্পর্ক বিদ্যমান। তিনি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতাগুলো, বিশেষ করে শুল্ক বাধা দূর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বাংলাদেশ ভারতে ৬৭ কোটি ২৪ লাখ ডলারের পণ্য রফতানি করেছে। বিপরীতে ভারত থেকে আমদানি করেছে ৬১৪ কোটি ৬২ লাখ ডলারের পণ্য। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় বাংলাদেশে টু-হুইলার মোটরযানের চাহিদা বেড়েছে। এ খাতের পাশাপাশি বাংলাদেশের টায়ার শিল্পে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি। এছাড়া দেশের যোগাযোগ অবকাঠামো, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতেও বিনিয়োগের জন্য ভারতীয় ব্যবসায়ীদের এগিয়ে আসতে বলেন তিনি।

আবুল কাসেম খান বলেন, গত বছর ভারত সরকার বাংলাদেশ থেকে পাট ও পাটজাত পণ্য রফতানির ওপর অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করায় বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়েছেন। তিনি এ বিষয়ে ভারতের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ গ্রহণের জন্য বেঙ্গল চেম্বারের প্রতি আহ্বান জানান।

ডিসিসিআইয়ের সহসভাপতি রিয়াদ হোসেন বলেন, বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি সম্ভাবনাময় খাত। তিনি এ খাতে বিনিয়োগে এগিয়ে আসার জন্য বেঙ্গল চেম্বারের প্রতিনিধিদের আহ্বান জানান। ডিসিসিআই পরিচালক খন্দকার রাশেদুল আহসান ভারতের ভিসাপ্রাপ্তির প্রক্রিয়া আরো সহজ করার উদ্যোগ নিতে বলেন।

বেঙ্গল চেম্বারের সভাপতি চন্দ্র শেখর ঘোষ বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোয় বাংলাদেশ মাথাপিছু আয় বৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখিয়েছে। এতেই বোঝা যায়, এ দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশের জনগণের ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে। ফলে বাংলাদেশের ভোগ্যপণ্য ও অন্যান্য খাতে আরো বেশি বিনিয়োগের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তিনি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বৃদ্ধিতে আরো বেশি যৌথ গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়া দুই দেশের স্থলবন্দরগুলোর অবকাঠামো উন্নয়নে আরো কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের ওপরও জোর দেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ 

স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ প্রত্যাহার চান সিগারেট উৎপাদকরা

Print Friendly, PDF & Email