Home ব্যাংক-বীমা সুদ কম দিতে চায় বেসরকারি ব্যাংক

    সুদ কম দিতে চায় বেসরকারি ব্যাংক

    সুদ কম দিতে চায় বেসরকারি ব্যাংক
    Staff reporter (s)

    Published: 13:15:28
    46
    0

    image_pdfimage_print

    ডেস্ক রিপোর্টঃ বেসরকারি ব্যাংকগুলোয় জমাকৃত সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর বেশির ভাগ অর্থই রাখা হয় মেয়াদি আমানত (এফডিআর) হিসাবে। ৭-১০ শতাংশ সুদে রাখা এ আমানত থেকে ভালো মুনাফা পায় সরকারি প্রতিষ্ঠান। তবে সুদ যাতে কম দিতে হয়, সেজন্য উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দকৃত অর্থসহ সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্য সব আমানত স্পেশাল নোটিস ডিপোজিট (এসএনডি) হিসাবে চাইছে বেসরকারি ব্যাংকগুলো। সরকারি আমানতের ৫০ শতাংশ বেসরকারি ব্যাংকে রাখার দাবি বাস্তবায়নের পর নতুন এ দাবি তুলেছে তারা।

    বেসরকারি ব্যাংক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি) ও শীর্ষ নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) নেতারা যৌথভাবে প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর কাছে মৌখিকভাবে এ দাবি করেছেন। আগের ধারাবাহিকতায় এ দাবিও পূরণের পথে বলে জানা গেছে। অচিরেই অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে এ-সংক্রান্ত সার্কুলার জারির প্রত্যাশা করছেন বেসরকারি ব্যাংক উদ্যোক্তারা।

    ব্যাংক-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন এ দাবি পূরণ হলে বেসরকারি ব্যাংকে রাখা সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর আমানতের সুদ আয় অর্ধেকে নেমে আসবে। এতে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হলেও লাভবান হবে বেসরকারি ব্যাংক। কারণ বর্তমানে এফডিআরের সুদহার ৮-১০ শতাংশ হলেও এসএনডি হিসাবের সুদহার ৩-৫ শতাংশ।

    জানতে চাইলে এবিবির চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম মজুমদার বলেন, বেসরকারি ব্যাংকগুলোর আমানত সংকট কাটাতে আমরা প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর কাছে বেশকিছু দাবি জানিয়েছিলাম। এরই মধ্যে তার কয়েকটি বাস্তবায়ন হয়েছে। এতে ব্যাংকিং খাতে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরেছে। প্রধানমন্ত্রী যেকোনো মূল্যে ঋণের সুদহার এক অংকে নামিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছেন। সে লক্ষ্যে আমরা সম্মিলিতভাবে কাজ করছি। ঋণের সুদহার কমাতে হলে কম সুদে আমানত পেতে হবে। এজন্য উন্নয়ন প্রকল্পের টাকাসহ সরকারি আমানত এসএনডি হিসাবে দেয়ার জন্য বিএবি দাবি করেছে। সরকারের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে আশ্বাসও পাওয়া গেছে।

    সূত্রমতে, ফারমার্স ব্যাংক ঝড়ে বিপদে পড়া বেসরকারি ব্যাংকগুলোকে উদ্ধারে বিভিন্নমুখী উদ্যোগ নিয়েছিল সরকার। বেসরকারি ব্যাংক উদ্যোক্তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কমানো হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকে বিধিবদ্ধ নগদ জমার হার (সিআরআর)। সংকট কাটাতে সরকারি প্রতিষ্ঠানের ৫০ শতাংশ আমানত বেসরকারি ব্যাংকে রাখার নির্দেশও দেয়া হয়েছে। কাটাছেঁড়া হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষিত মুদ্রানীতিও। তারপরও কমছে না ব্যাংকঋণের সুদহার। উল্টো আমানত সংকটের কারণে নতুন বিনিয়োগ বন্ধ রেখেছে অনেক বেসরকারি ব্যাংক। যদিও ঋণের সুদহার এক অংকে নামিয়ে আনার শর্তেই বেসরকারি ব্যাংক উদ্যোক্তাদের সব দাবি পূরণ করেছে সরকার। ঋণের সুদহার কমাতে এখন আবার সরকারি আমানত এসএনডি হিসাবে দেয়ার এ দাবি তুলেছেন বেসরকারি ব্যাংকের উদ্যোক্তারা।

    যদিও বেসরকারি ব্যাংকের এসএনডি হিসাবে সরকারি আমানত দেয়ার দাবির বিষয়টিতে অবগত নন বলে জানান অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. ইউনুসুর রহমান।

    তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি এখনো কিছু জানি না। বেসরকারি ব্যাংকে সরকারি আমানতের ২৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ রাখার বিষয়টি এরই মধ্যে কার্যকর হয়েছে। তবে কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠানই বেসরকারি ব্যাংকে টাকা রাখতে বাধ্য নয়।

    সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ বেসরকারি ব্যাংকগুলোয় এসএনডি হিসাবে রাখলে কোনো ক্ষতি নেই জানিয়ে ইউনুসুর রহমান বলেন, প্রকল্পের জন্য নির্ধারিত বরাদ্দ থাকে। বরাদ্দকৃত অর্থের সঙ্গে সুদ যুক্ত না হলেও সমস্যা নেই। কিন্তু যেসব সরকারি প্রতিষ্ঠান আমানতের সুদের ওপর নির্ভরশীল, সেগুলো এসএনডি হিসাবে রাখলে প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

    কোনো নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য ব্যাংকে টাকা জমা রাখা হলে তাকে এফডিআর বলা হয়। সময় ও অর্থের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে এফডিআরের সুদহার নির্ধারণ করে ব্যাংক। আর এসএনডি হলো কোনো মেয়াদ ছাড়াই ব্যাংকে টাকা জমা রাখা। বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো নোটিস ছাড়াই এসএনডি হিসাব থেকে একটি নির্দিষ্ট সময় (কমপক্ষে সাতদিন) পরপর অন্য হিসাবে অর্থ স্থানান্তর করা যায়। নির্দিষ্ট মেয়াদ না থাকায় এফডিআরের তুলনায় এসএনডির সুদহার অনেক কম হয়ে থাকে।

    এফডিআরের পরিবর্তে এসএনডি হিসাবে আমানত রাখলে সরকারি প্রতিষ্ঠান মুনাফা কম পাবে বলে জানান অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. জায়েদ বখত। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, এতে বেসরকারি ব্যাংকগুলো উপকৃত হবে। অর্থ মন্ত্রণালয় চাইলেই সরকারি প্রতিষ্ঠানের আমানত এসএনডি হিসাবে স্থানান্তরের নির্দেশ দিতে পারে না। ঋণের সুদহার এক অংকে নামিয়ে আনতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশটি কঠোর। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ও অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে বিষয়টি তদারক করা হচ্ছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, বর্তমানে দেশের ব্যাংকিং খাতে মোট আমানতের পরিমাণ প্রায় ১০ লাখ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২ লাখ কোটি টাকা সরকারি আমানত। বাকি ৮ লাখ কোটি টাকাই বেসরকারি আমানত। এ মুহূর্তে বেসরকারি ব্যাংকগুলোয় ঠিক কী পরিমাণ সরকারি আমানত জমা আছে, তার নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান নেই।

    দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত আটটি ব্যাংকের কাছে আমানত রয়েছে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ কোটি টাকা। বাকি সাড়ে ৬ লাখ কোটি টাকার আমানত জমা রয়েছে বেসরকারি ও বিদেশী ব্যাংকগুলোর কাছে। আমানতের এ টাকা থেকে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৯ লাখ ৫৫ হাজার ৮৫২ কোটি টাকার ঋণ ও বিনিয়োগ করেছে ব্যাংকগুলো। এর মধ্যে ৮ লাখ ৬২ হাজার ২২৪ কোটি টাকাই বিতরণ করা হয়েছে দেশের বেসরকারি খাতে। গত বছরের ডিসেম্বর শেষে দেশের ব্যাংকিং খাতে ঋণ বিতরণ করার মতো নগদ টাকা ছিল ৮৬ হাজার ৬৯৭ কোটি টাকা। এ টাকার সিংহভাগই ছিল রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংকের হাতে।

    সরকারি আমানতের ৫০ শতাংশ বেসরকারি ব্যাংকে রাখার প্রজ্ঞাপন জারি হলেও এখনো তা পাচ্ছেন না বলে জানান অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও ঢাকা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দ মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেন, আমরা সরকারি প্রতিষ্ঠানের আমানত পাচ্ছি না। ঋণের সুদহার কমানোর পূর্বশর্ত হলো কম সুদে আমানত পাওয়া। আমানতের সংকটের কারণে ছয় মাস ধরে ব্যাংকগুলো ৮-১০ শতাংশ সুদে এফডিআর করেছে। ফলে এখনই ঋণের সুদহার এক অংকে নামানো সম্ভব হচ্ছে না। সরকারি আমানত এসএনডি হিসাবে দেয়া হলে ব্যাংকের কস্ট অব ফান্ড কমে আসবে। এজন্য সরকারের কাছে আমরা দাবি করেছিলাম। কিন্তু এখনো সরকারি আমানতই আসা শুরু হয়নি। আগে সরকারি আমানত আমাদের কাছে আসুক, তারপর দেখা যাবে এটি এফডিআর হবে নাকি এসএনডি হবে?

    প্রসঙ্গত, গত ৩০ মার্চ গুলশানের জব্বার টাওয়ারে বিএবি কার্যালয়ে বেসরকারি ব্যাংক উদ্যোক্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকের পর অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সরকারি প্রতিষ্ঠানের আমানতের ৫০ শতাংশ বেসরকারি ব্যাংকে রাখার কথা জানান। এর দুদিন পর রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আবারো বিএবির নেতাদের সঙ্গে এক বৈঠকের পর অর্থমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকে বিধিবদ্ধ নগদ জমার হার (সিআরআর) সাড়ে ৬ শতাংশের পরিবর্তে সাড়ে ৫ শতাংশ হবে। একই বৈঠক থেকে রেপোর সুদহার ৬ দশমিক ৭৫ শতাংশের পরিবর্তে ৬ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত হয়। এসব সিদ্ধান্ত এরই মধ্যে বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। সুত্রঃ বণিক বার্তা

    আরও পড়ুনঃ 

    ব্যাংক আল-ফালাহ্ এর পাওনা পরিশোধে ব্যর্থ মোস্তফা গ্রুপ

    Print Friendly, PDF & Email