Home কর্পোরেট সংবাদ লোডশেডিংয়ের আগাম তথ্য গ্রাহকের সেলফোনে জানানোর উদ্যোগ

    লোডশেডিংয়ের আগাম তথ্য গ্রাহকের সেলফোনে জানানোর উদ্যোগ

    Staff reporter (s)

    Published: 10:49:37
    35
    0

    কর্পোরেট সংবাদ ডেস্কঃ গ্রীষ্ম মৌসুম শুরুর সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে লোডশেডিংয়ের শঙ্কা। তাই লোডশেডিংয়ের জন্য প্রস্তুতি নিতে গ্রাহককে আগাম তথ্য জানানোর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে নিজেদের গ্রাহকদের সেলফোনে এ তথ্য জানিয়ে দেয়ার কার্যক্রম শুরু করেছে ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো)। অন্য বিতরণ কোম্পানিকেও লোডশেডিংয়ের তথ্য সেলফোনের মাধ্যমে গ্রাহককে জানানোর উদ্যোগ নিতে নির্দেশ দিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

    জানা গেছে, লোডশেডিংয়ের আগাম তথ্য সেলফোনে এসএমএসের মাধ্যমে গ্রাহককে জানাতে বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া এসএমএস ও ই-মেইলে সব গ্রাহককে বিলের তথ্য জানানোর বিষয়েও নির্দেশ দেয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে। পর্যায়ক্রমে সব গ্রাহককে এ সেবার আওতায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে।

    ডেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. শাহিদ সারওয়ার জানান, লোডশেডিংয়ের তথ্য আগাম গ্রাহককে জানিয়ে দেয়া হচ্ছে। ফলে কখন লোডশেডিং হতে পারে, তা আগে থেকেই জানতে পারছেন গ্রাহক।

    বর্তমানে বিদ্যুেকন্দ্রগুলোর স্থাপিত ক্ষমতা ১৬ হাজার মেগাওয়াটের বেশি। কেন্দ্রের স্থায়িত্ব, উৎপাদিত বিদ্যুতের মান ও অন্যান্য বিষয় বিবেচনায় নিয়ে নির্ধারণ করা হয় বিদ্যুেকন্দ্রের প্রকৃত উৎপাদনক্ষমতা (ডিরেটেড ক্যাপাসিটি)। এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে গত ১৯ মার্চ। ওইদিন ১০ হাজার ৮৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছে বিদ্যুেকন্দ্রগুলো। এদিকে উৎপাদিত বিদ্যুতের প্রায় ৫ শতাংশ আবার বিদ্যুেকন্দ্র পরিচালনায় ব্যবহার হয়। এর বাইরে রয়েছে সঞ্চালন ও বিতরণ পর্যায়ের সিস্টেম লস। ফলে উৎপাদিত বিদ্যুতের পুরোটা গ্রাহক পর্যায়ে পৌঁছানো সম্ভব হয় না।

    খাতসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি এপ্রিল থেকে আগামী মে পর্যন্ত দেশে বিদ্যুতের চাহিদা দাঁড়াবে প্রায় ১৩ হাজার মেগাওয়াট। এর মধ্যে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) চাহিদা প্রায় সাত হাজার মেগাওয়াট, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) প্রায় দুই হাজার, পশ্চিমাঞ্চল বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানির (ওজোপাডিকো) ৭০০, নর্থ জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ৪০০, ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ডিপিডিসি) ১ হাজার ৭১৪ ও ঢাকা ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানির (ডেসকো) চাহিদা দাঁড়াবে এক হাজার মেগাওয়াট।

    চলতি গ্রীষ্মে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার আগেই ১ হাজার ৮০০ মেগাওয়াট তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের কার্যাদেশ দিয়েছে। এর মধ্যে মার্চে ৬০০ মেগাওয়াট ডিজেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তা এখনো হয়নি। আর জুনের মধ্যে প্রায় ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হওয়ার কথা। তবে এটি এখনো অনিশ্চিত। সব মিলিয়ে লোডশেডিংয়ের শঙ্কা ক্রমেই বাড়ছে। যদিও লোডশেডিংয়ের তথ্য নেই বিপিডিবির কাছে। সংস্থাটির দৈনিক উৎপাদন প্রতিবেদনে লোডশেডিং নেই বলে উল্লেখ করা হচ্ছে।

    বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্যমতে, বর্তমানে দেশের ৯০ শতাংশ জনগোষ্ঠী বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় রয়েছে। বিদ্যুতের গ্রাহক সংখ্যা ২ কোটি ৮২ লাখ।

    আরও পড়তে পারেনঃ 

    জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের হালখাতার অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত