Home আর্কাইভ আগামীকাল ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস

আগামীকাল ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস

মুজিবনগর দিবস
Staff Reporter

Published: 10:44:16
19
0

ডেস্ক রিপোর্ট: অবস্থিত মুজিবনগর বাংলাদেশের একটি ঐতিহাসিক স্থান। বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকারের রাজধানী ছিল এখানে। ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল এ সরকার গঠিত হয় এবং ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে। মুজিবনগর দিবস নিয়ে আরও বিস্তারিত জানাচ্ছেন আজহারুল ইসলাম অভি
১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা গ্রামে মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে বৈদ্যনাথতলা গ্রামের নামকরণ হয় মুজিবনগর। মুজিবনগর সরকারের কর্মকা- বাংলাদেশ ভূখ-ের বাইরে থেকে পরিচালিত হয়েছিল বলে এ সরকার প্রবাসী মুজিবনগর সরকার হিসেবেও খ্যাত।
মুজিবনগর দিবসের সারসংক্ষেপ : ২৫ মার্চের ভয়াবহ গণহত্যার সময় আওয়ামী লীগের অন্যতম প্রধান নেতা তাজউদ্দীন আহমদ নিজ বাসভবন ছেড়ে চলে যান। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তখন গ্রেপ্তার হয়ে পশ্চিম পাকিস্তানের হাতে বন্ধি। ৩০ মার্চ সন্ধ্যায় তাজউদ্দীন আহমদ ফরিদপুর-কুষ্টিয়া পথে পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তে পৌঁছান। ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে ৩১ মার্চ মেহেরপুর সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে পদার্পণ করেন।
গোলক মজুমদারের কাছে সংবাদ পেয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মহাপরিচালক কেএফ রুস্তামজী তাজউদ্দীন আহমদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করেন। মুক্তিফৌজ গঠনের ব্যাপারে তাজউদ্দীন আহমদ বিএসএফের সাহায্য চাইলে তৎকালীন বিএসএফপ্রধান তাকে বলেন এটি সময়সাপেক্ষ কাজ। এর পর কেএফ রুস্তামজী দিল্লির ঊর্ধ্বতন কর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাকে জানানো হয় তাজউদ্দীন আহমদ ও ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলামকে নিয়ে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে বৈঠকের উদ্দেশ্যে দিল্লি যাওয়ার জন্য।
ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি বাংলাদেশকে সর্বপ্রকার সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিলে তাজউদ্দীন আহমদ আওয়ামী লীগের এমএনএ ও এমপিএদের কুষ্টিয়া জেলার সীমান্তে অধিবেশন আহ্বান করেন। ওই অধিবেশনে সর্বসম্মতিক্রমে মুক্তিযুদ্ধ ও সরকার পরিচালনার জন্য মন্ত্রিপরিষদ গঠিত হয়। এই মন্ত্রিপরিষদ এবং এমএনএ ও এমপিএরা ১০ এপ্রিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি করে সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ঘোষণা করেন। সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপরাষ্ট্রপতি এবং বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করা হয় এবং তাজউদ্দীন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন ১১ এপ্রিল বাংলাদেশ বেতারে মন্ত্রিপরিষদ গঠনের ঘোষণা দিয়ে ভাষণ দেন। এর পর ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায় হাজার হাজার মানুষের সামনে মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নেন। দেশি-বিদেশি প্রায় ৫০ সাংবাদিকের সামনে বাংলাদেশের ঘোষণাপত্র পাঠ এবং মুক্তিবাহিনীর মার্চপাস্ট অনুষ্ঠিত হয়। সেদিন আম্রকানন লোকেলোকারণ্য হয়ে যায়। আনন্দ-আবেগে উদ্বেলিত শত শত কণ্ঠের ‘জয় বাংলা’, ‘জয় বঙ্গবন্ধু’, ‘বীর বাঙালি অস্ত্র ধরো, বাংলাদেশ স্বাধীন করো’, গগনবিদারী সেগানে সেগানে আম্রকাননের আকাশ-বাতাস প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। ওই অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী উভয়েই বক্তব্য পেশ করেন। প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ তার ভাষণে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণার প্রেক্ষাপট বর্ণনা করেন।
ভাষণের শেষাংশে তিনি বলেন, ‘বিশ্ববাসীর কাছে আমরা আমাদের বক্তব্য পেশ করলাম, বিশ্বের আর কোনো জাতি আমাদের চেয়ে স্বীকৃতির বেশি দাবিদার হতে পারে না। কেননা, আর কোনো জাতি আমাদের চাইতে কঠোরতর সংগ্রাম করেনি। অধিকতর ত্যাগ স্বীকার করেনি। জয় বাংলা।’ শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আবদুল মান্নান এমএনএ এবং স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন অধ্যাপক ইউসুফ আলী এমএনএ।

মুজিবনগরে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রথম সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামকে গার্ড অব প্রদান করেন তৎকালীন ঝিনাইদহ মহকুমার পুলিশ প্রশাসক (এসডিপিও) মাহবুব উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম। বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকারের রাজধানী মুজিবনগরের ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনা করে এখানে নির্মিত হয়েছে নানা স্থাপনা।

আরও পড়ুনঃ আজ সৌদি আরব ও যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে যাত্রা করবেন প্রধানমন্ত্রী

এসব স্থাপনার মধ্যে আছে
মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ : ১৯৭১-এর অস্থায়ী সরকারের শপথসহ মুক্তিযুদ্ধের নানা ঘটনাকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে ১৯৮৭ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিবনগরে উদ্বোধন করা হয় এ স্মৃতিসৌধ। নকশা করেন স্থপতি তানভীর করিম। বলা হয়ে থাকে মুজিবনগর কমপ্লেক্সের সবচেয়ে আকর্ষণীয় স্থাপনা এটি। সৌধের ২৩টি স্তম্ভ ১৯৪৮ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত ২৩ বছরের সংগ্রামের প্রতীক। ৩০ লাখ শহীদের স্মৃতিকে স্মরণীয় করে রাখতে সৌধে বসানো হয়েছে ৩০ লাখ পাথর।

নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধের প্রতীক স্মৃতিসৌধের বেদিতে আরোহণের নয়টি ধাপ।
মুজিবনগর আম্রকানন : এখানেই তৎকালীন বৈদ্যনাথতলা বর্তমান মুজিবনগরের আম্রকাননে ১৭ এপ্রিল সরকারের মন্ত্রিপরিষদ শপথ নিয়েছিল। মুজিবনগর স্মৃতিসৌধের সামনেই ঐতিহাসিক এ আম্রকানন। প্রায় ৪০ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত এ বাগানে সহস্রাধিক আমগাছ রয়েছে।

মুজিবনগর মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি কমপ্লেক্স
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী
রাজধানীর ঐতিহাসিক গুরুত্বকে স্মরণীয় করে রাখতে এখানে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে মুজিবনগর মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি কমপ্লেক্স। কমপ্লেক্সের বাইরে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ, মুজিবনগর সরকারের শপথগ্রহণ, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণ, রাজাকার-আলবদরদের সহায়তায় মুক্তিকামী বাঙালির ওপর পাকিস্তানি হানাদারদের নির্যাতনকে তুলে ধরতে নির্মিত হয়েছে নানা ভাস্কর্য। ঐতিহাসিক ছয় দফার রূপক হিসেবে তৈরি করা হয়েছে ছয় ধাপের গোলাপ বাগান। অস্থায়ী সরকারের শপথগ্রহণের জায়গায় নির্মাণ করা হয়েছে একটি স্মৃতিসৌধ। স্মৃতি কমপ্লেক্সের ভেতরে বাংলাদেশের মানচিত্রের মাঝে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের ১১ নম্বর সেক্টরের বিভিন্ন ঘটনাচিত্র। এ ছাড়া এখানে একটি গ্রন্থাগারও রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ নববর্ষ উদযাপনে বাঙালি কোনো বাধা মানে না: প্রধানমন্ত্রী

হিলি সীমান্তে নববর্ষের শুভেচ্ছা বিনিময়, বিজিবি-বিএসএফ