Home আর্কাইভ কমছে না ব্যাংক ঋণের সুদহার

কমছে না ব্যাংক ঋণের সুদহার

ব্যাংক ঋণের সুদহার
Staff Reporter

Published: 10:33:36
37
0

ডেস্ক রিপোর্ট: ঋণের সুদহার কমানোর উদ্দেশ্যে তহবিল জোগাতে বেসরকারি ব্যাংকগুলোকে নীতিগত ছাড় গতকাল থেকে কার্যকর হয়েছে। নগদ জমা সংরক্ষণ (সিআরআর) ১ শতাংশ কমানোর ফলে ১০ হাজার কোটি টাকা পাবে ব্যাংকগুলো। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে আগের তুলনায় দশমিক ৭৫ শতাংশ সুদে তহবিল নিতে পারবে। সীমার বাইরে চলে যাওয়া ঋণ নির্দিষ্ট সীমায় আনার সময়ও মার্চ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
কিন্তু ঋণের সুদহার কমাতে আরও ৩ থেকে ৬ মাস সময় লাগবে বলে জানান ব্যাংকের এমডিদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) সাবেক প্রেসিডেন্ট ও মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এমডি আনিস এ খান।
আগ্রাসী ঋণ বিতরণ করে অর্থ শেষ করে ফেলেছে বেসরকারি ব্যাংকগুলো। এতে আমানতের সুদহার বেড়ে যাওয়ায় ঋণের সুদ হারও বেড়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুদহার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনতে দুই দফা নির্দেশ দিয়েছেন। এর আগে সংকট মোকাবিলায় ব্যাংক মালিকদের সব দাবিও মেনে নেওয়া হয়। মালিকদের দাবি অনুযায়ী সরকারি আমানতের ৫০ শতাংশ পাচ্ছে বেসরকারি ব্যাংকগুলো। এ ছাড়া সিআরআর কমানো, এডিআর সমন্বয় সীমা বাড়ানো, রেপো রেট কমানোর সিদ্ধান্ত মেনে তা কার্যকর করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক কয়েক দিন আগে পৃথক সার্কুলার জারি করে সিআরআর ও রেপো রেট কমায়, যা ১৫ এপ্রিল থেকে কার্যকর হয়েছে। এ ছাড়া সরকারি আমানত পাওয়ার সিদ্ধান্ত আগেই বাস্তবায়ন হয়েছে।
গতকাল মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক (এমটিবি) টাওয়ারের স্যামসন এইচ চৌধুরী অডিটোরিয়ামে এমটিবি স্টুডেন্ট ব্যাংকিং স্কিম উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আনিস এ খান বলেন, ৬ মাসের আগে ব্যাংক ঋণের সুদহার কমবে না। কারণ ব্যাংকগুলো বিনিয়োগ করে ফেলেছে। এসব অর্থ আসতে ৩ থেকে ৬ মাস লেগে যাবে। তা ছাড়া ব্যাংকগুলো এক বছরের জন্য আমানতে সুদ চূড়ান্ত করে ফেলে। তাই কথার সঙ্গে সঙ্গে সুদহার নেমে আসবে না। তবে ৯ থেকে ১১ শতাংশ হারে আমানত নিয়ে আমাদের ১৫-১৬ শতাংশ সুদে বিনিয়োগ করতে হচ্ছে। এর কমে কোনোভাবে সম্ভব নয়। তবে এত উচ্চ সুদে অর্থ নিয়ে কোনো ব্যবসায়ী ব্যবসা করতে পারবেন না।
আনিস এ খান বলেন, সরকারি আমানত বেসরকারি ব্যাংকগুলোয় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে এটিও শিগগিরই আসবে না। কারণ সরকারি আমানত তো আর নগদ অর্থে নেই। তাই চাইলে এসব আমানত আমরা পাব না। তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাতে সুদহার নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছে। এর অন্যতম একটি কারণ সঞ্চয়পত্র। তা ছাড়া বিভিন্ন কারণে সরকারি ব্যাংকগুলোর কাছে আমানত বেশি। সঞ্চয়পত্রের সুদের হার সাড়ে ১০ শতাংশের বেশি। ফলে মানুষ ৫-৬ শতাংশ হার সুদে ব্যাংকে টাকা রাখছে না। বেড়ে গেছে সঞ্চয়পত্র বিক্রি।

তিনি বলেন, সঞ্চয়পত্র বন্ধ করে দেওয়া উচিত। এর সুবিধা মানুষকে বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচির মাধ্যমে দেওয়া যেতে পারে। তার অবকাঠামো আমাদের রয়েছে। এটি করলে ব্যাংকিং খাতে সমস্যা তৈরি হতো না। আনিস এ খান বলেন, সরকারি ব্যাংক সারাদেশে জনগণের সেবা দিলেও চুক্তির কারণে অর্থায়ন করতে পারে না। বাংলাদেশে ডিপোজিটের কোনো অভাব নেই। বিতরণে সমস্যা রয়েছে। বেশিরভাগ টাকা রয়েছে সরকারি ব্যাংকে। ছয় মাস, এক বছর, দুই বছর বা তারও বেশি মেয়াদেও ফিক্সড ডিপোজিটের অর্থ আছে সরকারি ব্যাংকে। এগুলোর মেয়াদ শেষ হলে কোন ব্যাংকে রাখবে, তারা সিদ্ধান্ত নেবে।

আরও পড়ুনঃ ডি-মানি বাংলাদেশ ও আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক এর মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত

আনিস এ খান বলেন, ব্যাংকগুলোর মধ্যে স্পেশাল স্কিম থাকবে, যাতে টাকা দীর্ঘদিন ব্যাংকের কাছে থাকে। গ্রাহক নিয়মিতভাবে জমা করলে প্রথম বছর ৫ শতাংশ সুদ পেলে দ্বিতীয় বছর ৬ শতাংশ পাবে। এভাবে প্রতিবছর বাড়তি ইন্টারেস্ট রেট পাবে। আমাদের দীর্ঘমেয়াদি টাকা নেই। বিদেশি ব্যাংকগুলোয় ইন্টারব্যাংক অফাররেট আছে। লাইবর-১, লাইবর-২ প্রাইসিং করে কনস্ট্রাকশনে বেশি, মাল্টিন্যাশনালে কম ৫ বছর মেয়াদে টাকা দিলে তা নির্দিষ্ট সময়ে পাওয়া যাচ্ছে। বাংলাদেশে তো এই নিশ্চয়তা নেই। বাংলাদেশে টোটাল মিস ম্যানেজমেন্ট, টাকা যথেষ্ট নেই। ১০ বছর মেয়াদি সঞ্চয় স্কিম না হলে টাকা ম্যানেজ করা যাবে না।

গতকাল আনুষ্ঠানিকভাবে শিশু থেকে বিশ^বিদ্যালয় পড়–য়াদের জন্য স্টুডেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু করেছে এমটিবি। এর আওতায় জুনিয়র, গ্র্যাজুয়েট, এডুকেশন ডিপোজিট স্কিম, এডুকেশন প্ল্যান, এডু ফাইন্যান্স এবং স্টুডেন্ট ফাইল সার্ভিস সেবা পাওয়া যাবে। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে ব্যাংকটির অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. হাসেম চৌধুরী, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ রফিকুল হকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুনঃ এনআরবিসি ব্যাংক’ এ ট্রেড বেইজড মানি লন্ডারিং বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

গোপালগঞ্জের মুকসুদপরে মধুমতি ব্যাংকের ৩০তম শাখা উদ্বোধন