Home শিরোনাম মংলা বন্দরে হারবাড়িয়া এলাকায় কয়লা বোঝাই কার্গো ডুবি

    মংলা বন্দরে হারবাড়িয়া এলাকায় কয়লা বোঝাই কার্গো ডুবি

    কয়লা বোঝাই কার্গো ডুবি
    Staff reporter (s)

    Published: 19:59:15
    46
    0

    মাসুদ রানা,মংলা প্রতিনিধিঃ মংলা বন্দরের হাড়বাড়িয়া এলাকায় কয়লা বোঝাই একটি কার্গো জাহাজ ডুবে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। রোববার রাত পোনে ৪টার দিকে ডুবোচরে আটকেগিয়ে তলাফেটে ৭শ ৭৫ মেঃ টন ধারন ক্ষমতা এমভি বিলাস নামের কার্গো জাহাজটি সম্পুর্ন ডুবে যায়। তবে এ ঘটনায় কোন নাবিক বা কেউ হতাহত হয়নি বলে জানান বন্দর কর্তৃপক্ষ। মালিক পক্ষ থেকে ডুবান্ত কার্গো জাহাজটি উদ্ধারের জন্য রাতে চেষ্টা করে ব্যার্থ হয়ে সার্ভে কাজ শুরু করেছে। তবে পশুর নদীতে জোয়ারের ভরাঘোন হওয়ায় ডুবন্ত জাহাজটি নদীর তলদেশে বালু ভরাট হয়ে তলীয়ে যাচ্ছে। এটিকে দ্রুত উত্তলন করতে না পারলে এক সময় বন্দরের চ্যানেল দিয়ে দেশী-বিদেশী বানিজ্যিক জাহাজ আগামন নির্গমন করতে বাধার সুষ্টি করবে। তবে কোষ্টগার্ড ও বন্দরের উদ্ধারকারী জাহাজ গিয়েও উদ্ধারে ব্যার্থ হয়েছে।

    মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার বিভাগ জানায়, বন্দরের পশুর চ্যানেলের হাড়বাড়িয়ার ৯ নম্বর অ্যাঙ্করেজে বয়া এলাকায় কয়লা নিয়ে ইন্দোনেশিয়া পতাকাবাহী বিদেশী বানিজ্যিক মাদারভেসেল ১৩ এপ্রিল মংলা বন্দরে হারবাড়িয়া এলাকায় আসে। এটি ৬নং বয়ার লঙ্গর করে ১৪ এপ্রিল সকালে ইন্দোনেশিয়ার জাহাজ অফজারবেটর থেকে এমভি বিলাস নামের একটি কার্গো জাহাজ কয়লা বোঝাই করে। কার্গোটি বোঝাই হওয়ার পর বিদেশী ওই জাহাজ থেকে শনিবার রাত ৯টার দিকে ছেড়ে কিনারায় সুন্দরবনের দক্ষিন পাশে পৌছায়। এসময় বানিজ্যিক জাহাজের পাশে অন্য বেশ কয়েকটি কার্গো জাহাজে কয়লা বোঝাই করছিল। ৭শ ৭৫ মোট্রক টন কয়লা বোঝাই কার্গো জাহাজটিকে নিয়ে রোববার ভোররাতে কার্গোর মাস্টার ঢাকার মিরপুরের উদোশ্যে রওয়ানা হয়। কার্গোটি কিছুদুর আসলে পথি মধ্যে জাহাজটি ডুবোচরে আটকে যায়। মাষ্টার পুনরায় কিনারে আসার জন্য দ্রুত চালিয়ে মূল চ্যানেলের বাইরে চরের দিকে চালাতে থাকেন। কিন্ত কার্গো জাহাজটিকে চর থেকে নামাতে না পেরে জাহাজটির তলাফেটে পুরোপুরি পশুর নদীতে ডুবে যায়। কার্গোতে থাকা ৯ নাবিকদের আত্বচিৎকারে ওখানে থাকা অন্যান্য কার্গো জাহাজের লোকজন ও নদীতে মাছধরতে থাকা জেলেরা নাবিকদের অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে।

    হারবার বিভাগে দায়িত্বে থাকা অপারেটর মোঃ জামাল উদ্দিন জানান, এ ঘটনায় জাহাজটির কোনো নাবিক নিখোঁজ বা কেউ হতাহতের খবর পাওয়া যায়নী। কার্গো জাহাজে থাকা ৯ নাবিক সবাই নিরাপদে রয়েছে। নৌ-পরিবহন মালিক গ্রুপের মহাসচিব ওযাহিদুজ্জামান খান পল্টু জানান,কার্গো জাহাজটি ডোবার সাথে সাথে আমাদের ও মেরিন সার্ভিসের পক্ষ থেকে ওখানে লোক পাঠানো হয়েছে জাহাজটি উদ্ধার করার জন্য। বন্দরের কাছেও সাহায্য চাওয়া হয়েছে। এখন সার্ভে কাজ চলছে, যাতে এটাকে দ্রুত উত্তলন করা যায় সে ব্যাপারেও চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে কার্গোটি ডুবির সাথে সাথে বন্দরের উদ্ধারকারী জাহাজ এমভি সিপশা জাহাজকে রাতে পাঠানো হয়েছিল কিন্ত তাতেও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নী।

    আরও পড়ুনঃ  চট্টগ্রামে ৪৫টি কারখানা নির্মাণ করবে কোরিয়ান ইপিজেড

    বাংলাদেশ জাহাজী শ্রমিক সংঘের সভাপতি মোঃ দুলাল হোসেন জানায়,বন্দরের হারবাড়িয়া এলাকায় কার্গোডুবির ব্যাপারে রাতে দুর্ঘটনা সোনার সাথে সাথে কোষ্টগার্ডডের কাছে সাহায্য চাওয়া হয়েছে, তারা রাতেই দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ডুবোচর থেকে জাহাজটি নামানোর চেষ্টা করছে কিন্ত উদ্ধার করতে ব্যার্থ হয়েছে। তার পরে বন্দরের কাছে সাহায্য চাওয়া হয়েছে। কার্গোতে বোঝাই করা কয়লা ঢাকার মীরপুরের উদ্দেশ্যে যাওয়ার কথা ছিল বলেও জানিয়েছেন কার্গো জাহাজের ড্রাইভার আনিছুল হক। তিনি আরো জানান, কার্গো জাহাজটি মূল চ্যানেলের বাইরে ডুবেছে। ফলে বন্দরের চ্যানেল ঝুঁকিমুক্ত, সচল ও নিরাপদ রয়েছে, জাহাজ চলাচলে কোন সমস্যা হচ্ছেনা। ভাটার সময় জাহাজটির মাষ্টার ব্রিজের আশিংক দেখা গেলেও জোয়ারের সময় জাহাজটি পুরোপুরি তলিয়ে থাকছে। কার্গোডুবির ঘটনায় জাহাজের মাষ্টার মোঃ ফরিদি মিয়া বাদি হয়ে মংলা থানায় একটি সাধারন ডায়রী করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে কার্গো জাহাজের ড্রাইভার আনিছুল হক।

    বাংলাদেশ নৌ-যান শ্রমিক ফেডারেশনের সহ-সভাপতি বাহারুল ইসলাম বাহার জানান, বিদেশী একটি জাহাজ থেকে ছেড়ে আসা কয়লা বোঝাই কার্গো এমভি বিলাস ডুবে যায়, তবে জাহাজে থাকা ৯ নাবিক সবাই নিরাপদে আছে। নৌপরিবহন মালিক গ্রুপ,নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন ও কার্গো মালিকসহ একটি দল ঘর্টনাস্থল পরিদর্শন করারও প্রস্তুতি চলঠে। সাথে সাথে সার্বেরও কাজও চালানো হচ্ছে,কার্গোটি যাতে দ্রুত উত্তলন করা যায় সেব্যাপারে সবাই এক যোগে কাজ করবে বলে জানান তিনি। তবে কি পরিমান ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা এখনও নির্ধারন করা সম্ভব হয়নী বলে জানান মালিকের পক্ষ থেকে মোঃ বাহারুল ইসলাম।

    মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাষ্টার কমান্ডার এম অলিউল্লাহ জানান,বন্দরের হারবাড়িয়া এলাকায় বিদেশী জাহাজ থেকে ছেড়ে আসা কার্গো জাহাজটি ডুবির জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানসহ একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হবে। মালিকপক্ষকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এটিকে দ্রুত উত্তলনের জন্য সংশ্লিষ্টদের জোর তাগিদ দেয়া হয়েছে। যদি এতে ব্যার্থ হয় তবে বন্দর কর্তৃপক্ষ এটিকে নিজেস্ব সম্পদ হিসেবে পরবর্তি ব্যাবস্থা গ্রহন করবে বলেও জানান হারবার মাস্টার কমান্ডার এম ওলিউল্লহ।

    এদিকে সুন্দরবনে আবারো কয়লা বোঝাই কার্গো জাহাজ ডুবির ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে সেভ দ্যা সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, কয়লার জাহাজ ডুবিতে সুন্দরবনের জলজ-প্রাণীজ ও জীববৈচিত্রের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হবে। কারণ এ কয়লা সাধারণত ইটভাটাগুলোতে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এ কয়লায় সালফারের পরিমাণ বেশি থাকায় এটি পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ক্ষতি করে থাকে। এছাড়া রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু হলে সুন্দরবনে এ ধরণের দুর্ঘটনা ক্রমশই বৃদ্ধি পাবে। তাই সুন্দরবনের সুরক্ষায় এখনই সরকারকে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ অবস্থান থেকে সরে আসতে হবে।

    আরও পড়তে পারেনঃ 

    জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের হালখাতার অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত