Home কর্পোরেট লীড নিউজ হস্ত ও কারুশিল্পের উন্নয়নে বিসিকের হাজার কোটি টাকার প্রকল্প

হস্ত ও কারুশিল্পের উন্নয়নে বিসিকের হাজার কোটি টাকার প্রকল্প

হাজার কোটি টাকার প্রকল্প
Corporate Sangbad Sub Editor

Published: 12:02:02
26
0

নিজস্ব প্রতিবেদক:
হাজার বছর ধরে বাঙালি জাতি গ্রাম-গঞ্জে বাংলা নববর্ষ আয়োজন করে আসছে। তবে শহরে এ ধরণের আয়োজন সাম্প্রতিক কালের। বিসিক এ আয়োজনের পথিকৃৎ। মেলাকে ঘিরে জাতি, ধর্ম ও বর্ণ কিংবা ধনী-গরিব নির্বিশেষে সকল মানুষের মধ্যে এক ধরনের সম্মিলন ও ঐক্য গড়ে ওঠেছে। একত্রিত হচ্ছে লাখো বাঙালির মিছিল। এটি আমাদের প্রাণের উৎসব। পৃথিবীতে এ ধরনের সার্বজনীন মিলন মেলার অনুষ্ঠান খুঁজে পাওয়া কঠিন।

এ উৎসব সার্বজনীনভাবে উদ্যাপনের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় ইতোমধ্যে সরকারি চাকুরিজীবিদের জন্য মূল বেতনের ২০% বৈশাখী ভাতা দেয়া হচ্ছে। ফলে বৈশাখী উৎসব নতুন মাত্রা পেয়েছে। মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে শিল্প পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। যে কারণে শিল্প পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে। যা জিপিডিতে শিল্প খাতের অবদান বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে অচিরেই জিডিপিতে শিল্প খাতের অবদান ৪০ শতাংশে পৌঁছবে।

জাতির পিতার সুযোগ্য কন্যা, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তর করার জন্য দ্রুত শিল্পায়নের মাধ্যমে ‘রূপকল্প ২০২১’ বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে। আনন্দের বিষয় সম্প্রতি জাতিসংঘ বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের যোগ্যতা অর্জনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। বাংলাদেশ এখন বিশ্বে মর্যাদাশীল দেশ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।

বাংলা নববর্ষ উদ্যাপন উপলক্ষ্যে গতকাল (১ বৈশাখ ১৪২৫/ ১৪ এপ্রিল ২০১৮) বাংলা একাডেমী প্রাঙ্গণে বিসিক ও বাংলা একাডেমী যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত বৈশাখী মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু।

এসময় বাণিজ্য মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে আমাদের মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৭৫২ মার্কিন ডলার। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। প্রবৃদ্ধির হার ৭.৬৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। এ ধারাকে অব্যাহত রাখতে বিসিকে কর্মরত দক্ষ জনবলকে তাদের কর্মতৎপরতা বৃদ্ধি করতে হবে। বর্তমানে বিসিক ১ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে হস্ত ও কারুশিল্পের উন্নয়নে নতুন প্রকল্প গ্রহণ করছে। 

বিসিক চেয়ারম্যান মুশতাক হাসান মুহঃ ইফতিখার-এর সভাপতিত্বে উক্ত অনুষ্ঠানে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এনামুল হক ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ নাসির উদ্দিন আহমেদ বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান।

শিল্পমন্ত্রী ১৪২৪ সালের শ্রেষ্ঠ কারুশিল্পী হিসেবে (কাঁঠশিল্পে) মোঃ জাকির হোসেন, রংপুর-এর হাতে ‘কারুরত্ন’ সনদ, নগদ ৫০ হাজার টাকা, একটি ক্রেস্ট ও অভিজ্ঞানপত্র এবং দক্ষ কারুশিল্পী হিসেবে ১) আরিফুজ্জামান, পাটশিল্পে (শতরঞ্চি), রংপুর ; ২) শ্রী সুশান্ত কুমার পাল (মৃৎ শিল্পে), রাজশাহী; ৩) মোঃ সাকিব ইসলাম (ধাতব শিল্পে), ঢাকা; ৪) আবুল খায়ের (তাঁত বস্ত্র), নারায়ণগঞ্জ; ৫) পিন্টু চন্দ্র দেব (কাঠ শিল্পে), ঢাকা; ৬) সুচিত্রা রানী (সূচী শিল্পে), নারায়ণগঞ্জ; ৭) রত্না আক্তার (পুতুল), ঢাকা; ৮) সবিতা রাণী মুদী বেত শিল্প (শীতল পাটি) ও ৯) রেহানা পারভীন (ক্ষুদ্র-নৃ গোষ্ঠী), সিলেট-এদের হাতে পুরুস্কার হিসেবে ‘কারুগৌরব’ সনদ, নগদ ৩০ হাজার টাকা, ক্রেস্ট ও অভিজ্ঞানপত্র তুলে দেন। মন্ত্রী দেশের হস্ত ও কারুশিল্পের উন্নয়নে বিসিককে আগামী এক মাসের মধ্যে ১ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের একটি প্রকল্প প্রনয়ণ করে শিল্প মন্ত্রনালয়ে প্রেরণের নির্দেশ দেন। এতে দেশের হস্ত ও কারুশিল্পের প্রসার এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কারুশিল্পীরা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বিশেষ অতিথি শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব তার বক্তব্যে বলেন, বাঙালির আর্থ-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনে বাংলা নববর্ষ সুদীর্ঘকাল থেকে এক বিশাল স্থান দখল করে আছে। মেলা আমাদের সুপ্রাচীন ঐতিহ্যের বাহক। মেলার সাথে জড়িয়ে আছে আমাদের আর্থ-সাজাজিক ও সাংস্কৃতির নানাদিক। দেশের বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত বৈশাখী মেলা বাংলা নববর্ষ উদযাপননের অন্যতম আকর্ষণ। বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) ও বাংলা একাডেমির যৌথ উদ্যোগে বৈখাখী মেলা ১৪২৫-এর আয়োজন নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবী রাখে।

সংস্কৃতি সচিব তাঁর বক্তব্যে বাংলা নববর্ষ উদযাপনকে বাঙালি সাংস্কৃতির ঐতিহ্য বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন বর্ষবরণের এ উৎসব ইতোমধ্যে বাঙালির প্রাণের উৎসবে পরিণত হয়েছে। বিসিক চেয়ারম্যান বলেন, শিল্পায়নসহ সকল ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সামনের দিকে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। এরই ফলে উন্নয়নশীল দেশে পদার্পণ করেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)-এর দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনবল তাদের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে দেশে শিল্পায়নের মাধ্যমে বিপুল জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উৎপাদন ও আয় বৃদ্ধি এবং দারিদ্র্য বিমোচনে সক্ষম হবে। বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক তাঁর বক্তব্যে বলেন দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য বিকাশমান সাংস্কৃতিক অগ্রগতির ধারাকে অব্যাহত রাখতে হবে। আমাদের নিজস্ব স্বকীয়তা বজায় রেখে শিল্প বিকাশের কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে।

মেলায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের হস্ত, কারুশিল্পী ও উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত পণ্য সামগ্রীর প্রায় ২০০টি স্টল স্থান পেয়েছে। এ মেলায় ১০টি স্টলে কারুশিল্পীগণ তাদের বিভিন্ন পণ্য মেলার মাঠে তৈরি করে তা প্রদর্শন ও বিক্রি করছেন। মেলা উপলক্ষে প্রতিদিন সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা রয়েছে। এতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী লোকসঙ্গীতসহ অন্যান্য গান পরিবেশিত হবে। শিল্পমন্ত্রী ফিতা কেটে মেলার উদ্ভোধন করেন। পরে তিনি মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন। এ সময় শিল্প সচিব, সংস্কৃতি সচিব, বিসিক চেয়ারম্যান, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক, শিল্প মন্ত্রণালয়, বিসিক ও বাংলা একাডেমির উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ তাঁর সাথে ছিলেন। আগামী ১০ বৈশাখ (২৩ এপ্রিল ২০১৮) পর্যন্ত মেলা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সর্বসাধারণের জন্য উম্মুক্ত থাকবে।

আরও পড়তে পারেন: চট্টগ্রামে বলীখেলায় অংশ নিলেন দুই ফরাসী