Home bd news স্থানীয় উৎপাদনে করের হার কমানোর আশ্বাস দিয়েছেন এনবিআর

স্থানীয় উৎপাদনে করের হার কমানোর আশ্বাস দিয়েছেন এনবিআর

NBR-Farid
Staff Reporter

Published: 12:10:04
16
0

শিল্প-বাণিজ্য ডেস্ক: বর্তমানে বেভারেজ খাতে স্থানীয় পর্যায়ে ১৫ শতাংশ ভ্যাটের পাশাপাশি ২৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আদায় করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে এ শিল্পে স্থানীয় পর্যায়ে করের পরিমাণ ৪৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ, যা অনেক বেশি। এ খাতে দেশীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠা ও রফতানিকে উৎসাহ দিতে করের হার কমানোর আশ্বাস দিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে কোকা-কোলার আয়োজনে ‘কোমল পানীয় খাতে সম্পূরক শুল্ক ও ভ্যাট: অর্থনীতিতে অবদান’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে স্থানীয় উৎপাদনে সম্পূরক শুল্কহার ২৫ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ নির্ধারণের জন্য বাংলাদেশ বেভারেজ ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিবিএমএ) দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তিনি এ আশ্বাস দেন। অনুষ্ঠানে এনবিআর চেয়ারম্যান বেভারেজ শিল্পের বিকাশে সংগঠনটির নানা দাবি বিবেচনার আশ্বাসও দিয়েছেন। এ সময় এনবিআরের সদস্য (ভ্যাটনীতি) রেজাউল হাসান, বিবিএমএর সভাপতি হারুনুর রশীদ, কোকা-কোলা বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাদাব খানসহ বিভিন্ন বেভারেজ কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনায় বিবিএমএর সভাপতি হারুনুর রশীদ বলেন, গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের বেভারেজ খাত বিকশিত হয়ে খাদ্যসামগ্রী উৎপাদনকারীদের মাঝে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছে। চাহিদা, মান, সরবরাহ, অর্থিক লেনদেন, রাজস্ব প্রদানসহ সব দিক থেকেই খাতটি গুরুত্বপূর্ণ। দেশে বেভারেজ খাতে বছরে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য হয়। দেশের বাজারে বেভারেজ খাতের একটি বড় ভোক্তাশ্রেণী তৈরি হলেও গত বছর থেকে বাণিজ্য নিম্নমুখী। এরই মধ্যে এ খাতে অভ্যন্তরীণ করের বোঝা বেড়েছে ব্যাপক হারে। গত আট-নয় বছরে এ খাতে দেশী ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলো মিলে ৪ হাজার ৩৬৬ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ করেছে। কিন্তু করের ভার বেশি হওয়ায় তাদের উৎপাদন সক্ষমতার পুরোটা কাজে লাগানো যাচ্ছে না। ফলে কোম্পানিগুলো পরবর্তী বিনিয়োগেও যেতে পারছে না।
বেভারেজ শিল্পের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে তিনি আরো বলেন, বিগত বছরগুলোয় স্থানীয় পর্যায়ে বেভারেজ শিল্পে সম্পূরক শুল্কহার একাধিকবার বাড়ানোর কারণে প্রাথমিকভাবে রাজস্ব আহরণ বেড়েছে ঠিকই। কিন্তু গত অর্থবছর ও চলতি অর্থবছর এ খাতে প্রবৃদ্ধি সামান্যই। গত অর্থবছর (২০১৬-১৭) বেভারেজ খাত থেকে উৎপাদন পর্যায়ে সম্পূরক শুল্ক ও ভ্যাটসহ সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে ৭৯৮ কোটি ৪৮ লাখ টাকার রাজস্ব। চলতি অর্থবছরের (২০১৭-১৮) ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এ খাতে আহরিত রাজস্বের পরিমাণ ৮১ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। বিদ্যমান করনীতির কারণে বেভারেজ শিল্পে এ নেতিবাচক প্রভাব লক্ষ করা যাচ্ছে বলে জানিয়েছে বিবিএমএ। সংগঠনটি মনে করছে, সম্পূরক শুল্কহার কয়েক দফায় বাড়ানো না হলে এ খাতে বিনিয়োগ বাড়ত ও শিল্পের টেকসই বিকাশ ঘটত।

বিবিএমএ জানিয়েছে, বাংলাদেশের অধিকাংশ ভোক্তার কাছেই সাধারণ খাদ্যসামগ্রীর তুলনায় কোমল পানীয়র দাম বেশি। সাধারণ মানুষের পক্ষে এসব পানীয় কেনা কষ্টসাধ্য। এর অন্যতম কারণ হলো স্থানীয় পর্যায়ে সম্পূরক শুল্ক ও ভ্যাট বাবদ ৪৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ কর আদায়। অথচ প্রতিবেশী দেশগুলোয় এ শিল্পে স্থানীয় পর্যায়ে করের হার তুলনামূলকভাবে বেশ কম। ভারতে এ হার ৩৫ দশমিক ৩ শতাংশ, শ্রীলংকায় ২৯ দশমিক ২, নেপালে ২৪ দশমিক ২ ও ভুটানে ৩০ শতাংশ।

আরও পড়ুনঃ টানা চার মাস বন্ধ সামিট মেঘনাঘাট বিদ্যুৎকেন্দ্র

আইসক্রিম, কেক, চকলেট, লজেন্স, বিস্কুট, মিষ্টি, দই ইত্যাদির ক্ষেত্রে স্থানীয় পর্যায়ে কোনো সম্পূরক শুল্ক আরোপ নেই উল্লেখ করে বিবিএমএ বলেছে, এটাই স্বাভাবিক ও যৌক্তিক সিদ্ধান্ত। একই ধরনের খাদ্যদ্রব্য হওয়ায় কোমল পানীয়র ওপর সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা, অন্তত বেশি হারে আরোপ করা কোনোমতেই যুক্তিসঙ্গত নয়। ভ্যাট আইনের ৭ নম্বর ধারায় উল্লিখিত নীতিমালার আলোকে কোমলপানীয় কোনো বিলাসপণ্য বা সামাজিকভাবে অনভিপ্রেতকর নয়। এর ওপর আরোপিত সম্পূরক শুল্ক বাতিল করা বা কমানো হলে জনস্বার্থও বিঘ্নিত হবে না বলে বিবিএমএর দাবি।

সংগঠনটি বলছে, কাঁচামাল সংগ্রহ ও উৎপাদন ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতি এবং জনবল নিয়োগে ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের কারণে বেভারেজ একটি অলাভজনক খাতে পরিণত হতে যাচ্ছে। এ কারণে আগামী অর্থবছরের (২০১৮-১৯) বাজেটে স্থানীয় পর্যায়ে কোমল পানীয়র সম্পূরক শুল্কহার ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০১৪ সালের ২২ এপ্রিলের আগে আরোপিত হার অর্থাৎ ১৫ শতাংশ নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে বিবিএমএ। এমনটি হলে এ খাতে স্থায়ীভাবে শিল্পের বিকাশ ঘটবে, শিল্পের ভিত মজবুত হবে, আমদানি-নির্ভরতা কমে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে, বিপুল কর্মসংস্থান তৈরি হবে ও সরকারের রাজস্ব উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়ে যাবে বলে মনে করছে বিবিএমএ। সূত্র: বণিক বার্তা

আরও পড়ুনঃ চট্টগ্রামে ৪৫টি কারখানা নির্মাণ করবে কোরিয়ান ইপিজেড

দেশের পাটকল বন্ধ হওয়ার শঙ্কায়