Home bd news বিপিসির পেট্রোলিয়াম পণ্যের ৯০% নৌপথে পরিবহন

বিপিসির পেট্রোলিয়াম পণ্যের ৯০% নৌপথে পরিবহন

বিপিসি
Senior Staff Reporter (SM)

Published: 11:02:13
97
0

image_pdfimage_print
শেয়ারবাজার ডেস্ক: দেশের কৃষি উৎপাদন, শিল্প প্রক্রিয়া, বিদ্যুৎ উৎপাদন, পরিবহন এবং গৃহস্থালি ও অন্যান্য কাজে জ্বালানি চাহিদার জোগান নিশ্চিত করে বিপিসি। আর এ জ্বালানি পরিবহনে নদীপথের ব্যবহার ৯০ শতাংশ। বাকি জ্বালানির মধ্যে আট শতাংশ রেলপথ ও দুই শতাংশ সড়কনির্ভরতা। তবে নদীপথে সময়নির্ভরতা ও নাব্যসংকটসহ বেশ কিছু কারণে অনেক সময় তেল পরিবহনে জটিলতা দেখা দেয়। আর এজন্য ১১টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বিপিসি।
বিপিসির মতে, ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন দেশের সার্বিক জ্বালানি চাহিদা পূরণে মুখ্য ভূমিকা পালন করে। দেশের কৃষি উৎপাদন, শিল্প প্রক্রিয়া, বিদ্যুৎ উৎপাদন, পরিবহন, গৃহস্থালি কাজ ও অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে বর্তমানে বিপিসির ১৩ ধরনের বিপণনকৃত জ্বালানির মধ্যে আছে পেট্রল, কোরোসিন, ফার্নেস অয়েল, জেবিও, লুব অয়েল, এসবিপি, এমবিপি, এলপিজি, বিটুমিন, ডিজেল, জেট এ ১, অকটেন এবং এলডিও। আর এসব জ্বালানি পরিবহনের ক্ষেত্রে ৯০ শতাংশ হয় নদীপথে। এজন্য তিনটি তেল বিপণন কোম্পানির বহরের ভাড়ায় নিয়োজিত আছে ৯৫টি কোস্টাল ট্যাংকার, আটটি শ্যালো ড্রাফট ট্যাংকার, ৭৩টি বে-ক্রসিং শ্যালো ড্রাফট ট্যাংকার এবং ২৩টি মিনি অয়েল ট্যাংকার। এছাড়া বাকি ১০ শতাংশের মধ্যে আট শতাংশ রেলপথ এবং দুই শতাংশ সড়কপথে প্রয়োজনীয় স্থানে সরবরাহ করা হয়।
বিপণন বিভাগ সূত্রে, সমাপ্ত ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের মোট জ্বালানি পণ্যের বিক্রি ছিল ৫৮ লাখ ৮৮ হাজার ৭৩০ মেট্রিক টন, যা আগের অর্থবছরে ছিল ৫২ লাখ ৫৬ হাজার ২০ মেট্রিক টন। অর্থাৎ আগের বছরের তুলনায় দেশে জ্বালানি পণ্যের বিক্রি বৃদ্ধি পায় ছয় লাখ ৩২ হাজার ৭১০ মেট্রিক টন। শতাংশ হিসেবে এ বিক্রয় প্রবৃদ্ধি ১০ দশমিক ৭৪। আর ২০১৬-১৭ অর্থবছরের মোট জ্বালানি পণ্য বিক্রির মধ্যে ছিল অকটেন এক লাখ ৮৬ হাজার ৯১১ মেট্রিক টন, পেট্রল দুই লাখ ৩২ হাজার ৩৫৯ টন, ডিজেল চার লাখ ৪৪ টন, কেরোসিন এক লাখ ৭০ হাজার ৯৯৩ টন, জেট ফুয়েল তিন লাখ ৭৬ হাজার ৭০০ টন, ফার্নেস অয়েল আট লাখ ছয় হাজার ৪৪০ টন, বিটুমিন ৫৫ হাজার ২৮ টন, জেবিও ১৭ হাজার ১৩৩ টন, লুব অয়েল ১৮ হাজার ৭৫২ টন, এলপিজি ১৬ হাজার ৩৭০ টন, এসবিপিএস ৮৬৫ টন এবং এমটিটি ছয় হাজার ৪৭৫ টন এবং এলডিও ৬৬০ টন। আর এসব জ্বালানি পণ্য বিক্রিতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের আয়কর-পরবর্তী মুনাফার পরিমাণ ছিল চার হাজার ৫৫১ কোটি এক লাখ ৮১ হাজার ৭৩০ টাকা।

জ্বালানি ব্যবহারকারীদের মতে, ভারী শিল্পের জন্য অবশ্যই গ্যাস দরকার। কিন্তু এর বিকল্প অন্যান্য জ্বালানির ব্যয় বেশি। অনেক উদ্যোক্তার পক্ষে এ অতিরিক্ত ব্যয় বহন করা সম্ভব নয়। এছাড়া পেট্রোলিয়াম জ্বালানি পণ্যগুলো মূলত কৃষি উৎপাদন, শিল্প প্রক্রিয়া, বিদ্যুৎ উৎপাদন, পরিবহন ও গৃহস্থালি কাজে বেশি ব্যবহার করা হয়। আর এসব খাতের সঙ্গে সিংহভাগ জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন জড়িত। এদের মধ্যে অনেকে দরিদ্র, মধ্যবিত্ত ও গ্রামাঞ্চলে বসবাসকারী। এক্ষেত্রে দ্রুত সময়ে ডিজেল ও কেরোসিনের মূল্য হ্রাস করা হলে এসব জনগোষ্ঠীর বেশিরভাগ উপকারভোগী হবে। পাশাপাশি বর্তমান বাজার পরিস্থিতি ও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ বিবেচনায় জ্বালানি তেলের সরবরাহ প্রক্রিয়ার আরও আধুনিকায়ন করতে হবে। এতে দেশের উন্নয়ন দ্রুত ও গতিশীল হবে, যার সুফল সাধারণ জনগণ ভোগ করবে। অন্যথায় তেল চুরির সুযোগ রয়ে যাবে। 

হাবিব গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান রিজেন্ট টেক্সটাইলের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা এ কে ভট্টাচার্য্য বলেন, ‘জমির স্বল্পতা ও জমির দাম অধিক। গ্যাস সংকট, ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদসহ নানা কারণে থমকে গেছে চট্টগ্রামে শিল্প বিনিয়োগ। সম্ভাবনার পুরোটাই অবিকাশিত থেকে যাচ্ছে। ফলে বিনিয়োগকারীরা নতুন করে শিল্প স্থাপনে আগ্রহী হচ্ছে না। বৃহৎ উৎপাদনশীল শিল্পে হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ অলস পড়ে আছে, যা চট্টগ্রামে শিল্পে নতুন বিনিয়োগ না হওয়ার অন্যতম কারণ।’

বিপিসির একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, ক্রমাবর্ধমান জ্বালানি চাহিদার বিপরীতে বিপিসি জ্বালানি তেল আমদানি, পরিশোধন, মজুদ ও সরবরাহ ব্যবস্থার অবকাঠামোগত উন্নয়নের লক্ষ্যে দেশব্যাপী মোট ১১টি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এছাড়া আরও পাঁচটি প্রকল্প গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান আছে। এসব প্রকল্পে ব্যয় হবে প্রায় সাড়ে ছয় হাজার কোটি টাকা। আর এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের সার্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা আরও সুদৃঢ় হবে। সূত্র: শেয়ার বিজ

Print Friendly, PDF & Email

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.