Home bd news ফারমার্স ব্যাংকের সঙ্কট নিরসনে বৈঠকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

ফারমার্স ব্যাংকের সঙ্কট নিরসনে বৈঠকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

bank
Staff Reporter

Published: 18:00:57
95
0

image_pdfimage_print

কর্পোরেট সংবাদ ডেস্কঃ সমস্যাগ্রস্থ ফারমার্স ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন চারশ’ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে দেড় হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হচ্ছে। এ শেয়ারের বড় অংশই কিনতে হচ্ছে সরকারি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান আইসিবি ও রাষ্ট্রীয় সোনালী, জনতা ও অগ্রণী ব্যাংককে। এর বাইরে আরও কয়েকটি ব্যাংক শেয়ার কিনবে। শেয়ার বিক্রির প্রক্রিয়াসহ সার্বিক বিষয়ে এসব প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের নিয়ে বৈঠকে বসেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বৈঠকে সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালি ও ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ব্যাংকিং সচিবরা উপস্থিত রয়েছেন বলে জানা গেছে। ফারমার্স ব্যাংক বাঁচাতে সরকারি উদ্যোগের অংশ হিসাবে রাষ্ট্রীয় এসব প্রতিষ্ঠান শেয়ার কিনছে। এ উপায়ে আসা অর্থ থেকে আমানতকারীদের চাহিদার আলোকে কিছু অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। একই সঙ্গে আমানত বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে চরম তারল্য সঙ্কটে পড়া ব্যাংকটি।

সাবেক চেয়ারম্যান মহীউদ্দীন খান আলমগীর ও অডিট কমিটির চেয়ারম্যান মাহাবুবুল হক চিশতীর নানা অনিয়ম ফারমার্স ব্যাংকের এ সঙ্কটের অন্যতম কারণ বলে অভিযোগ উঠেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হস্তক্ষেপে গত ২৭ নভেম্বর ও্ দু’জন পদত্যাগ করেন। এরপর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক নমুনা ভিত্তিক তদন্তে ঋণ গ্রহীতার কাছ থেকে পে-অর্ডারের বিপরীতে কমিশন, টাকার বিনিয়োগে নিয়োগসহ বিভিন্ন অনিয়মের তথ্য উঠে আসে।

ফারমার্স ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন ১৫শ’ কোটি টাকা। তবে বর্তমানে পরিশোধিত মূলধন রয়েছে ৪০১ কোটি টাকা। এখন পরিশোধিত মূলধন বাড়িয়ে ১৫শ’ কোটি টাকায় উন্নীত করার চেষ্টা চলছে। পরিশোধিত মূলধন বৃদ্ধির ফলে বর্তমান পরিচালকদের অনেকে পরিচালক থাকার যোগ্যতা হারাবেন। কেননা পরিচালক হতে হলে মূলধনের ২ শতাংশ শেয়ার ধারনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ফারমার্স ব্যাংকে মহীউদ্দীন খান আলমগীরের বর্তমান শেয়ার ৫ দশমিক ৮৫ শতাংশ।

ফারমার্স ব্যাংকের কার্যক্রম শুরু হয় ২০১৩ সালের জুনে। শুরুর কিছুদিনের মধ্যেই নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়ে ব্যাংকটি। সাইন বোর্ড সর্বস্ব ও অস্বিত্বহীন প্রতিষ্ঠানকে ঋণ প্রদান, অন্য ব্যাংকের মন্দ ঋণ কেনা, ঋণের তথ্য গোপনসহ বিভিন্ন জালিয়াতির ঘটনা ঘটে।

গত সেপ্টেম্বর শেষে এ ব্যাংকের খেলাপি ঋণ দাঁড়ায় ৩৭৮ কোটি টাকা, যা ব্যাংকটির মোট ঋণের ৭ দশমিক ৪৫ শতাংশ। খেলাপি ঋণের এ হার নতুন ব্যাংকগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। ইতিমধ্যে ব্যাংকটির ৭৫ কোটি টাকার মূলধন ঘাটতি দেখা দিয়েছে। উল্লেখ্য, গত রোববার ‘ঋণের কমিশন নিয়েছেন মহীউদ্দীন আলমগীর’ শিরোনামে একটি রিপোর্ট প্রকাশিত হয়।

Print Friendly, PDF & Email