Home bd news আখাউড়া থেকে সিলেট রেলপথ নির্মাণ

আখাউড়া থেকে সিলেট রেলপথ নির্মাণ

Rail
Staff Reporter (U)

Published: 12:11:15
53
0

image_pdfimage_print

কর্পোরেট সংবাদ ডেস্কঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া থেকে সিলেট পর্যন্ত রেলপথটি মিটারগেজের। এটি ডুয়েল গেজ করা হবে। এজন্য একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এতে যে ব্যয় ধরা হচ্ছে তা অন্য যে কোনো রেলপথ নির্মাণে কিলোমিটারপ্রতি খরচের তিনগুণেরও বেশি। অথচ তুলনামূলক অনেক কম টাকায় নতুন রেলপথও নির্মাণ করা যাচ্ছে। সর্বাধিক ব্যয়ের নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হচ্ছে চীনের অর্থায়নে জিটুজি পদ্ধতিতে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পে। চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপ কোম্পানি লিমিটেড (সিআরবিজি) রেলপথটি নির্মাণ করবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এ প্রকল্পে ঠিকাদার নিযুক্ত করে দিয়েছে চীন। তাই সর্বনিম্ন দরপ্রস্তাব গ্রহণের সুযোগ নেই। জিটুজি পদ্ধতিতে বাস্তবায়নে খরচ বেশি পড়াটাই স্বাভাবিক। আর ঠিকাদারের দেওয়া প্রস্তাবে দীর্ঘদিন নেগোসিয়েশন করে কিছু কমানো হয়েছে। অবশ্য এর একটি সুফল হচ্ছে, প্রজেক্ট ভ্যারিয়েশন নেই। মানে পরবর্তী সময়ে নানা উছিলায় খরচ বাড়ানোর সুযোগ থাকে না। তবে এ বিষয়ে রেলপথমন্ত্রী মুজিবুল হক বলেন, নেগোসিয়েশন কমিটি যে খরচ ধরেছে এটি চূড়ান্ত নয়। মন্ত্রণালয়, ইআরডিসহ বিভিন্ন ধাপে যাচাই-বাছাই হবে। সেখানে খরচ কমতে পারে।

জানা গেছে, চীন সরকার নির্ধারিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে ইতোমধ্যে নেগোসিয়েশন সম্পন্ন করেছে। চূড়ান্ত নেগোসিয়েশন শেষে কেবল নির্মাণ খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩ হাজার ৯৬৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। এতে কিলোমিটারপ্রতি নির্মাণ ব্যয় দাঁড়াচ্ছে ৫৮ কোটি টাকা। অথচ একই সময়ে বাস্তবায়নাধীন অন্য প্রকল্পগুলোর খরচ এর তিনগুণেরও কম। এমন একটি রেলপথ আখাউড়া-লাকসাম। এডিবির অর্থায়নে নির্মাণাধীন এ প্রকল্পে প্রতি কিলোমিটারের ব্যয় ১৯ কোটি টাকা। মোট নির্মাণ খরচ ৩ হাজার ৪৯৭ কোটি ৩১ লাখ টাকা। এর মধ্যে কিছু অংশ নতুন রেলপথ আর কিছু অংশ ডুয়েল গেজে রুপান্তর করা হবে। একইভাবে কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেলপথে ব্যয় হচ্ছে কিলোমিটারপ্রতি ১০ কোটি টাকা। ৫৪৪ কোটি ৮৬ লাখ ৭৭ লাখ টাকা খরচে নির্মাণ করা হবে ভারতীয় ঋণের এ প্রকল্পটি। এটিও ডুয়েল গেজে রূপান্তর করা হচ্ছে। এরকম পার্বতীপুর-কাউনিয়া রেলপথটি ডুয়েলগেজে রূপান্তরে প্রতি কিলোমিটারে খরচ হচ্ছে ১৫ কোটি টাকা। ১ হাজার ১২ কোটি টাকায় নির্মাণ করা হবে ৬৬ কিলোমিটার রেলপথ। আর দোহাজারী-কক্সবাজার সম্পূর্ণ নতুন রেলপথ করা হচ্ছে এডিবির অর্থায়নে। এ প্রকল্পে প্রায় ৬ হাজার ২০০ কোটি টাকা নির্মাণ খরচ ধরা হয়েছে। এ রেলপথ নির্মাণে কিলোমিটারপ্রতি খরচ হচ্ছে ৪৪.২৮ কোটি টাকা। এসব বিবেচনায় আখাউড়া-সিলেট রেলপথে অস্বাভাবিক ব্যয় হচ্ছে।

এ নিয়ে রেলকর্তারা বলছেন, অর্থায়নের বিষয়টি দেখে ইআরডি। অর্থ জোগাড়ের পর তা বাস্তবায়ন করে রেলপথ মন্ত্রণালয় বা রেলওয়ে। তাই কোনো প্রকল্পে খরচের পরিমাণ বেশি হলেও এ ক্ষেত্রে রেলের তেমন কিছু করার নেই। রেল সূত্র জানিয়েছে, ২০১৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানির সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই করে রেলওয়ে। ২০১৬ সালের ১৯ অক্টোবর জিটুজি ভিত্তিতে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের প্রস্তাব অনুমোদন দেয় অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এর পর গত বছর নেগোসিয়েশন কমিটি গঠন করা হয়। তার পর দফায় দফায় বৈঠক-পর্যালোচনা এবং কমিটি পুনর্গঠন শেষে নেগোসিয়েশন সম্পন্ন হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিআরবিজি প্রকল্প কাজের বিল অব কোয়ানটিটি (বিওকিউ) জমা দেয়। তাতে ২৩ হাজার ১৯ কোটি ৫১ লাখ ৩৪ হাজার ৩৬৪ টাকা ধরা হয়। নেগোসিয়েশন শেষে চূড়ান্ত করা হয় ১২ হাজার ৭৯ কোটি ২৮ লাখ ৮৬ হাজার ৭৬০ টাকা। তবে চুক্তির বেইজ লাইন ক্লজ-১৩.৮ অনুযায়ী ১৮ মাস পর থেকে প্রাইস অ্যাডজাস্টমেন্ট শুরু হয়। অর্থাৎ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাব অনুযায়ী পণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে সাড়ে ৪ বছরের জন্য ডিপিপি (ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপজাল) ভ্যালুর সঙ্গে ২৭ শতাংশ যুক্ত করা হয়। তাই নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩ হাজার ৯৬৪ কোটি ৩৮ লাখ ২৭ হাজার টাকা। এ ক্ষেত্রে চীনের এক্সিম ব্যাংক এবং বাংলাদেশি অর্থ ফান্ড হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রকল্পটিতে প্রতি কিলোমিটারে ৫৮ কোটি ৪২ লাখ টাকা খরচ হচ্ছেই।

সূত্র আরও জানিয়েছে, আখাউড়া-সিলেট রেলপথ নির্মাণে ডিপিপি পাঠানো হবে পরিকল্পনা কমিশনে। এখন পর্যন্ত প্রস্তাবিত ডিপিপিতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫৭৭১.৯৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে পিএ খাতে রাখা হয়েছে ১০২৬৭.৩৯ কোটি টাকা এবং জিওবি খাতে ধরা হয়েছে ৫৫০৪.৫৫ কোটি টাকা। আখাউড়া-সিলেট রেলপথের মধ্যে আখাউড়া-কুলাউড়া পর্যন্ত অংশটি ১৮৯৮ সালে নির্মাণ করে ব্রিটিশ সরকার। পরে কুলাউড়া-সিলেট পথটি তৈরি হয় ১৯১৫ সালে। আখাউড়া-কুলাউড়া-শাহবাজপুর সেকশনটি ট্রান্স এশিয়ান রেলরুটের একটি।

আখাউড়া-সিলেট ডুয়েলগেজ করা গেলে ঢাকা-সিলেট এবং চট্টগ্রাম-সিলেট উভয় সেকশনে ভ্রমণের সময় ২ থেকে ৩ ঘণ্টা কমতে পারে। এ প্রকল্পের আওতায় ২২৫ কিলোমিটার রেলপথ মিটারগেজ থেকে ডুয়েলগেজ করা হবে। এর মধ্যে মেইনলাইন ১৭৬.৬০ কিলোমিটার ও লুপ লাইন ৪৮.৪০ কিলোমিটার। ৩৪টি স্টেশন রিমডেলিং করা হবে এ প্রকল্পের অধীনে।

Print Friendly, PDF & Email