Home bd news ১৩ হাজার কোটি ডলারের বাজার ধরতে প্রস্তুতি প্রয়োজন

১৩ হাজার কোটি ডলারের বাজার ধরতে প্রস্তুতি প্রয়োজন

Logo
Logo
Image
fashion-tecnology
Staff reporter (s)

Published: 10:38:38
37
0

Spread the love

ডেস্ক রিপোর্টঃ জীবনযাত্রায় প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের প্রভাব ক্রমে বাড়ছে। মানুষের মৌলিক চাহিদা বস্ত্র ও পোশাকও এ প্রভাবের বাইরে নয়। খাতসংশ্লিষ্ট বৈশ্বিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০২৫ সালে উদ্ভাবন ও উন্নত প্রযুক্তির সমন্বয়ে উৎপাদিত স্মার্ট টেক্সটাইলসের বাজার হবে ১৩ হাজার কোটি ডলারের। আর এ বাজারে শক্তিশালী অবস্থান তৈরিতে এখনই প্রস্তুতি শুরু করা প্রয়োজন বাংলাদেশের। গতকাল ফ্যাশন ও প্রযুক্তিবিষয়ক এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বক্তারা এমন মত প্রকাশ করেন।

রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় গতকাল প্রথমবারের মতো হয়ে গেল ‘বাংলাদেশ ফ্যাশনলজি সামিট’ শীর্ষক ফ্যাশন ও প্রযুক্তিবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন। বস্ত্র ও পোশাক খাতের দেশীয় প্রতিষ্ঠান প্যাসিফিক জিন্সসহ ১০টি প্রতিষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষকতায় এ সম্মেলনের আয়োজন করে বাংলাদেশ অ্যাপারেল এক্সচেঞ্জ (বিইএ)।

দিনব্যাপী আয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র, নেদারল্যান্ডস, ফ্রান্স, জাপান ও ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মোট ১৭ জন ফ্যাশন ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ অংশগ্রহণ করেন। সম্মেলনের মোট চারটি সেশনে তারা প্রযুক্তিনির্ভর আগামীর পোশাক ফ্যাশন শিল্প সম্পর্কে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন। সম্মেলনে উদ্যোক্তা, কর্মকর্তা, ক্রেতা প্রতিনিধি, বিভিন্ন বাণিজ্যিক সংগঠনের প্রতিনিধি, উন্নয়ন অংশীদারসহ পোশাক শিল্পের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের প্রায় ৪৫০ জন অংশগ্রহণ করেন।

গতকাল সামিটের প্রথম সেশনের প্রতিপাদ্য ছিল— ‘ফ্যাক্টরি ফর দ্য ফিউচার’। এ সেশনে পোশাক খাতে ডিজিটালাইজেশনের বিস্তার নিয়ে আলোচনা করা হয়। সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থায় রোবট ব্যবহারের মাধ্যমে পোশাক তৈরি নিয়ে তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করা হয়। পাশাপাশি এ সেশনে বক্তারা সোবট, কোবট ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধির ওপরও আলোকপাত করেন। তবে মানুষের ব্যবহার না কমিয়ে কীভাবে মানুষ ও প্রযুক্তির সমন্বয়ে উৎপাদন বাড়ানো যায়, বিশেষজ্ঞরা সে বিষয়ে গুরুত্ব দেন।

সামিটের দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ সেশনের প্রতিপাদ্য ছিল যথাক্রমে ‘ভার্চুয়াল প্রটোটাইপিং অ্যান্ড ডিজিটালাইজেশন অব দি অ্যাপারেল সাপ্লাই চেইন’, ‘ফ্যাশন টেক অ্যান্ড সাসটেইনেবল ইনোভেশন’ ও ‘মাস কাস্টমাইজেশন অ্যান্ড অন ডিমান্ড ম্যানুফ্যাকচারিং’। সব সেশনের আলোচনাতেই উদ্ভাবন ও প্রযুক্তির সমন্বয়ে বস্ত্র ও পোশাক শিল্পে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখার তাগিদ দেন বক্তারা।

তৃতীয় সেশনের বক্তা মুচানেটা কাপফুন্ডে বলেন, ২০২৫ সাল নাগাদ স্মার্ট টেক্সটাইলসের বৈশ্বিক বাজার ১৩ হাজার কোটি ডলারের হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্মার্ট টেক্সটাইলসের অন্যতম উপাকরণ হবে স্মার্ট ফ্যাব্রিকস। সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব উপায়ে এসব ফ্যাব্রিক মানুষের মৌলিক চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি শরীরের যত্ন নিতেও সক্ষম হবে। প্যাসিভ, অ্যাকটিভ ও আলট্র্রা— এ তিন প্রজন্মের স্মার্ট ফ্যাব্রিকস বিষয়ে আলোকপাত করেন তিনি। এসব ফ্যাব্রিক বা কাপড় মেডিকেল অ্যাপ্লিকেশন, সুরক্ষা ও স্পেস স্যুট তৈরিতে ব্যবহারের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তৃতীয় সেশনে দুধ, আনারস, কমলার খোসা ও গোবরের সার ব্যবহার করে সুতা ও কাপড় উৎপাদনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। এছাড়া সামিটে বস্ত্র ও পোশাক তৈরিতে মানুষ ও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার মুখোমুখি অবস্থান নিয়েও আলোচনা হয়। এসব আলোচনায় বলা হয়, আগামী ১৫ বছরে ফ্যাশন শিল্পের ৮০ শতাংশ শ্রমিক কর্মসংস্থান হারাবেন। কর্মসংস্থান হারানোর এ তালিকায় থাকা দেশগুলো হলো— চীন, বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও ইন্দোনেশিয়া।

সামিটের সমাপনী সেশনে বক্তব্য রাখেন পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান প্যাসিফিক জিন্সের পরিচালক সৈয়দ এম তানভির, বিইএর প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও মোস্তাফিজ উদ্দিন। সভাপতিত্ব করেন এফবিসিসিআই সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, বক্তব্য রাখেন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আতিকুল ইসলাম ও নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত লিওনি কুয়েলেনারে।

আতিকুল ইসলাম বলেন, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের অগ্রযাত্রায় পোশাক শিল্পও এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা ভাবছি কীভাবে এর ব্যবহারের মাধ্যমে ব্যয় কমে আসবে; কীভাবে আমরা স্মার্ট ফ্যাশনের বাজারে প্রবেশ করব। আরো অনেক অজানার লক্ষ্যে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। সময়মতো এসব বিষয়ের সঙ্গে সমন্বয় একটা বড় চ্যালেঞ্জ।

এফবিসিসিআই সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, শিল্প পরিবর্তন হচ্ছে। আমরা এর সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশ প্রস্তুত কিনা? আমাদের দেখতে হবে কীভাবে আরো ভ্যালু অ্যাড করতে পারি। তিনি উল্লেখ করেন, পোশাক শিল্পে প্রযুক্তির ব্যবহারে কর্মসংস্থান হারানোর শঙ্কা রয়েছে।

মোস্তাফিজ উদ্দিন বলেন, আমাদের দূর ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে এগিয়ে যেতে হবে। প্রযুক্তিনির্ভর শিল্প মানসম্পন্ন কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারে।


Spread the love
Tallu sinniping mills
Logo