Home bd news উ. কোরিয়ার সঙ্গে সংলাপে বসতে পারে যুক্তরাষ্ট্র

উ. কোরিয়ার সঙ্গে সংলাপে বসতে পারে যুক্তরাষ্ট্র

u.koria
Staff reporter (s)

Published: 10:31:40
56
0

image_pdfimage_print

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স। দুই কোরিয়ার মধ্যে সম্ভাব্য বিরল একটি সম্মেলন আয়োজনের পক্ষে দক্ষিণ কোরিয়ার জোরাজুরিতে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর এ চাপ সৃষ্টি হচ্ছে বলে মনে করছেন তিনি। খবর রয়টার্স।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদ মাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের সঙ্গে এক সাক্ষাত্কারে মাইক পেন্স ইঙ্গিত দেন— উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা অগ্রসর করার ক্ষেত্রে কিছুটা ঐকমত্যে পৌঁছেছে দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র। প্রাথমিক পর্যায়ে সিউলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা শুরু হবে এবং তারপর কোনো ধরনের পূর্বশর্ত ব্যতিরেকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সংলাপ হতে পারে।

উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা কর্মসূচি নিয়ে পিয়ংইয়ং, সিউল ও ওয়াশিংটনের মধ্যে কয়েক মাস ধরেই তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং-উনের মধ্যে নিয়মিত কথার যুদ্ধ লেগেই আছে। এ পরিস্থিতিতে উত্তর কোরিয়ার ওপর অর্থনৈতিক অবরোধসহ বিভিন্ন কঠোর কর্মসূচির পক্ষে জাতিসংঘে চাপ প্রয়োগ করছিল যুক্তরাষ্ট্র।

দুই পক্ষ যেকোনো ধরনের সংলাপ ও সমঝোতা পরিস্থিতি সৃষ্টির বাইরে চলে গেছে, সেদিকে ইঙ্গিত করে ট্রাম্প সমঝোতার কার্যকারিতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেন। তিনি বলে আসছিলেন— যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ববতী প্রশাসনগুলো এ সমঝোতা প্রক্রিয়ার কথা চালিয়ে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি থামাতে ব্যর্থ হয়েছে। দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা আরো বাড়িয়ে দেয় উত্তর কোরিয়ার উসকানিমূলক আচরণ। তারা একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা অব্যাহত রাখে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের নির্দেশনাকে তোয়াক্কা না করে ষষ্ঠবারের মতো বৃহৎ পারমাণবিক পরীক্ষা চালায় এশিয়ার এ দেশটি। এমনকি দেশটি আরো হুমকি দেয়— যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানার মতো দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে সক্ষম পিয়ংইয়ং।

এ পরিস্থিতিতে কোরীয় উপদ্বীপে নতুন করে সংঘাত বেধে যাওয়ার আশঙ্কায় ছিল স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক মহল। কিন্তু দক্ষিণ কোরিয়ার পিয়ংচ্যাংয়ে শীতকালীন অলিম্পিক দুই কোরিয়ার সম্পর্কে কিছুটা পরিবর্তনের হাওয়া নিয়ে আসে। দীর্ঘ ছয় দশক পর উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা সিউল সফর করেন। একই সঙ্গে দেশটির কয়েকশ ক্রীড়াবিদ ও চিয়ারলিডার বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়ায় অবস্থান করছেন।

উত্তর কোরিয়া এরই মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জা-ইনকে সংলাপের জন্য পিয়ংইয়ংয়ে আমন্ত্রণ জানিয়ে রেখেছে। এটি যদি সফল হয়, তাহলে ২০০৭-এর পর এই প্রথম দুই কোরিয়া কোনো ধরনের সংলাপে বসতে যাচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে নিজেদের আক্রমণাত্মক অবস্থান থেকে কিছুটা সরে আসতে বাধ্য হচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়ার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র যুক্তরাষ্ট্র। অলিম্পিক গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ শেষে এয়ার ফোর্স টুতে করে ওয়াশিংটন ফেরার পথে ওয়াশিংটন পোস্টকে দেয়া সাক্ষাত্কারে ভাইস প্রেসিডেন্ট পেন্স জানান, পিয়ংইয়ংয়ের ওপর ‘সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের কর্মসূচি’ অব্যাহত থাকবে; কিন্তু একই সঙ্গে সম্ভাব্য যেকোনো আলোচনার জন্যও প্রস্তুত থাকবে যুক্তরাষ্ট্র।

Print Friendly, PDF & Email