Home bd news মাদক ব্যবসায়ী ও গডফাদারদের তালিকা প্রকাশ করবে সরকার

মাদক ব্যবসায়ী ও গডফাদারদের তালিকা প্রকাশ করবে সরকার

Amu
Staff Reporter (U)

Published: 10:23:25
92
0

image_pdfimage_print

দেশে মাদক একটি ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিচ্ছে সরকার। মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা তৈরি করে জনসম্মুখে প্রকাশ করা হবে। এ ছাড়া মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনাও বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। গতকাল সোমবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি ও শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু এসব তথ্য জানিয়েছেন। তিনি আরো জানান, তুলনামূলক অপরাধ পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ধর্ষণ, নারী নির্যাতন, শিশু নির্যাতন, ডাকাতি, দস্যুতা, খুন, অপহরণ ও চুরি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। অর্থাৎ এক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলার যথেষ্ট উন্নতি সাধন হয়েছে। এ ছাড়াও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় দেশের জঙ্গি কার্যক্রম অনেকটাই কমে এসেছে। চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি সহিংস হলে মানুষের জানমালের নিরাপত্তায় সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে।

আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে আমির হোসেন আমু বলেন, সব গোয়েন্দা সংস্থার তালিকা সমন্বয় করে মাদক ব্যবসায়ী, মাদক পাচার ও সরবরাহকারি এবং মাদক সেবীদের তালিকা জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে। মন্ত্রী বলেন, আমরা বিশেষভাবে মাদকের ব্যাপারে কনসার্ন। মাদক পাচার, মাদক ব্যবসায়ী, গডফাদার-সংক্রান্ত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দেয়া তালিকার ভিত্তিতে মোট ৮৬০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয়েছে। এরমধ্যে ১৮৮ জন জেল হাজতে আছে। তারপরেও এটার ব্যাপারে আরও তৎপর হওয়ার প্রয়োজন। সেই বিষয়ে আমরা আলোচনা করেছি। আগামীতে তৎপরতা আরও বৃদ্ধি পাবে।

গত ডিসেম্বর মাসে মাদকসেবী, মাদক ব্যবসায়ী মিলে মোট ১০ হাজার ১২৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে জানিয়ে আমু বলেন, সরকার মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিচ্ছে। সব গোয়েন্দা সংস্থা থেকে মাদক ব্যবসায়ীদের লিস্ট তৈরি করা হচ্ছে। সব গোয়েন্দা সংস্থার তালিকা সমন্বয় করে তা জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে। আমরা মাদকের বিষয়ে জোর দিচ্ছি। জঙ্গি ব্যাপারটা মোটামুটি একটা নিয়ন্ত্রণের পর্যায়ে আছে। মাদকটা যাতে আর বিস্তার লাভ করতে না পারে সেটা গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করেছি। কমিটির সভাপতি বলেন, আমরা কতগুলো কর্মপন্থা নিচ্ছি। জনগণকে সম্পৃক্ত করা, সব স্কুল কলেজের শিক্ষকদের সম্পৃক্ত করতে চাই। তারা যাতে ক্লাসে এ বিষয়ে বক্তব্য দেন। মসজিদে খুৎবার আগে বয়ানে যাতে ইমাম সাহেবরা মাদকের ক্ষতির জিনিসটা তুলে ধরেন। যাতে একটা সামাজিক বিপ্লব হয়। এগুলো যাতে কার্যকর হয় সেজন্য মনিটরিংও করা হবে।

২০১৬ সালের জুলাই থেকে এ পর্যন্ত জঙ্গিবিরোধী মোট ৩২টি বড় অভিযান পরিচালিত হয়েছে জানিয়ে আমির হোসেন আমু বলেন, অভিযানে ৭৮ জন নিহত হয়েছেন। শীর্ষ জঙ্গি গ্রেফতার হয়েছেন ৬৪ জন, ভিকটিম উদ্ধার হয়েছেন ১০৩ জন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিহত হয়েছেন ৮ জন। নিহতদের মধ্যে পুলিশ ৬ জন, র‌্যাব একজন ফায়ার সার্ভিসের একজন রয়েছেন। তিনি বলেন, ২০১৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত জঙ্গি অভিযানে নিহত, হত্যা চেষ্টা, বোমা হামলা ইত্যাদি নিয়ে মোট ৮০টি মামলা হয়েছে। এরমধ্যে চারটি মামলার বিচার শেষ হয়েছে। চার্জশিট হয়েছে ২৮টি মামলার। প্রায় সব মামলার রহস্য উদঘাটিত হয়েছে।

গত ডিসেম্বরে দেশে ১৬ হাজার ৫৪২টি মামলা হয়েছে জানিয়ে কমিটির সভাপতি বলেন, এরমধ্যে উদ্ধারজনিত যেমন- অস্ত্র উদ্ধার, মাদক উদ্ধার, বিস্ফোরক উদ্ধার মামলা ৮ হাজার ৭৭৫টি। যা মোট মামলার ৫৩ শতাংশ।

শিল্পমন্ত্রী আরো বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আছে। কিন্তু এর পরেও যদি কেউ কোনো ইস্যুকে কেন্দ্র করে জ্বালাও-পোড়াও-ভাঙচুর করে, তাহলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তা কঠোর হাতে দমন করবে। রাজনৈতিক পরিস্থিতি যদি আরও উত্তপ্ত হয়, এর আগেও ২০১৪-১৫ সালের দিকে রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে জানমালের ক্ষতি হয়েছে- এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে মন্ত্রিসভা কমিটির চেয়ারম্যান বলেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার অর্থ যদি পেট্রলবোমা মেরে মানুষ পোড়ানো হয়, রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়া যদি জনগণের জানমালের নিরাপত্তাহীনতা হয়, সেখানে কার্যকর ব্যবস্থা যতটুকু করা দরকার, জানমালের নিরাপত্তা দেয়ার জন্য, মানুষের জীবন রক্ষার জন্য, সেটা অবশ্যই কঠিন হস্তে সরকার করবে।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামিদের বিদেশ থেকে ফেরত আনার ব্যাপারে সরকার কোনো অতি উৎসাহী কাজ করবে না বলে জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। তিনি বলেছেন, এটি আদালতের বিষয়। সরকার শুধু আদালতের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে এবং করবে। যারা অ্যবসেন্টি তাদের আদালতে হাজির করা হবে কি-না, তাদের মালামাল ক্রোক করা হবে কি-না, আদালত যতক্ষণ পর্যন্ত না কোনো সিদ্ধান্ত দেয় ততক্ষণ আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কিছু করার নেই। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিজেরা উদ্যোগ নিয়ে কিছু করতে যাবে না, এটা বলতে পারি।

আমির হোসেন আমুর সভাপতিত্বে বৈঠকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু, জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোস্তাফা কামাল উদ্দীন, সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব ফরিদ উদ্দিন আহম্মদ চৌধুরী, পুলিশের মহাপরিদর্শক জাবেদ পাটোয়ারীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। 

Print Friendly, PDF & Email