বাংলাদেশ ব্যাংকের আরটিজিএস সার্ভার বিকল

কর্পোরেট সংবাদ ডেস্কঃ দ্রুততর সময়ে লেনদেন করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিজিটাল প্লাটফর্ম রিয়ের টাইম গ্রস সেটেলমেন্ট (আরটিজিএস) সার্ভার বিকল হয়ে পড়েছে। এতে অর্ডারমাফিক লেনদেন সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে না। লেনদেনে ধীরগতির কারণে ব্যাংকগুলোকে সাময়িক বিকল্প মাধ্যমে লেনদেন করার পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস বিভাগ এ বিষয়ে সব ব্যাংকের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্ভারে ত্রুটির কারণে ব্যাংকগুলোতে গিয়ে তাৎক্ষণিক লেনদেন নিষ্পত্তি করতে পারছেন না গ্রাহকরা। চলতি মাসের প্রথম থেকেই এ সমস্যা চলছে। সাধারণভাবে এ সিস্টেমে দৈনিক গড়ে সাড়ে ৪ হাজারটি লেনদেনের বিপরীতে সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকার মতো নিষ্পপ্তি হয়ে থাকে। কিন্তু গত সপ্তাহে এ লেনদেন মাত্র দেড় হাজারে নেমে আসে।

সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করায় ব্যাংকগুলোকে অবহিত করে চিঠি পাঠিয়েছে পেমেন্ট সিস্টেমস বিভাগ। ওই চিঠিতে বলা হয়েছে কারিগর ত্রুটির কারণে গত দুদিন ধরে আরটিজিএস সঠিকভাবে কাজ করছে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট টিম বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। সমাধান করতে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে। অতিপ্রয়োজনীয় লেনদেনগুলো বিকল্পপদ্ধতিতে সম্পন্ন করার জন্য আপনাদের অনুরোধ করা হলো।

আরটিজিএস পদ্ধতিতে এক ব্যাংকের গ্রাহক আরেক ব্যাংকের গ্রাহককে এক লাখ টাকার বেশি যে কোনো অঙ্কের অর্থ তাৎক্ষণিক পরিশোধ করতে পারেন। ২০১৫ সালের অক্টোবর মাসে এ ব্যবস্থা চালুর অল্প দিনেই ব্যাপক জনপ্রিয় লেনদেন মাধ্যম হয়ে উঠেছে। আরটিজিএসের আওতায় বর্তমানে ৫৫টি ব্যাংকের ৭০০ শাখায় লেনদেন হচ্ছে। প্রতি কর্মদিবসে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ৩টা পর্যন্ত এ ব্যবস্থায় পেমেন্ট অর্ডার দেওয়া যায়। এ পদ্ধতিতে মাত্র ১ সেকেন্ডেই অর্থ স্থানান্তর করা যায়। এর বাইরে অনলাইন প্লাটফর্মে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটিএন), অটোমেটেড চেক ক্লিয়ারিং ও ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ (এনপিএসবি) পদ্ধতিতে লেনদেনের সুযোগ রয়েছে। তবে এ ব্যবস্থায় লেনদেন নিষ্পত্তিতে একদিনের বেশি সময় লাগে। যে কারণে আরটিজিএস খুব দ্রুত সময়ে জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

গত ডিসেম্বর মাসে ২১ কর্মদিবসে আরটিজিএসের মাধ্যমে মোট এক লাখ ৭৫ হাজার ১৬৬ কোটি টাকার লেনদেন হয়। মোট ৮৯ হাজার ৫৫০টি পেমেন্ট অর্ডারের বিপরীতে এসব অর্থ স্থানান্তর হয়। আগের মাস নভেম্বরে ২২ কর্মদিবসে ৯৪ হাজার ৬৭৩ পেমেন্ট অর্ডারের বিপরীতে লেনদেন হয় এক লাখ ৮৮ হাজার টাকা। অর্থাৎ দৈনিক গড়ে সাড়ে ৪ হাজারটির মতো লেনদেনের বিপরীতে সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকা প্রায় অর্থ স্থানান্তর হয়ে থাকে।