Home bd news ব্যাংকের সন্দেহজনক লেনদেন বাড়ছে

ব্যাংকের সন্দেহজনক লেনদেন বাড়ছে

Logo
Logo
Image
mani
Staff Reporter

Published: 11:35:39
93
0

Spread the love

কর্পোরেট সংবাদ ডেস্কঃ ব্যাংকিং খাতের মাধ্যমে মানিলন্ডারিং, অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়নসহ অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকান্ডে সন্দেহজনক লেনদেন ব্যাপক হারে বাড়ছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ১ হাজার ৬৫৫টি সন্দেহজনক লেনদেনের (এসটিআর) তথ্য পেয়েছে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। আগের অর্থবছরে এসটিআরের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৩০৭টি। এক বছরের ব্যবধানে সন্দেহজনক লেনদেন বেড়েছে ২৬ দশমিক ৬২ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, মানিলন্ডারিং, অর্থপাচার, জঙ্গি বা সন্ত্রাসে অর্থায়ন, ঘুষ-দুর্নীতি বা বেআইনি কোনো লেনদেনের বিষয়ে সন্দেহ হলে ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা অন্য প্রতিবেদন প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিএফআইইউয়ের কাছে রিপোর্ট করে, যা সন্দেহজনক লেনদেন প্রতিবেদন (এসটিআর) হিসেবে বিবেচিত। একইভাবে ১০ লাখ টাকার ওপরে যে কোনো ধরনের লেনদেন হলে তা নগদ লেনদেন প্রতিবেদন (সিটিআর) হিসেবে রিপোর্ট করতে হয়। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক দাবি করেছে, এসটিআর আসা মানেই অপরাধ সংঘটিত হওয়া নয়। এসব অপরাধ ঠেকানো ও অপরাধীদের শনাক্ত করার জন্য এসটিআর রিপোর্টিং চালু করা হয়েছে। এই রিপোর্ট পেলে বাংলাদেশ ব্যাংক তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি তদন্ত করতে পারে। প্রকৃত ঘটনা হলে আগেই অর্থ আটক করতে পারে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি সন্দেহজনক লেনদেন বাড়ে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে। ওই অর্থবছরে ১ হাজার ১৮২টি সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পায় বিএফআইইউ, যা তার আগের অর্থবছরের তুলনায় ৯১ শতাংশ বেশি। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে এসটিআর আসে ৬১৯টি। এ ছাড়া ২০১৫-১৬ অর্থবছরে তার আগের অর্থবছরের তুলনায় সন্দেহজনক লেনদেন বাড়ে সাড়ে ৯ শতাংশ।
বিএফআইইউয়ের এক শীর্ষ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধে রিপোর্টিং সিস্টেম চালু রয়েছে। রিপোর্ট বেশি আসার অর্থ হচ্ছে ব্যাংকগুলো এ বিষয়ে অনেক বেশি সতর্ক। ব্যাংকগুলোর রিপোর্ট পাঠালে বিএফআইইউ দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারে।
এদিকে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধে দেশের ব্যাংকগুলোর সক্ষমতার বিষয়ে রেটিং প্রদান করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকগুলোর নাম প্রকাশ না করলেও কতগুলো ব্যাংকের প্রতিরোধ সক্ষমতা কতটুকু তা প্রকাশ করা হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে। মানিলন্ডারিং প্রতিরোধে ‘শক্তিশালী বা স্ট্রং’ মান পায়নি কোনো ব্যাংক। মাত্র ৩টি ব্যাংক ‘সন্তোষজনক’ মান পেয়েছে। ২৮টি ব্যাংকের মান ‘মোটামুটি ভালো বা ফেয়ার’। ২৪টি ব্যাংক ঝুঁকিপূর্ণ বা প্রান্তিক। সবচেয়ে খারাপ মান ‘অসন্তোষজনক’ ১টি ব্যাংক।

বাংলাদেশ থেকে অর্থপাচার ও অন্য দেশ থেকে পাচার হয়ে বাংলাদেশে অর্থ আসার ঘটনার বিষয়টি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের রিপোর্টে প্রকাশিত হচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকে ওই প্রতিবেদনে অর্থপাচার সংক্রান্ত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। মানিলন্ডারিং ও অর্থপাচার সংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদানের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। গত অর্থবছরে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিটের (এফআইইউ) কাছে তথ্য চেয়ে ৩১টি অনুরোধ পাঠিয়েছে বিএফআইইউ। তার আগের বছরে অনুরোধ পাঠায় ৩৫টি। গত অর্থবছরে বাংলাদেশের কাছে ১৭টি অনুরোধ পাঠিয়েছে বিভিন্ন দেশের এফআইইউ। তার আগের অর্থবছরে যা ছিল ২৮টি।
উল্লেখ্য, মানিলন্ডারিং ও তথ্য আদান-প্রদানের জন্য বিশ্বের ৫১টি দেশের এফআইইউয়ের সঙ্গে পারস্পরিক সমঝোতা চুক্তি রয়েছে বিএফআইইউয়ের। এর মধ্যে গত অর্থবছরে চুক্তি হয়েছে ৮টি দেশের সঙ্গে।

অর্থপাচার প্রতিরোধে ব্যাংকগুলোর ভূমিকা শক্তিশালী না হওয়ায় বৈধ চ্যানেলে বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর বিপুল পরিমান অর্থপাচার হয়ে যাচ্ছে। প্রতিনিয়ত পাচারের পরিমাণ বাড়ছে। পানামা পেপার্স, প্যারাডাইস পেপার্সে বাংলাদেশিদের নাম এসেছে। যেসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম এসেছে তারা আন্তর্জাতিক বৈধ বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত। বৈধ চ্যানেলের অদক্ষতার কারণেই পাচারকারীরা বিদেশে অর্থ নিয়ে যেতে সক্ষম হচ্ছে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ফিন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটির (ফিএফআই) প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০৫ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত এই দশ বছরে বাংলাদেশ থেকে ৭ হাজার ৫৮৫ কোটি মার্কিন ডলার পাচার হয়েছে। স্থানীয় মুদ্রায় এই পরিমাণ প্রায় ৬ লাখ ৬ হাজার ৮০০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ৭০ শতাংশ বা ৪৪ হাজার ৬১৫ কোটি ডলার আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য হয়েছে । ঋণপত্র খুলে (এলসি) ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে এই অর্থ লেনদেন হয়।


Spread the love
Tallu sinniping mills
Logo