Home bd news বাড়ল সয়াবিন তেলের দাম

বাড়ল সয়াবিন তেলের দাম

Logo
Logo
Image
tel
Staff Reporter

Published: 17:25:34
61
0

Spread the love

কর্পোরেট সংবাদ ডেস্কঃ কিছুদিন থেকে দেশের বাজারে ভোজ্যতেলের দাম স্থিতিশীল ছিল। তবে গতকাল সয়াবিন তেল ও পাম অয়েলের বাজার পরিস্থিতি বদলেছে। দুদিনের ব্যবধানে ভোজ্যতেলের পাইকারি বাজারে দাম মণপ্রতি সর্বোচ্চ ২০০ টাকা বেড়েছে। ভোজ্যতেলের হঠাৎ মূল্যবৃদ্ধির পেছনে সরবরাহ সংকটকে দায়ী করছেন পাইকারি ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি, বন্দরে আমদানি করা ভোজ্যতেল খালাসে কিছুটা জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে পাইকারি বাজারে পণ্যটির সরবরাহ কমে দাম বেড়েছে। আগামী দিনগুলোয় ভোজ্যতেলের সরবরাহ বেড়ে দাম কমে আসবে বলে মনে করছেন তারা।

গতকাল রাজধানীর পুরান ঢাকার মৌলভীবাজারে পাইকারি ভোজ্যতেল বাজার ঘুরে প্রতি মণ (৩৭ কেজি ৩২০ গ্রাম) খোলা সয়াবিন তেল মানভেদে ৩ হাজার ৩৫০ থেকে ৩ হাজার ৩৬০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়। এ হিসাবে প্রতি কেজি খোলা সয়াবিন তেলের দাম পড়ে মানভেদে ৮৯ টাকা ৭৬ পয়সা থেকে ৯০ টাকা ৩ পয়সা। বৃহস্পতিবার স্থানীয় বাজারে পণ্যটি মণপ্রতি ৩ হাজার ১৫০ থেকে ৩ হাজার ১৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। এ হিসাবে পণ্যটির কেজিপ্রতি দাম পড়েছিল ৮৪ টাকা ৪১ পয়সা থেকে ৮৪ টাকা ৬৭ পয়সার মধ্যে। সে হিসাবে দুদিনের ব্যবধানে পাইকারি বাজারে খোলা সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে মণে সর্বোচ্চ ২০০ টাকা। আর কেজিপ্রতি সর্বোচ্চ ৫ টাকা ৬২ পয়সা।

একই চিত্র দেখা গেছে সুপার পাম অয়েলের বাজারেও। গতকাল স্থানীয় বাজারে প্রতি মণ সুপার পাম অয়েল ২ হাজার ৭৩০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়। এ হিসাবে প্রতি কেজির দাম পড়ে ৭৩ টাকা ১৫ পয়সা। বৃহস্পতিবার স্থানীয় বাজারে পণ্যটি মণপ্রতি ২ হাজার ৭০০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। এ হিসাবে প্রতি কেজির দাম পড়ে ৭২ টাকা ৩৫ পয়সা। অর্থাৎ দুদিনের ব্যবধানে পাইকারি পর্যায়ে পণ্যটির দাম বেড়েছে মণে ৩০ টাকা, আর কেজিতে ৮০ পয়সা।

স্থানীয় ভোজ্যতেল ব্যবসায়ী মেসার্স শুভ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী সাইফুল ইসলাম জানান, হঠাৎ করেই সরবরাহ সংকট দেখা দেয়ায় পাইকারি বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ভোজ্যতেল ব্যবসায়ী সমিতির সহসভাপতি মোহাম্মদ আলী ভুট্টো বলেন, বন্দরে পণ্য খালাসে জটিলতার কারণে পাইকারি বাজারে ভোজ্যতেলের সরবরাহ সংকট দেখা দিয়েছে। এটা পণ্যটির দাম বাড়ার পেছনে ভূমিকা রেখেছে। আগামী দু-তিনদিনের মধ্যে ভোজ্যতেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে আসবে।

এদিকে বাংলাদেশ ভোজ্যতেল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজি আবুল হাসেম বলেন, পাইকারি বাজারে সরবরাহ সংকটের কারণে ভোজ্যতেলের দাম বাড়লেও পরিবেশক পর্যায়ে বাড়েনি। পরিবেশক পর্যায়ে আগের দামেই পণ্যটি বিক্রি হচ্ছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে ভোজ্যতেলের বার্ষিক চাহিদা ১৫-১৮ লাখ টন। বিপুল পরিমাণ চাহিদার বিপরীতে ভোজ্যতেলের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন দুই থেকে চার লাখ টন। ফলে পণ্যটির বাড়তি চাহিদার কারণে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে আমদানির ওপর নির্ভর করতে হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে গত দু-তিন মাসের ব্যবধানে সয়াবিন তেলের দাম কমেছে।

২০১৭ সালের নভেম্বরে শিকাগো বোর্ড অব ট্রেডে (সিবিওটি) প্রতি মণ সয়াবিন তেলের গড় দাম ছিল ৮৮১ মার্কিন ডলার। ডিসেম্বরে তা কমে দাঁড়ায় মণপ্রতি ৮৬১ ডলারে। তবে শীত মৌসুমের কারণে দেশের বাজারে পাম অয়েলের চাহিদা কমে গেছে। এর বিপরীতে সয়াবিন তেলের চাহিদা বেড়েছে। এ কারণে বেচাকেনা বেশি হওয়ায় পণ্যটির বাজারে কিছুটা তেজিভাব বজায় ছিল। এর মধ্যে খালাস জটিলতায় হঠাৎ করে সরবরাহ কমে দাম বেড়েছে।


Spread the love
Tallu sinniping mills
Logo