Home bd news চীনের পরিবর্তে মালয়েশিয়ার অর্থায়নে ঝুঁকছে সরকার

চীনের পরিবর্তে মালয়েশিয়ার অর্থায়নে ঝুঁকছে সরকার

Logo
Logo
Image
sorkar
Staff Reporter

Published: 11:20:33
102
0

Spread the love

কর্পোরেট সংবাদ ডেস্কঃ মেঘনা নদীর ওপর আরেকটি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ রয়েছে। এ ছাড়া সাভার থেকে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত একটি উড়ালসড়ক নির্মাণ করা হবে। এর নাম দেওয়া হয়েছে ইস্ট-ওয়েস্ট এক্সপ্রেসওয়ে। পৃথক দুটি প্রকল্প চীনের অর্থায়নে বাস্তবায়নের কথা। কিন্তু আশ্বাসের পরও সহায়তার ব্যাপারে কূলকিনারা না হওয়ায় এবার মালয়েশিয়ার অর্থায়নে প্রকল্প দুটি বাস্তবায়নের দিকে হাঁটছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে মালয়েশিয়ার হাইকমিশনে চিঠি দিয়েছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)। এর আগে প্রকল্প দুটিতে অর্থায়নে আগ্রহ ব্যক্ত করে চিঠি দিয়েছিল মালয়েশিয়া।

ইআরডির পক্ষ থেকে লেখা চিঠিতে ঢাকা ইস্ট-ওয়েস্ট এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণ ব্যয় বাবদ ১৬৭৩.৫৬ মিলিয়ন ডলার এবং ভুলতা-আড়াইহাজার-বাঞ্ছারামপুর-নবীনগর সড়কে মেঘনা নদীর ওপর সেতু নির্মাণে ১৮২.৪৩ মিলিয়ন ডলার অর্থ সহায়তা চাওয়া হয়েছে। সম্প্রতি মালয়েশিয়ার হাইকমিশনারের কাছে এ চিঠি পাঠানো হয়।

এ বিষয়ে জানতে সেতু বিভাগের সিনিয়র সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামের সঙ্গে দেখা করতে গেলে আপত্তি জানান সেতু কর্তৃপক্ষের উপ-পরিচালক (প্রশাসন) মনিরুল আলম। তিনি বলেন, সচিবের নিষেধ রয়েছে।

সূত্রমতে, সম্প্রতি ইস্ট-ওয়েস্ট এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের (প্রিলিমিনারি ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজাল (পিডিপিপি) অনুমোদন দিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন। এটিতে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ বিলিয়ন ডলার। আর মেঘনা নদীর ওপর বিকল্প সেতু নির্মাণ প্রকল্পের পিডিপিপি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে আগে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২৫০ মিলিয়ন ডলার। প্রকল্প দুটি বাস্তবায়ন হবে সেতু বিভাগের অধীনে। প্রথমে চীনের অর্থায়নে প্রকল্প বাস্তবায়নের চিন্তা ছিল। এ নিয়ে দীর্ঘদিন চিঠি চালাচালি চলে। কিন্তু পরে বেশি দূর না এগোনোয় বিকল্প পথের চিন্তা শুরু করে সরকার। এ বাস্তবতায় মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে প্রস্তাব আসায় তাতে সম্মতি জানিয়ে চিঠি দিল ইআরডি।

সেতু বিভাগের তথ্যমতে, বিকল্প মেঘনা সেতুটি নির্মাণ হলে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, সিলেটসহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলার যোগাযোগ আরও সহজ হবে। ফলে সংযুক্ত হবে ঢাকা সংলগ্ন নারায়ণগঞ্জের ভুলতা থেকে আড়াইহাজার হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর সড়ক। দুই কিলোমিটার দীর্ঘ প্রস্তাবিত এ সেতুটি নির্মাণ হবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রান্তে কড়িয়াকান্দি এবং ঢাকার প্রান্তে থাকছে গোপালদি নামক স্থানে। এটি নির্মাণ হলে কুমিল্লার হোমনা, তিতাস, মুরাদনগর এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরসহ আটটি উপজেলার যোগাযোগ সহজ হবে। শুধু তাই নয়, এর ফলে সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্প বাংলাদেশ-ভারত (আখাউড়া-আগরতলা) যোগাযোগ আরও সহজ হবে। কমে যাবে অন্তত ২৭ কিলোমিটার দূরত্ব।

এদিকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক থেকে উড়ালপথে (এলিভেটেড) যুক্ত হবে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক। মাঝে এটি যুক্ত করবে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ককেও। ঢাকার বাইরে দিয়ে তিন মহাসড়ককে যুক্ত করবে প্রস্তাবিত এক্সপ্রেসওয়েটি। মূলত ঢাকার পশ্চিম দিকের যানবাহনকে আরিচা থেকে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের কেরানীগঞ্জ দিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জকে যুক্ত করবে এই এক্সপ্রেসওয়ে।

সাভার থেকে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত প্রস্তাবিত এক্সপ্রেসওয়েটি ছাড়াও সাভারে একটি ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হবে। এর নাম দেওয়া হয়েছে ইস্ট-ওয়েস্ট এক্সপ্রেসওয়ে। দৈর্ঘ্য হবে ৩৯ দশমিক ২৪ কিলোমিটার। এটি জয়দেবপুর, টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ থেকে আসা যানবাহনকে ঢাকার বাইরে দিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও পদ্মা সেতুর পথে যুক্ত করবে। টোল দিয়ে এক্সপ্রেসওয়েটিতে যানবাহন চলতে পারবে। এতে দৈনিক গড়ে ২৭ থেকে ৩৩ হাজার যানবাহন চলাচল করতে পারবে। এর বাইরে সাভারের ট্রাফিক অবস্থার উন্নয়নে সাভার থেকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক পর্যন্ত তিন দশমিক ৬৩ কিলোমিটারের একটি ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হবে।


Spread the love
Tallu sinniping mills
Logo