Home bd news চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদনে ব্যর্থ বেঙ্গল টেক্সটাইল

চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদনে ব্যর্থ বেঙ্গল টেক্সটাইল

mil
Staff Reporter

Published: 12:49:42
56
0

image_pdfimage_print

ডেক্স রিপোর্ট: শ্রমিক সংকটের কারণে সক্ষমতা ও বাজার চাহিদা অনুযায়ী পূর্ণ বাণিজ্যিক উৎপাদনে যেতে পারছে না যশোরের নওয়াপাড়ায় অবস্থিত বেঙ্গল টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড। মিলটিতে প্রতিদিন পাঁচ টন সুতার বাজার চাহিদা রয়েছে। কিন্তু উৎপাদন হচ্ছে মাত্র দেড় থেকে দুই টন সুতা। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে ৩০০ টন সুতা উৎপাদন হয়েছে। অর্ধেক শ্রমিক নিয়ে বাণিজ্যিক উৎপাদনে যেতে না পারায় আর্থিকভাবে লোকসানে পড়ছে মিলটি। প্রতি মাসে ৫ লাখ টাকা ভর্তুকি দিয়ে মিল চালাতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে।

বেঙ্গল টেক্সটাইল মিলটি বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশনের নিয়ন্ত্রণাধীন। জানা গেছে, ২০১২ সালের ১ জানুয়ারি লোকসানের কথা বলে মিলটির তত্কালীন ইজারা গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন ইয়ার্ন এজেন্সি লিমিটেড প্রতিষ্ঠানটি চালু রাখতে অপরাগতা প্রকাশ করে। ফলে বিটিএমসি মিলটি সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করতে বাধ্য হয়। পরবর্তীতে বলয় সাহা নামে এক ব্যবসায়ীকে মিলটির ইজারা দেয়া হয়।

ইজারা নেয়া ব্যবসায়ী বলয় সাহা জানান, ২০১৩ সালে মিলটি চালুর পর শ্রমিকরা বেতন বাড়ানোর দাবি তোলেন। আগে তারা প্রতিদিন ১১০ টাকা করে মজুরি পেতেন। কিন্তু পরে তারা প্রতিদিন ১৬০ টাকা মজুরির দাবি করেন। দাবি অনুযায়ী মজুরি না পাওয়ায় মিলের সাড়ে ৫০০ শ্রমিকের মধ্যে মাত্র ৩০০ জন কাজে যোগ দেন। পরে এ সংখ্যা আরো কমে যায়। বর্তমানে মিলটিতে মাত্র আড়াইশ শ্রমিক কাজ করছেন, যা মিলের সক্ষমতা ও চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদনের জন্য যথেষ্ট নয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বেঙ্গল টেক্সটাইল মিলে সুতা উৎপাদন হয়েছিল ৭২০ টন। গত অর্থবছরে (২০১৬-১৭) তা নেমে আসে ৬০০ টনে। আর চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে সুতা উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৩০০ টন।

বেঙ্গল টেক্সটাইল মিলের মহাব্যবস্থাপক সাইফুর রহমান জানান, সুতার বাজারে আমাদের প্রতিদিন পাঁচ টনের মতো চাহিদা রয়েছে। কিন্তু আমরা উৎপাদন করতে পারছি মাত্র দেড় থেকে ২ টন। এখন বেশির ভাগ শ্রমিক কৃষিকাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। আমাদের মিলে ৫০০ শ্রমিকের চাহিদা থাকলেও বর্তমানে কাজ করছেন মাত্র ২৫০ জন। এ কারণে চাহিদা অনুযায়ী সুতা উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না। এতে মাসে ৫ লাখ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিল বেড়ে যাওয়ায় লোকসানের পরিমাণ আরো বেড়েছে। শ্রমিকদের পেছনে মাসে ১৪ লাখ টাকা ব্যয় হলেও লাভের মুখ দেখছে না প্রতিষ্ঠানটি।

বণিক বার্তা

Print Friendly, PDF & Email