Home bd news এমডি পদ হারিয়ে বেকার ৮ ব্যাংকার

এমডি পদ হারিয়ে বেকার ৮ ব্যাংকার

Logo
Logo
Image
Untitled
Senior Staff Reporter (SM)

Published: 09:45:43
185
0

Spread the love

ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতে দক্ষ ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) তীব্র সংকট রয়েছে। তারপরও চাকরি হারিয়ে বেকার হয়ে পড়েছেন আটজন এমডি। তাদের মধ্যে চারজন এমডি পেশাগতভাবে অত্যন্ত দক্ষ। তাদের রয়েছে বর্ণাঢ্য কর্মজীবন। তারপরও নানা ঘটনায় তারা চাকরি হারিয়েছেন। বাধ্য হয়ে কাটাচ্ছেন অবসর জীবন।

জানা গেছে, এমডি পদে থাকার জন্য নির্ধারিত বয়স থাকলেও এরই মধ্যে চাকরি হারিয়েছেন ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন এবিবির সাবেক চেয়ারম্যান ও নতুন প্রজন্মের মেঘনা ব্যাংকের সাবেক এমডি মোহাম্মদ নূরুল আমিন। ইসলামী ব্যাংককে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করলেও চাকরি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন ব্যাংকটির এমডি মোহাম্মাদ আবদুল মান্নান। একইভাবে চাকরি হারানোর তালিকায় নাম লিখেছেন এনসিসি ব্যাংকের গোলাম হাফিজ আহমেদ, প্রাইম ব্যাংকের আহমেদ কামাল খান চৌধুরী ও সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের (এসআইবিএল) সহিদ হোসেন। এছাড়া জিএসপি ফাইন্যান্সের এমডি ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মামুন মাহমুদ শাহ পর্ষদ চেয়ারম্যানের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পদ ছেড়ে এখন বেকার জীবন কাটাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পদে থাকার যোগ্যতা থাকলেও মালিকানা পরিবর্তনের কারণে চাকরি হারিছেন দুজন এমডি। পর্ষদের সঙ্গে দ্বন্দ্বের কারণে চাকরি হারিয়েছেন চার এমডি। আর পর্ষদের সঙ্গে অনিয়মে জড়িয়ে পরার কারণে বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে চাকরি খুইয়েছেন দুজন এমডি।

বিশিষ্ট ব্যাংকার মোহাম্মদ নূরুল আমিন টানা ৪১ বছর ব্যাংক খাতে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। সর্বশেষ তিনি মেঘনা ব্যাংকের এমডি ছিলেন। এর আগে এনসিসি ব্যাংকেরও এমডি হিসেবে দক্ষতার ছাপ রেখেছেন বলে মনে করছেন ব্যাংকাররা। পর্ষদের চাহিদা পূরণ করতে না পারার কারণে তিনি গত ২০ নভেম্বর মেঘনা ব্যাংকের এমডির পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এখন তিনি বেকার জীবন কাটাচ্ছেন। সুযোগ পেলে তিনি ভালো কোনো ব্যাংকের দায়িত্ব নেবেন বলে জানা গেছে।

গতকাল রোববার কথা হয় প্রবীণ এ ব্যাংকারের সঙ্গে। ব্যাংক খাতে সুশাসনের অনেক ঘাটতি রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পেশাগত কাজের ব্যস্ততায় যেসব কাজ করার সুযোগ হয়নি, সেসব কাজ করে এখন সময় পার হচ্ছে। জীবনের এমন সময়টা বেশ উপভোগ করছি। ব্যাংকিং নীতিমালা অনুযায়ী আমার আরও ১১ মাস চাকরি করার সুযোগ ছিল। কিন্তু পরিস্থিতির কারণে সেটা আর হয়ে ওঠেনি।

এমডিদের সুরক্ষায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিমালা প্রসঙ্গে নূরুল আমিন বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক এমডিদের সুরক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু এ কাজটি আরও ভালো করার সুযোগ আছে। যে নীতিমালা আছে, তার মধ্য থেকেই ব্যাংক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারে। নতুন করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোনো নিয়মনীতি করার প্রয়োজন নেই বলে মনে করেন ব্যাংক খাত থেকে সম্প্রতি বিদায় নেওয়া এই ব্যাংকার।

জানা গেছে, বেসরকারি খাতের সবচেয়ে বড় ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকে গত বছরের প্রথম দিকে পরিচালনা পর্ষদে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। মালিকানায় পরিবর্তনের পরে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে সরে দাঁড়ান মোহাম্মাদ আবদুল মান্নান। দীর্ঘদিন এমডি পদে দায়িত্ব পালন করে সব সূচকেই ব্যাংকটিকে এগিয়ে রাখতে তিনি দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। অভিজ্ঞ এই ব্যাংকার এখন দেশের বাইরে বেকার জীবন কাটাচ্ছেন বলে সূত্রে জানা গেছে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমদ বলেন, সিনিয়র ব্যাংকারদের ঘাটতি একটা বড় সংকট। মনে হচ্ছে ভবিষ্যতেও এ কারণে অসুবিধা হবে। এ ক্ষেত্রে সিনিয়র ব্যাংকারদেরও দায় আছে। তারা অনেকে জুনিয়রদের প্রশিক্ষিত করার চেয়ে নিজেদের চুক্তির দিকে বেশি মনোযোগী ছিলেন। এখন শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে, যা হয়েছে তা তো আর ফিরিয়ে আনা যাবে না। এখন মধ্যম পর্যায়ের ভালো ব্যাংকারদের বাছাই করে গড়ে তুলতে হবে আগামী দিনের জন্য। তবে ব্যাংকের সংখ্যা বাড়ানো কিছুতেই ঠিক হবে না। এ ক্ষেত্রে বিআইবিএম ও আইবিবির মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর বড় ভূমিকা পালন করতে হবে।

গত অক্টোবরে বেসরকারি খাতের এসআইবিএলের পরিচালনা পর্ষদে হঠাৎ বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়। এর ফলে এমডির পদ ছাড়তে হয় সহিদ হোসেনকে। এর কয়েক মাস আগে সাউথইস্ট ব্যাংক থেকে এসআইবিএলের এমডি হিসেবে যোগদান করেন এই ব্যাংকার। মালিকানা পরিবর্তনের কারণে তিনি এখন কর্মহীন। কাঙ্খিত ব্যাংক ও পদ না পাওয়ায় তিনি কোথায়ও যোগদান করতে পারছেন না বলে জানা গেছে।

এদিকে আরও দেড় বছর এমডি পদে থাকার সুযোগ ছিল এনসিসি ব্যাংকের সদ্য বিদায়ী ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম হাফিজ আহমেদের। গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে তার তিন বছরের চুক্তি শেষ হয়। পর্ষদের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে এমডি পদ থেকে তিনি আর পুনঃনিয়োগ পাননি বলে জানা গেছে। বেকার অবস্থায় থাকা বিশিষ্ট এই ব্যাংকার সুযোগ পেলে আবারও ব্যাংক খাতে ফেরার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

এ প্রসঙ্গে গোলাম হাফিজ আহমেদ বলেন, সারা জীবন কাজ করেছি। এখন পরিস্থিতির কারণে এখন বেকার। ফলে অবসর জীবন যাপন করছি। সুযোগ হলে আবারও কাক্সিক্ষত কোনো ব্যাংকে কাজ করব। ব্যাংক খাতে দক্ষ জনবলের তীব্র সংকট তো রয়েছেই। এ খাতের আমানত ও মালিকানা যেহেতু সাধারণ মানুষ, সেহেতু এখানে অভিজ্ঞ লোকের কোনো বিকল্প নেই। আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা অনেক ক্ষমতাবান। পর্ষদে আরও স্বচ্ছতা আনার জন্য ব্যাংলাদেশ ব্যাংকের নজরদারি আরও বাড়ানো উচিত। তবে নির্বাহী ও পর্ষদের মাঝে দূরত্ব কমিয়ে আনতে পারলে ব্যাংক খাতের সুশাসন বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করেন তিনি।

বেসরকারি খাতের প্রাইম ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমেদ কামাল খান চৌধুরীর চাকরির বয়সসীমা থাকা সত্ত্বেও এমডি পদে নেই। পরিচালনা পর্ষদ ব্যাংকটির বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাজে সন্তুষ্ট নয়। তার দায়িত্বকালে বড় ধরনের কোনো সফলতা দেখাতে পারেননি, পাশাপাশি পর্ষদকে খুশি রাখতেও পারেননি, যার কারণে তাকে বিদায় নিতে হয়েছে। এখন তিনি কর্মহীন হয়ে পড়েছেন বলে জানা গেছে।

এ সম্পর্কে প্রাইম ব্যাংকের সদ্য বিদায়ী এমডি আহমেদ কামাল খান চৌধুরী বলেন, ১৩ ডিসেম্বর আমার চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে। পর্ষদ চাইলে এমডি পদে আমাকে রাখতে পারত। তবে নতুনদের সুযোগ দেওয়া হয়েছে, এটা ইতিবাচক। নতুনদের মধ্যেও অনেক দক্ষ ব্যাংকার তৈরি হয়েছে। প্রাইম ব্যাংকের পর্ষদ সবসময় নতুনদের সুযোগ দেয় বলে জানান এই ব্যাংকার।

জানা গেছে, ব্যাংক ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুরক্ষায় ২০১৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর পরিপত্র জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ‘ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীর নিযুক্তি ও দায়দায়িত্ব সম্পর্কিত বিধিবিধান’ শীর্ষক ওই নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীকে পরিচালনা পর্ষদ অপসারণ অথবা তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করতে চাইলেও ‘প্রকৃত কারণ উল্লেখপূর্বক’ কমপক্ষে এক মাস আগে বাংলাদেশ ব্যাংককে অবহিত করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়া নিয়োগ চুক্তি বাতিল কিংবা প্রধান নির্বাহীকে পদত্যাগে বাধ্য করানো যাবে না। যদিও সম্প্রতি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে এমডি ও প্রধান নির্বাহীদের পদত্যাগের ক্ষেত্রে এর কোনোটিই মানা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে দায়িত্বে অবহেলা ও অনিয়মের দায়ে ফারমার্স ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এ কে এম শামীমকে অপসারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংক কোম্পানি আইনের ৪৬ ধারা অনুযায়ী গত বছরের শেষ দিকে তাকে অপসারণ করা হয়। এরপর থেকে তিনি বেকার বলে জানা গেছে। অন্যদিকে অনিয়ম-দুর্নীতি প্রমাণিত হওয়ায় এর আগে গত ৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক অপসারিত হন এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের এমডি দেওয়ান মুজিবর রহমান। এ বিষয়ে তিনি আইনের আশ্রয় নিলেও আদালতের রায় বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে যায়। এর ফলে এই ব্যাংকারও এখন কর্মহীন।

বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও ঢাকা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বেসরকারি কয়েকটি ব্যাংকে মালিকানা (পরিচালনা পর্ষদ) এবং ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন হচ্ছে। এতে ব্যাংকের শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ে, বিষয়টি নিয়ে আমরা আতঙ্কিত। পরিবর্তন হতেই পারে, তবে তা যেন আকস্মিকভাবে না হয়, এতে আমরা ও বিনিয়োগকারীরা ভীত হই। যেই পরিবর্তনই আসুক সুন্দরভাবে হবে, যাতে সবার কাছে গ্রহণযোগ্যতা পায় এবং বিনিয়োগকারীরা যাতে ব্যাংকের ওপর আস্থা না হারায়।

এদিকে আর্থিক খাতের জিএসপি ফাইন্যান্সের এমডি ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মামুন মাহমুদ শাহ পর্ষদ চেয়ারম্যানের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পদ ছেড়ে এখন বেকার জীবন কাটাচ্ছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নভেম্বরে প্রতিষ্ঠানটি ছেড়ে এসেছি। পর্ষদ চেয়ারম্যানের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হওয়ার কারণে আমি এমডির পদ থেকে পদত্যাগ করি। এখন কোথায় যোগদান করেনি। তবে ভালো কোথায়ও শিগগিরই যোগদান করতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এ বিষয়ে সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের সদ্য বিদায়ী নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র শুভঙ্কর সাহা বলেন, ব্যাংক কোম্পানি আইন ও বাংলাদেশ ব্যাংকের বিধিবিধান অনুযায়ী যে কাজগুলো করা দরকার, আমরা তা করছি। সূত্র: শেয়াার বিজ


Spread the love
Tallu sinniping mills
Logo