Home bd news বিপিসির পেট্রোলিয়াম পণ্যের বিক্রয় প্রবৃদ্ধি ১১%

বিপিসির পেট্রোলিয়াম পণ্যের বিক্রয় প্রবৃদ্ধি ১১%

bpc
Senior Staff Reporter (SM)

Published: 12:03:36
92
0

image_pdfimage_print

দেশে কৃষি উৎপাদন, শিল্প প্রতিষ্ঠান, বিদ্যুৎ উৎপাদন, পরিবহন এবং গৃহস্থালি ও অন্যান্য কাজে জ্বালানির ব্যবহার বেড়েছে ১০ দশমিক ৭৪ শতাংশ। গত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের বিপণনকৃত ১৩ ধরনের জ্বালানির মোট বিক্রির পরিমাণ ছিল ৫৮ লাখ ৮৮ হাজার ৭৩০ মেট্রিক টন, যা এর আগের অর্থবছরে ছিল ৫২ লাখ ৫৬ হাজার ২০ মেট্রিক টন। অর্থাৎ এক বছরে দেশে জ্বালানি পণ্যের বিক্রি বেড়েছে ছয় লাখ ৩২ হাজার ৭১০ মেট্রিক টন। গত অর্থবছরে অকটেন, পেট্টোল, ডিজেল, ফার্নেস অয়েল, জেট এ-১ ও  বিটুমিনের বিক্রি বেশি বেড়েছে। চলতি বছরেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিপিসির পরিচালক (বিপণন) মীর আলী রেজা শেয়ার বিজকে বলেন, ‘আগের বছরের তুলনায় তেল বিক্রি বৃদ্ধিরও বেশ কয়েকটি কারণ আছে। এর মধ্যে দেশের বিদ্যুৎকেন্দ্রে আগের চেয়ে বেশি তেল ব্যবহার করা হচ্ছে। আর আগে বেসরকারি রিফাইনারিগুলো অবৈধভাবে তেল খোলাবাজারের বিক্রি করে দিত, কিন্তু বিপিসি কঠোরভাবে এ চুরি রোধ করার ফলে তেল জমার পরিমাণ বেড়েছে। ফলে আমাদের মোট বিক্রি বেড়েছে।’

বর্তমানে বিপিসির বিপণনকৃত ১৩ ধরনের জ্বালানি রয়েছে। এগুলো হচ্ছেÑপেট্রল, কোরোসিন, ফার্নেস অয়েল, জেবিও, লুব অয়েল, এসবিপি, এমবিপি, এলপিজি, বিটুমিন, ডিজেল, জেট এ-১, অকটেন ও এলডিও।

বিপিসি সূত্রমতে, গত অর্থবছরে মোট জ্বালানি পণ্য বিক্রির মধ্যে ছিল অকটেন এক লাখ ৮৬ হাজার ৯১১ মেট্রিক টন, পেট্রোল দুই লাখ ৩২ হাজার ৩৫৯ মেট্রিক টন, ডিজেল চার লাখ ৪৪ মেট্রিক টন, কেরোসিন এক লাখ ৭০ হাজার ৯৯৩ মেট্রিক টন, জেট ফুয়েল তিন লাখ ৭৬ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন, ফার্নেস অয়েল আট লাখ ছয় হাজার ৪৪০ মেট্রিক টন, বিটুমিন ৫৫ হাজার ২৮ মেট্রিক টন,  জেবিও ১৭ হাজার ১৩৩ মেট্রিক টন, লুব অয়েল ১৮ হাজার ৭৫২ মেট্রিক টন, এলপিজি ১৬ হাজার ৩৭০ মেট্রিক টন, এসবিপিএস ৮৬৫ মেট্রিক টন এবং এমটিটি ছয় হাজার ৪৭৫ মেট্রিক টন ও এলডিও ৬৬০ মেট্রিক টন। আর এসব জ্বালানি পণ্য বিক্রিতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের আয়কর-পরবর্তী মুনাফার পরিমাণ ছিল চার হাজার ৫৫১ কোটি এক লাখ ৮১ হাজার ৭৩০ টাকা।

বিপিসির পণ্যভিত্তিক বিক্রয় তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০১৫-১৬ অর্থবছরের তুলনায় গত অর্থবছরে বিপিসির মোট ১১টি জ্বালানি পণ্যের বিক্রি বেড়েছে এবং দুটির বিক্রি কমেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিক্রি বেড়েছে ডিজেল, পেট্রল, অকটেন, ফার্নেস অয়েল, জেট এ-১ ও বিটুমিনের। এর মধ্যে ডিজেলের বিক্রি ছিল চার লাখ ৪৪ মেট্রিক টন, যা এর আগের অর্থবছরের ছিল ৩৬ লাখ ছয় হাজার ৪০৪ মেট্রিক টন। অপরদিকে কেরোসিনের বিক্রি ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ছিল দুই লাখ ১৩ হাজার ৬৮৫ মেট্রিক টন। আর সমাপ্ত অর্থবছরে বিক্রি হয়েছে এক লাখ ৭০ হাজার ৯৯৩ মেট্রিক টন।

জ্বালানি ব্যবহারকারীদের মতে, ভারী শিল্পের জন্য অবশ্যই গ্যাস দরকার, কিন্তু এর বিকল্প অন্যান্য জ্বালানির ব্যয় বেশি। অনেক উদ্যোক্তার পক্ষে এই অতিরিক্ত ব্যয় বহন করা সম্ভব নয়। এছাড়া পেট্রোলিয়িাম জ্বালানি পণ্যগুলো মূলত কৃষি উৎপাদনে, শিল্প প্রক্রিয়ায়, বিদ্যুৎ উৎপাদনে, পরিবহনে ও গৃহস্থালির কাজে বেশি ব্যবহার করা হয়। আর এসব খাতের সঙ্গে সিংহভাগ জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন জড়িত। এদের মধ্যে অনেকে দরিদ্র, মধ্যবিত্ত ও গ্রামাঞ্চলে বসবাসকারী। এক্ষেত্রে ডিজেল ও কেরোসিনের মূল্য হ্রাস করা হলে এসব জনগোষ্ঠীর বেশিরভাগ উপকারভোগী হবেন।

এছাড়া বিদ্যুৎ খাত বিশেষ করে ইন্ডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রোডাক্ট, রেন্টাল পাওয়ার প্লান্ট এবং কুইক রেন্টাল পাওয়ার প্লান্টে ডিজেল ব্যবহার করা হচ্ছে। ফার্নেসের মতো ডিজেলচালিত বিদ্যুৎ প্লান্টের উৎপাদন ব্যয় অনেক বেশি। ফলে ডিজেলের দাম কমলেও উৎপাদন ব্যয় ও সরকারের দেওয়া ভর্তুকি কমবে। সুফল পাবেন কৃষিতে ডিজেলচালিত পাম্প ব্যবহারকারী কৃষক। এ প্রসঙ্গে নাম প্রকাশে অনচ্ছিুক দেশের বেসরকারি এক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উদ্যোক্তা বলেন, বর্তমান বাজার পরিস্থিতি ও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ বিবেচনায় জ্বালানি তেলের দাম কমানো যেতে পারে। এতে দেশের উন্নয়ন দ্রুত ও গতিশীল হবে, যার সুফল সাধারণ জনগণ ভোগ করবে।

হাবিব গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান রিজেন্ট টেক্সটাইলের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা এ কে ভট্টাচার্য্য শেয়ার বিজকে বলেন, ‘বিনিয়োগকারীরা নতুন করে শিল্প স্থাপনে আগ্রহী হচ্ছে না। বৃহৎ উৎপাদনশীল শিল্পে হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ অলস পড়ে আছে কেবল গ্যাস না পাওয়ায়। চট্টগ্রামে শিল্পে নতুন বিনিয়োগ না হওয়ার পেছনে অনেক কারণের মধ্যে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় কারণ হলো জ্বালানি সংকট।’

একই প্রসঙ্গে বিকেএমইএ চট্টগ্রাম অঞ্চলের স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান শওকত ওসমান শেয়ার বিজকে বলেন, ‘বিনিয়োগকে সবচেয়ে বেশি বাধাগ্রস্ত করেছে গ্যাস সংকট। এছাড়া দেশের বাজারের জ্বালানি তেলের উচ্চ মূল্যের কারণে ব্যবসায়ী-শিল্পপতিদের ডুয়িং বিজনেস কস্ট বেশি হয়ে যাচ্ছে।’

Print Friendly, PDF & Email

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.