Home bd news বিদেশি বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ উৎকৃষ্ট জায়গা: অর্থমন্ত্রী

বিদেশি বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ উৎকৃষ্ট জায়গা: অর্থমন্ত্রী

Beximco-Synthetic-Logo
Beximco-Pharma
Beximco-Synthetic-Logo
abul-mal
Staff reporter (s)

Published: ডিসেম্বর ৬, ২০১৭ ০৯:৪৭:০৩
88
0

বিদেশি বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ এখন উৎকৃষ্ট জায়গা বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বলেন, বাংলাদেশ বিনিয়োগের জন্য উৎকৃষ্ট জায়গা। ২০১৫ সালের পর থেকে দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রয়েছে। যা বিনিয়োগের জন্য সহায়ক।

গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সৌদি আরবের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। অপরদিকে সৌদি আরবের বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, আমরা বলেছি সব ক্ষেত্রে তাদের (সৌদি ব্যবসায়ী) সহযোগিতা করব। সভায় শুরুতে প্রেজেনটেনশনের মাধ্যমে বাংলাদেশে বিনিয়োগের পরিবেশ ও বিভিন্ন খাত সম্পর্কে প্রতিনিধি দলকে অবহিত করা হয়। দেশটির ইন্টারন্যাশনাল মার্কেটিং ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি গ্রুপ, এলপিডি’র এক্সিকিউটিভ প্রেসিডেন্ট মুসাহেব আবদুল্লাহ আল কাতানির নেতৃত্বে ১৭ সদস্যের একটি সৌদি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফরে এসেছেন। সভায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এবং দুই মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সৌদি আরবের ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও সারসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়েছে। এ বিষয়ে আজ বুধবার বাংলাদেশের ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই করবেন।

সভা শেষে অর্থমন্ত্রী বলেন, চলতি বছর আমাদের দেশে বিদেশি বিনিয়োগ বেড়েছে। গত বছর বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার, যা বেড়ে চলতি বছর ২ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। সৌদি আরবসহ অনেক দেশ বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছে। তারা বিনিয়োগ করতে চাইলে তাদের স্বাগত জানাই। সেক্ষেত্রে তাদের কোনো সমস্যা হবে না। তিনি আরও বলেন, যদি সৌদি আরব বিনিয়োগ করতে চায়, তাহলে এ মুহূর্তে আমরা শিল্পে বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে পারবো। তবে গ্যাস পেতে হলে আগামী বছরের সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। কারণ তখন আমাদের এলএনজি আমদানি শুরু হবে।

সৌদি আরবের ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, কেউ যদি বাংলাদেশে বিনিয়োগ করে তাহলে তারা লাভবান হবেন। কারণ আমরা বেশিরভাগ উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশ থেকে শুল্ক ও কোটামুক্ত বাণিজ্য সুবিধা পাই। এখানে বিনিয়োগ করে অন্য দেশে পণ্য রফতানিতে শুল্ক ও কোটামুক্ত বাজার সুবিধা পাবেন। তিনি আরও বলেন, আমরা ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলছি। সৌদি আরব চাইলে যে কোনো একটি অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগ করতে পারে। (বাংলাদেশে বিনিয়োগে) আমরা সব ক্ষেত্রে তাদের (সৌদি ব্যবসায়ী) সহযোগিতা করব।

অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, তারা (সৌদি প্রতিনিধি দল) এসেছেন আমরা অত্যন্ত খুশি। ইতোমধ্যে তাদের সঙ্গে ব্যবসা বাণিজ্য অনেক আছে, কিন্তু সেটা খুব বেশি স্ট্রাকচারড না। একটু ইনডিভিজুয়াল এফোর্ডের উপর নির্ভরশীল ছিল। তিনি বলেন, আমাদের প্রত্যাশা ছিল ইট সুড স্ট্রাকচারড, এতে এক্সপানশন বিজনেসটা অনেক বেশি হয়। এখানে অনেক পার্টির সঙ্গে দেখা সাক্ষাৎ হল, সুতরাং সেখানে সুবিধা হল। অন্য সুবিধা যেটা হল- একজন অভিযোগ করল আমাদের এত প্রোডাক্ট-টোডাক্ট আছে এগুলো আমরা তত প্রচার করি না। আমাদের পরিচিতি সিম্পল গার্মেন্টস দিয়ে। কিন্তু এখন আমরা এতভাবে ডাইভারসিফাইড হয়েছি যে আমাদের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যথেষ্ট এক্সপোর্ট ক্যাপাবিলিটি আছে। সেদিক দিয়ে এটি উল্লেখযোগ্য ভিজিট হয়েছে বলে আমরা মনে করি। অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, যথেষ্ট এগ্রিমেন্টস হয়েছে এর ফলাফল যেটা হবে আমরা আশা করব- এক্সপানশন অব ট্রেড বিটুইন টু কান্ট্রিস। ওই যে একটা ধারণা তাদের থেকে তেল আনি আর তারা আমাদের কাছ থেকে গার্মেন্টস নেয়- এটা যেন না থাকে। ইট সুড বি চেইঞ্জড। ডাইভারসিফিকেশনটা সামনে আসা উচিত। বাংলাদেশ এখন ইনভেস্টমেন্ট ডেস্টিনেশন, সেটার ফলও আমরা পাচ্ছি। ২০১৫ সালের পর থেকে পাচ্ছি। ২০১৫ সালের পর যে দেশে স্থিতিশীল অবস্থা দেশে, এটা খুবই কাজের হয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগ এক দশমিক দুই বিলিয়ন ডলারের মতো ছিল, গত অর্থবছরে এটা দুই দশমিক দুই বিলিয়ন ডলার হয়েছে। আমরা দেখতে পাচ্ছি মুভমেন্ট অব এফডিআর বাংলাদেশে বেশ কার্যকর হচ্ছে বলেন মুহিত।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ একটি উদীয়মান রাষ্ট্র। বাংলাদেশের অর্থনীতি ও রাজনৈতিক পরিবেশ খুবই ভালো, যা বিনিয়োগবান্ধব। এ কারণেই শুধু সৌদি আরব নয়, বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছে। সৌদি আরবের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশে অনেক পণ্য রফতানিযোগ্য। তবে প্রচার নেই। পণ্য রফতানির জন্য প্রচার প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, আগে ধারণা ছিল বাংলাদেশ পোশাকের বিনিময়ে সৌদি আরব থেকে তেল আনে।

সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি আছে জানিয়ে তোফায়েল বলেন, আমাদের সঙ্গে তাদের বাণিজ্যিক ঘাটতি আছে। বাংলাদেশ বিনিয়োগের জন্য একটা সুন্দর জায়গা। আমাদের বিনিয়োগ নীতি খুব চমৎকার। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে চায় সৌদি আরবসহ। তাদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে, আজও হবে। আমরা আশা করি, এর মধ্য দিয়ে অনেক বিনিয়োগ বাংলাদেশে আসবে। তিনি বলেন, এরপর বাংলাদেশে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা সৌদি আরবে যাবেন। বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে আমাদের এখানে একটা ব্যবসার পরিবেশ গড়ে উঠবে। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে বিভিন্ন কোম্পানির এমওইউ সই হবে। আইটি, সোলার এনার্জিসহ বিভিন্ন খাতে সৌদি আরবের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হবে বলেও জানান বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।

অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ

নিয়মিত সংবাদ পেতে সাবস্ক্রাইব করুন

Logo
BSCCL-logo