Home কর্পোরেট সংবাদ কর্পোরেট সুশাসন কেমন আছেন অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গারা?

কেমন আছেন অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গারা?

SHARE
Rohinga
Staff Reporter (U)

Published: জানুয়ারি ৭, ২০১৭ ১১:৫৪:২৫
691
0

মিয়ানমারে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে রোহিঙ্গারা সর্বস্ব হারিয়ে প্রাণ বাঁচাতে অনুপ্রবেশ করছে প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশে। রোহিঙ্গাদের নেই খাদ্যসামগ্রী, নেই বাসস্থান। রাস্তার পাশে দান-খয়রাতের জন্য শত শত রোহিঙ্গা বসে থাকে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত। মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা অর্ধলক্ষাধিক রোহিঙ্গা প্রত্যন্ত অঞ্চলসহ উখিয়া ও টেকনাফের দুটি নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এবং বস্তিতে বসবাস করছে। সচেতন মহল মনে করছে, ১৯৭৮ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত মিয়ানমারে ৩ দফা সামরিক জান্তার অত্যাচার ও নির্যাতনের কবল থেকে রক্ষা পেতে সীমান্ত দিয়ে এ দেশে পাড়ি জমাচ্ছে রোহিঙ্গারা। সর্বশেষ ২০১৬ সালের ৯ অক্টোবর মিয়ানমার বিদ্রোহী বাহিনী মংডু শহর এলাকায় তিনটি সেনাক্যাম্পে হামলা করলে নয়জন সেনা সদস্যসহ ১৪ জন নিহত হয়। এ ঘটনার জের ধরে মিয়ানমারের সামরিক জান্তা আবারও রোহিঙ্গা অধ্যুষিত রাখাইন এলাকায় বিদ্রোহী দমনের নামে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর নির্যাতন শুরু করে, যা এখনও অব্যাহত রয়েছে। যে কারণে প্রাণ বাঁচাতে ১১ নভেম্বর থেকে এ পর্যন্ত অর্ধলক্ষাধিক রোহিঙ্গা উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা বস্তি, টেকনাফের মুছনি ও লেদা বস্তি এবং শাপলাপুর বস্তিতে আশ্রয় নিয়েছে। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আশ্রয় নিয়েছে আরও অসংখ্য অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গা। বিজিবির তথ্যমতে, গত এক মাসে উখিয়া-টেকনাফের বিজিবি সদস্যরা তিন হাজারের অধিক অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গা নাগরিককে মিয়ানমারে ফেরত পাঠিয়েছেন। এ সময় অনুপ্রবেশ করে বস্তিতে আশ্রয় নিয়েছে অর্ধলক্ষাধিক রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও শিশু। সরকারিভাবে এসব রোহিঙ্গাকে সাহায্য-সহযোগিতা করা না হলেও বিভিন্ন এনজিও ও ব্যক্তি উদ্যোগে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। তবে এনজিও আইওএমের প্রোগ্রাম ম্যানেজার সৈকত বিশ্বাস বলেন, তারা রোহিঙ্গাদের মধ্যে খাদ্য তৈরির সরঞ্জামাদি সরবরাহ করেছেন। উখিয়া রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী জানান, অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে বিজিবি, পুলিশ, কোস্টগার্ডসহ বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর থাকার পরও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ অব্যাহত রয়েছে। টেকনাফ-২ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল আবু জার আল-জাহিদ জানান, বিজিবি সদস্যরা প্রতিদিন নাফ নদীতে নৌকাযোগে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাচ্ছেন। গত এক মাসে তিন হাজারেরও অধিক অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গা নাগরিককে ফেরত পাঠানো হয়েছে। কক্সবাজার ৩৪ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল ইমরান উল্লাহ সরকার জানান, প্রতিদিন রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে প্রতিরোধ করা হচ্ছে। তবে ১ নভেম্বর থেকে এ পর্যন্ত পাঁচ শতাধিক অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাকে আটক করে মানবিক সহায়তা দিয়ে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হয়েছে। সমকাল
Print Friendly