Home রাজনীতি কাল ৫ জানুয়ারি, কর্মসূচি নিয়ে ব্যস্ত আওয়ামী লীগ-বিএনপি

    কাল ৫ জানুয়ারি, কর্মসূচি নিয়ে ব্যস্ত আওয়ামী লীগ-বিএনপি

    SHARE
    BNP-o--AMILIG
    Staff Reporter (U)

    Published: জানুয়ারি ৪, ২০১৭ ১১:১১:৩৪
    358
    0

    আগামীকাল ৫ জানুয়ারি। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তিন বছর পূর্তি। দিনটি উপলক্ষে নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বড় দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এদিন রাজধানী ঢাকার বিশেষ বিশেষ এলাকায় বড় বড় সমাবেশ করবে। এতে করে গোটা রাজধানী থাকবে আওয়ামী লীগের হাজার হাজার নেতাকর্মীর দখলে। এদিকে এখন পর্যন্ত রাজপথে অতটা সরব না থাকলেও ফের আন্দোলনের ছক কষছে বিএনপি। ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা বলছেন, কর্মসূচির নামে নতুন করে অরাজকতা সৃষ্টি হলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। আর ৫ জানুয়ারির কর্মসূচি ঘিরে নিরাপত্তা জোরদারের কথা বলছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ৫ জানুয়ারি ঘিরে আবারো সরগরম দেশের রাজনীতি। কেন্দ্রের এই রেশ ছড়িয়েছে তৃণমূলেও। ওই দিনের কর্মসূচি ঘিরে ব্যস্ত বড় দুই দলের নেতাকর্মীরা। তৃণমূলের বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের মাধ্যমে কেড়ে নেয়া হয়েছে জনগণের অধিকার। হত্যা করা হয়েছে গণতন্ত্র। বিএনপি নেতাদের এমন বক্তব্যকে ভিত্তিহীন বলছেন ক্ষমতাসীন দলের নেতারা। তারা বলছেন, জনগণের কল্যাণেই রাজনীতি করে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ নেতারা আরো বলেন, বিএনপির কর্মসূচি পালন নির্ভর করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর। নিরাপত্তা ঝুঁকি না থাকলে তারা বাধা দেবে না। ৫ জানুয়ারি সামনে রেখে নিরাপত্তা জোরদারের কথা জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরিস্থিতি অস্বাভাবিক না হলে কর্মসূচির ওপর কোনো বিধিনিষেধ থাকবে না বলে জানিয়েছে তারা। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে সর্বোচ্চ সহযোগিতা চেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। নির্বাচনের টার্গেটে ঘর গোছাবে আওয়ামী লীগ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে টার্গেট করে নতুন বছরে ঘর গোছাবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। জেলায় জেলায় নেতার সঙ্গে কর্মীর এবং এমপির সঙ্গে নেতার দূরত্ব কমাতে এরই মধ্যে ১০০ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। বিএনপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন মাথায় রেখেই প্রস্তুত হচ্ছে আওয়ামী লীগ। নতুন বছরের সাংগঠনিক কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করতে আগামীকাল (আজ) সন্ধ্যা ৬টায় গণভবনে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদ ও উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক ডাকা হয়েছে। ওই সভায় ১০০ দিনের কর্মসূচিতে কী থাকবে তা সুনির্দিষ্ট করা হতে পারে। এ ছাড়া চলতি বছরই দলীয় এমপিদের কর্মকা- নিয়ে আমলনামা তৈরি হবে। সে অনুযায়ী তাদের ব্যাপারে পরবর্তী কর্মপন্থা নির্ধারণ করা হবে। দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। দলীয় সূত্রমতে, নির্বাচনের আরো দুই বছর বাকি থাকলেও ২০১৭ সালেই নির্বাচনকেন্দ্রিক দল সাজাতে চান আওয়ামী লীগের উচ্চপর্যায়। এ জন্য নতুন বছর কেন্দ্র থেকে প্রান্ত পর্যন্ত সংগঠনের অভ্যন্তরে দলাদলি দূর করাসহ সাংগঠনিক সফরের মাধ্যমে নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করার মতো বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হবে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোন আসন নিশ্চিত এবং কোনগুলো অনিশ্চিত তা নিয়ে কাজ করবেন দলের নীতিনির্ধারকরা। যেসব আসনে বর্তমান সংসদ সদস্যদের সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা পাওয়া যাবে সেগুলো নিয়ে নতুনভাবে হিসাব-নিকাশ করা হবে। এক্ষেত্রে অধিকাংশ আসনের ক্ষেত্রেই প্রার্থী বদল হওয়ার জোর সম্ভাবনা রয়েছে। বিতর্কিত, স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির অভিযোগ আছে এমন এমপিরা দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হতে পারেন। বিপরীতে উন্নয়ন, জনকল্যাণকর কাজ, দলে অবদান এবং তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। এসব নেতাকে প্রার্থী করার চিন্তা-ভাবনা নিয়ে পরবর্তী নির্বাচনী পরিকল্পনা নেওয়া হবে। আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায় মনে করে, দল টানা ক্ষমতায় থাকার ফলে সংগঠন কিছুটা হলেও অগোছাল। তাই অসংগঠিত সংগঠন নির্বাচনের আগেই গুছিয়ে নিতে হবে। দলে টানাপড়েন রেখে নির্বাচন মোকাবিলা করা ও বিজয় ছিনিয়ে আনা কষ্টসাধ্য হবে। নির্বাচনে দলের সর্বশক্তি প্রয়োগ করা হবে। এ জন্য এ বছর দলকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে। দলের একাধিক নেতা জানান, নতুন বছর ২০১৭ সালে বিএনপিকে নিয়ে রাজনৈতিক কোনো চিন্তা করছেন না আওয়ামী লীগ নেতারা। তবে তারা বলছেন, উগ্র সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদ নিয়ে সতর্ক থাকতে হবে পুরোটা সময়। ইতিমধ্যে দলের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ১০০ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করে বলেছেন, নতুন বছর হবে আমাদের ঘর গোছানো ও নির্বাচনের প্রস্তুতির বছর। প্রথম ১০০ দিনে দলের ভিতরের সমস্যা সমাধান করে আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি নেব। তিনি বলেন, নির্বাচনে যেমন জিততে হবে, তেমনি সাম্প্রদায়িক উগ্রতাকেও নির্মূল করতে হবে। দলীয় সূত্র জানায়, চলতি মাস থেকেই আওয়ামী লীগের নেতাদের জেলা সফর শুরু হবে।এ জন্য কয়েকটি টিম গঠন করা হবে। প্রথম দিকে গাইবান্ধাসহ জামায়াত-শিবির অধ্যুষিত এলাকা সাতক্ষীরা, বগুড়া, নীলফামারী, রংপুর, পিরোজপুর, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, পাবনা, ফেনী, নোয়াখালী অঞ্চলকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এসব জেলায় বর্ধিত সভা, সমাবেশ, জনসভা ও কর্মিসভা করা হবে। এ ছাড়া ওইসব অঞ্চলের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার মানুষের সঙ্গে বৈঠক করবে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক টিম। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ বলেন, নতুন বছরে দল চাঙ্গা করার প্রতি বেশি মনোযোগ থাকবে আওয়ামী লীগের। সর্বশেষ লক্ষ্যই হলো একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হওয়া। এ লক্ষ্য পূরণ করতে হলে দলকে সেভাবে গড়ে তুলতে হবে। নির্বাচন আর দল গোছানো নিয়েই নতুন বছরে ব্যস্ত থাকবে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিএনপি একটি ডেড হর্স। তাদের নিয়ে আমাদের কোনো রাজনৈতিক চিন্তা নেই। তবে তাদের উগ্র সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদ বিষয়ে আমাদের দল সতর্ক থাকবে। বছরজুড়েই আমরা মাঠে থাকব, জনমত গঠন করব।
    Print Friendly