Home কর্পোরেট সংবাদ কর্পোরেট সুশাসন কক্সবাজারের পথে পথে রোহিঙ্গাদের বোবা কান্না

কক্সবাজারের পথে পথে রোহিঙ্গাদের বোবা কান্না

SHARE
Rohinga-women
Senior Staff Reporter (M)

Published: জানুয়ারি ৩, ২০১৭ ১৭:৩৬:১১
701
0

ওরাও মানুষ। সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব হিসেবেই ওদেরও জন্ম। পৃথিবীর সমস্ত মানুষ কোন না দেশের নাগরিক হলেও এই মানুষগুলোর ভাগ্যে আজও জোটেনি পৃথিবী নামক ভূখন্ডের নাগরিকত্ব। হ্যাঁ, ওরা মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলমান। নিজ জন্মভুমিতে মনুষ্যরূপী হায়েনা কবল থেকে প্রাণ বাঁচাতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঢুকেছে বাংলাদেশে। কিন্তু এ দেশ ওওদের না। উদ্বাস্ত জীবন। ওদের জন্মভিটা আরাকান ফেলে পালিয়ে এসেছে রাতের অন্ধকারে। বসত বাড়ি ফেলে সহায় সম্বলহীন নি:স্ব এ মানুষগুলির নির্বাক চাহনি চোখে পড়ে কক্সবাজারের পথে পথে। ভরঘুরের তকমা কপালে নিয়ে আসা মানুষগুলো অধিকাংশই নারী। এসব নারীর স্বামী, পিতা, ভাইদের হত্যা সাধন হয়েছে। বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে। গরু, ছাগল ও কৃষি সম্পদও লুটে নিয়ে গেছে। সব সহায়-সম্বল ফেলে আসা রোহিঙ্গারা আশ্রয় নিচ্ছেন রাস্তার পাশে। কক্সবাজারের উখিয়া থেকে টেকনাফ পর্যন্ত রাস্তার দুই ধারে খোলা আকাশের নিচে রাত্রি যাপন করছেন এসব নির্যাতিত রোহিঙ্গা। রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় পথচারীরা গাড়ি থামিয়ে যে খাদ্য ও অর্থ দিচ্ছেন তা দিয়েই কোনোমতে জীবনটাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন তারা। ব্যক্তি পর্যায়ে রোহিঙ্গাদের ত্রাণ দিতে রয়েছে স্থানীয় প্রশাসনের বিধি-নিষেধ। এতে নূন্যতম জীবন ধারণের মতো ত্রাণও তারা পাচ্ছে না। ত্রাণেই বেঁচে আছেন রোহিঙ্গারা : পরিমাণে অল্প হলেও এই ত্রাণই সম্বল রোহিঙ্গাদের। দিনভর রাস্তার পাশে বসে থাকেন রোহিঙ্গা নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা। রাস্তায় কোনো গাড়ি দেখলে ত্রাণের জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়ে। কোথাও ত্রাণের সামান্য আভাস পেলে সে দিকে দৌড়াতে থাকে তারা। জীর্ণশীর্ণ মলিন মুখে রাস্তার পাশে শিশুরা বসে আছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। ফ্যালফ্যাল করে তাকাচ্ছে আগন্তুকদের দিকে। তাদের চাহনিই বলে দিচ্ছে তারা কতটা নিরুপায় হয়ে আশ্রয় নিয়েছে এখানে। পলিথিনে তৈরি হচ্ছে তাঁবু : সামনে থেকে যেসব রোহিঙ্গা শিবির রয়েছে এর পাশে নতুন করে পলিথিন দিয়ে তৈরি হচ্ছে নতুন তাঁবু। সেখানেই কোনো রকম মাথা গোজার ঠাঁই করে নিচ্ছেন আরাকান থেকে বিতাড়িত নিরুপায় এই মুসলিমরা। তাদের নিজের বলতে কিছুই নেই। পুরোটাই নির্ভর করছে স্থানীয় ও বাইরে থেকে আসা সহযোগিতার ওপর। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্থানীয়রা নিরুপায় এই মানুষগুলোকে সাধ্যমতো সহযোগিতা করছেন। চোখে-মুখে আতঙ্কের ছাপ : যারা বাংলাদেশে ঢুকেছেন তাদের বেশির ভাগ নারী। এসব নারীর সঙ্গে এক মাস বয়সেরও শিশু রয়েছে। তবে সবার চোখে-মুখে আতঙ্কের ছাপ স্পষ্ট। তাদের অসহায়ত্ব দেখলে যে কারও মধ্যে দয়ার উদ্রেক হবে। কয়েকজন রোহিঙ্গা নারীর সঙ্গে উক্তি বলে জানা গেছে, তাদের স্বামী ও মা-বাবাকে হত্যা সাধন হয়েছে। তাদের বাড়িঘর জ¦ালিয়ে দেয়া হয়েছে, লুট সাধন হয়েছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তারা কোনোরকম পালিয়ে এসেছেন। দালালের মাধ্যমে আসছেন রোহিঙ্গারা : বাংলাদেশি সামান্য দালালের মাধ্যমে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আসছেন বলে নালিশ পাওয়া গেছে। তাদের নিকট থেকে মোটা অংকের টাকাও নেয়া হচ্ছে। পার করে দিতে এক হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত নেয়া হয় বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন রোহিঙ্গা জানান। তবে বিজিবি ও কোস্টগার্ড এই নালিশ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশে তারা নির্মম অবস্থানে রয়েছেন। তাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে কেউ ঢুকতে পারছে না। রোহিঙ্গারা চান স্থায়ী সমাধান : পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান চেয়েছেন। এজন্য জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে তারা বাংলাদেশ সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন। ত্রাণের ওপর বেঁচে থাকলেও রোহিঙ্গা চান কর্মসংস্থান।
Print Friendly