Home আর্কাইভ স্মার্টফোনে আবিষ্ট দেশের তালিকায় ফিনল্যান্ড শীর্ষে

স্মার্টফোনে আবিষ্ট দেশের তালিকায় ফিনল্যান্ড শীর্ষে

SHARE
mobile
কর্পোরেট সংবাদ

Published: ডিসেম্বর ২৯, ২০১৬ ১১:৪৮:২০
265
0

বিশ্বের সবচেয়ে বেশি স্মার্টফোন আবিষ্ট দেশ ফিনল্যান্ড। অর্থাৎ বিভিন্ন দেশের তুলনায় ফিনল্যান্ডের নাগরিকরা স্মার্টফোন ও ট্যাবলেট ডিভাইসে সবচেয়ে বেশি ডাটা ও সময় ব্যয় করেন। সম্প্রতি ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশের ওপর জরিপ চালিয়ে এমনটাই জানিয়েছে সুইডিশ টেলিযোগাযোগ বিশেষজ্ঞ কোম্পানি টেফিসিয়েন্ট।

বৈশ্বিক মোবাইল যোগাযোগ খাতে একসময় নেতৃত্ব দিয়েছে ফিনল্যান্ড। স্থানীয় ডিভাইস নির্মাতা নকিয়ার কল্যাণে এ খাতের বড় বাজারে পরিণত হয়েছিল দেশটি। বর্তমান ইন্টারনেটের যুগে এসেও দেশটি সে ধারা অনেকটাই ধরে রেখেছে। বাজেটসাশ্রয়ী সাবস্ক্রিপশন প্ল্যানের কারণে স্মার্টফোন ও ট্যাবলেট ডিভাইসের মাধ্যমে ফিনল্যান্ডে ডাটা ব্যবহার বাড়ছে দ্রুত।

টেফিসিয়েন্ট জানায়, ২০১৬ সালের প্রথমার্ধে ফিনল্যান্ডের নাগরিকরা দক্ষিণ কোরিয়ার মানুষের তুলনায় বহনযোগ্য ডিভাইসে প্রায় দ্বিগুণ ডাটা ব্যবহার করেছে। বর্তমানে ইউরোপ ও এশিয়ার ৩২টি দেশের মধ্যে স্মার্টফোন আবিষ্ট দেশ হিসেবে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে ফিনল্যান্ড। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া।

ফিনল্যান্ডের নাগরিকরা স্মার্টফোনে খুব বেশি সময় ব্যয় করেন। দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে উদ্বিগ্ন রয়েছে। সম্প্রতি হেলসিংকির ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ অ্যান্ড সোস্যাল সার্ভিস বিভাগ একটি প্রচারাভিযান শুরু করেছে। এর মাধ্যমে অভিভাবকদের সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিষয়টিকে সর্বাধিক অগ্রাধিকার দেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে, যাতে তাদের সন্তানরা স্মার্টফোন ও ট্যাবলেটের মতো ডিভাইসে আসক্ত হয়ে না পড়ে।

স্মার্টফোন ও ট্যাবলেট ডিভাইসে মাত্রাতিরিক্ত সময় ব্যয়ের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরতে কর্তৃপক্ষ একটি ভিডিও প্রদর্শন করে। সতর্কতা সৃষ্টির লক্ষ্যে নির্মিত ওই ভিডিওতে দেখা যায়, একটি দাঁড়কাক ছোট একটি মেয়েকে ছোঁ মারছে ও সৈকতের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। অথচ কাছেই থাকা মেয়েটির মা তার স্মার্টফোনে এতটাই ধ্যানমগ্ন যে, বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না। হেলসিংকির কর্তৃপক্ষ ওই ভিডিও দিয়ে যে বার্তা পৌঁছাতে চেয়েছেন তা হলো অবহেলা আধুনিক দিনের সহিংসতা। কিন্তু এ ভিডিও ঘিরে ফিনল্যান্ডের অভিভাবক মহলে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।

বিষয়টি ঘিরে হেলসিংকি শহর কর্তৃপক্ষ জানায়, ভিডিওটির মাধ্যমে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয় যে, অনেক মা তার সন্তানকে সময় দেয়া, সন্তানের সঙ্গে খেলাধুলা করার চেয়ে স্মার্টফোনে বেশি সময় ব্যয় করছেন। বিভিন্ন কারণে সন্তানের বাবা দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকতে পারেন। এক্ষেত্রে একজন মা সন্তানের ভবিষ্যত্ গড়তে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন।

আনা অ্যান্ডারসন নামে ৩৩ বছর বয়সী একজন মা বলেন, তার ছয় মাস বয়সের শিশু রয়েছে। তিনি তার যথেষ্ট যত্ন নিয়ে থাকেন এবং হেলসিংকি কর্তৃপক্ষের প্রচারাভিযানে ব্যবহূত ভিডিও বিষয়ে ক্ষুব্ধ নন। সামগ্রিকভাবে মানুষ যা-ই বলুক না কেন? ভিডিওটির গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক রয়েছে।

তিনি বলেন, ল্যাপটপের চেয়ে স্মার্টফোনে তিনি বেশি ইন্টারনেট ব্যবহার করেন। বর্তমানে উভয় ডিভাইসে ইন্টারনেট ব্যবহার কমিয়ে দিয়েছেন। কারণ এখন তার একটি শিশু রয়েছে। সত্যি বলতে, শিশুর সুবাদে আমার অনলাইনে সময় ব্যয় উল্লেখযোগ্য কমেছে।

ফিনল্যান্ডের সবচেয়ে বড় সেলফোন অপারেটর এলিসা জানান, বর্তমানে দেশটির অভিভাবকরা কিশোর বয়সের সন্তানদের দেখানো পথে হাঁটছে। সাধারণত কিশোর বয়সের ছেলেমেয়েদের মধ্যে মোবাইল ডিভাইসে দীর্ঘসময় ধরে ইন্টারনেট ব্যবহারের প্রবণতা বেশি। বর্তমানে এ ধরনের প্রবণতা অভিভাবক মহলেও ছড়িয়ে পড়েছে।

এলিসার ব্রডব্যান্ড সাবস্ক্রিপশন বিভাগের প্রধান মাটিয়াস ক্যাস্ট্রেন বলেন, লাইভ ইমেজ ও ভিডিও খাতে সবচেয়ে বেশি দ্রুতগতির ডাটা প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। সন্ধ্যার সময় ফিনল্যান্ডে ডাটা ব্যবহার সবচেয়ে বেশি হয়। এ সময় কিশোর থেকে শুরু করে পেনশনভুক্ত ব্যক্তিরা স্মার্টফোন ও ট্যাবলেট ডিভাইসে মুভি, বিভিন্ন প্রদর্শনী, ভিডিও ক্লিপ ও সোস্যাল মিডিয়ায় ব্রাউজিংয়ের মাধ্যমে ব্যস্ত সময় পার করে। টেলিভিশনের বিকল্প হয়ে উঠেছে মোবাইল ডিভাইস। সূত্র: বণিক বার্তা

Print Friendly