Home আর্কাইভ বাংলাদেশ ফান্ড চার মাসে আকার বেড়েছে ২০ কোটি টাকা

বাংলাদেশ ফান্ড চার মাসে আকার বেড়েছে ২০ কোটি টাকা

Beximco-Synthetic-Logo
Beximco-Pharma
Beximco-Synthetic-Logo
bangladesh-found
Senior Staff Reporter (SM)
শেয়ারবাজার ডেস্ক
Published: অক্টোবর ১২, ২০১৭ ১৩:০৯:২১
106
0

পুঁজিবাজার স্থিতিশীলকরণে ‘বাংলাদেশ ফান্ড’ নামে গঠিত বিশেষ তহবিলের কোনো অগ্রগতি নেই। প্রচারের অভাবে এই ফান্ডটির অগ্রগতি মুখ থুবড়ে পড়েছে। ফান্ড গঠনের প্রথম দিকে এর প্রতি সংশ্লিষ্টদের আগ্রহ থাকলেও এখন এর কার্যক্রম প্রায় থেমে আছে। গত চার মাসে ফান্ডের আকার বেড়েছে প্রায় ২০ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে বিষয়টি জানা গেছে।

ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৭ পর্যন্ত এই ফান্ডের আকার দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৮০৫ কোটি ৮২ লাখ টাকা। গত এপ্রিলে এই ফান্ডের আকার ছিল এক হাজার ৭৮৬ কোটি টাকা।

উল্লেখ্য, ২০১০-১১ সালে দেশের পুঁজিবাজারে বড় ধরনের ধসের পরিপ্রেক্ষিতে পুঁজিবাজার স্থিতিশীলকরণে ‘বাংলাদেশ ফান্ড’ নামে একটি বিশেষ তহবিল গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়। রাষ্ট্রায়ত্ত কয়েকটি  প্রতিষ্ঠান পাঁচ হাজার কোটি টাকার এই তহবিল গঠনের উদ্যোগ নেয়। পরবর্তীকালে এ ফান্ডের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। বর্তমানে পুঁজিবাজারের সার্বিক পরিস্থিতি ভালো হলেও ফান্ডের অবস্থা এখনও নাজুক পরিস্থিতিতেই রয়েছে।

জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আইসিবির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘এই ফান্ডটি যখন গঠন করা হয় তখন এর প্রতি সবার আগ্রহ বেশি ছিল, কিন্তু পরে এর অগ্রগতি থেমে যায়। এর মূল কারণ প্রচার-প্রচারণার অভাব। পর্যাপ্ত প্রচারের অভাবে এখনও এর অগ্রগতি থেমে গেছে।’

একই প্রসঙ্গে মডার্ন সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খুজিস্তা নূর-ই নাহারিন বলেন, ‘পাঁচ বছরে বাংলাদেশ ফান্ডের আকার দুই হাজার কোটিতেও পৌঁছায়নি, এটা সন্তোষজনক নয়। তবে ফান্ড গঠনের উদ্যোগটি খুব ভালো। পৃথিবীর অন্যান্য দেশেও এমন ফান্ড গঠনের নজির রয়েছে। পুঁজিবাজারকে সাপোর্ট দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ফান্ডের আরও অনেক ফান্ডের দরকার। ব্যাংকের অলস টাকা পুঁজিবাজারে আসলে এই ফান্ড কাজ করতে পারে।’

বাংলাদেশ ফান্ডের মূল উদ্যোক্তা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান আইসিবি। এছাড়া ফান্ডটির সঙ্গে রয়েছে সোনালী ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, জীবন বীমা করপোরেশন, সাধারণ বীমা করপোরেশনসহ আরও কিছু প্রতিষ্ঠান। এছাড়া ফান্ডটির আওতায় রয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী, ব্যক্তি বিনিয়োগকারী ও অনাবাসী বিনিয়োগকারী।

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ২০১১ সালে ফান্ডটি গঠন করা হলে প্রাথমিক পর্যায়ে গ্রাহকদের আশানুরূপ সাড়া পাওয়া যায়। অল্পদিনের মধ্যেই ফান্ডের আকার দাঁড়ায় এক হাজার কোটি টাকা। পরে বাজার পরিস্থিতি ভালো না হওয়ায় ফান্ডটির অগ্রগতি থেমে যায়।  ফলে পরবর্তী দুই বছরের মাথায় ফান্ডটির আকার হয় এক হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

জানা গেছে, গত বছর এই ফান্ডের ইউনিট হোল্ডারদের ছয় শতাংশ করে লভ্যাংশ প্রদান করা হয়। এর আগের দুই বছর ইউনিট হোল্ডাররা পান ১০ শতাংশ করে লভ্যাংশ। আগামীতে ইউনিট হোল্ডারদের ভালো কিছু দিতে পারবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে ফান্ডের ইউনিট কর্তৃপক্ষ।

প্রসঙ্গত, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ক্রান্তিকালে সাপোর্ট দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ফান্ডের মতো ফান্ড গঠনের রীতি রয়েছে। নিউইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জে ধসের পর সে দেশের সরকার শেয়ারবাজারের জন্য আলাদা ফান্ডের ব্যবস্থা করে। পাশাপাশি যেসব কোম্পানি লোনের জন্য ব্যাংকের কাছে আবেদন করেছিল তাদের শেয়ারবাজার থেকে টাকা উত্তোলনের নির্দেশ দেওয়া হয়। মূলত পুঁজিবাজারে নতুন ফান্ড আনার লক্ষ্যেই এ কাজ করেছিল সে দেশের সরকার। পদক্ষেপটি সফলও হয়েছিল।

পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে পুঁজিবাজারে যখন ধস নামে এবং সূচক ২২ হাজার থেকে আট হাজারে নেমে গিয়েছিল, তখন দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে অবাধে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া হয়। অল্পদিনের মধ্যেই বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসে। এমনিভাবে ধস মোকাবিলায় সব সময়ই সরকার এমন পদক্ষেপ নিয়েছে, যাতে বাজারে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়, কারণ বিনিয়োগ বাড়লে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা তৈরি হয়। আর বিনিয়োগে আস্থা পেলে শেয়ারবাজার স্থিতিশীল হতে বাধ্য। সূত্র: শেয়ার বিজ

অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ

নিয়মিত সংবাদ পেতে সাবস্ক্রাইব করুন

Logo
BSCCL-logo