Home আর্কাইভ বীমা করার আগে গ্রাহককে পলিসির সব বিষয় জানা উচিত

বীমা করার আগে গ্রাহককে পলিসির সব বিষয় জানা উচিত

Beximco-Synthetic-Logo
Beximco-Pharma
Beximco-Synthetic-Logo
Bima
Staff Reporter (U)

Published: অক্টোবর ১২, ২০১৭ ১০:১২:৫৮
196
0

বীমা দাবি পরিশোধ নিয়ে গ্রাহক এবং কম্পানির মধ্যে প্রায়ই বিবাদ দেখা যায়। অভিযোগ ওঠে কম্পানি বীমা দাবি পরিশোধ করছে না। মূলত মার্কেটিংয়ের লোকজনের প্রকৃত তথ্য না দিয়ে বীমা পলিসি করানো এবং গ্রাহকও সব না জানায় এ সংকট তৈরি হচ্ছে বলে মনে করেন ইউনাইটেড ইনস্যুরেন্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) খাজা মনজুর নাদিম।

তিনি বলেন, বীমা দাবি পরিশোধের যে বিরোধ তৈরি হয় সেটা দুই পক্ষের কারণেই হয়। যে এজেন্ট বীমা করান তিনি ঠিকঠাক জানেন না বা বোঝেন না। আবার যে গ্রাহক পলিসি নেন তিনিও সেটা পুরোপুরি জানার চেষ্টা করেন না। কিন্তু গ্রাহক যদি সচেতন হন এবং পুরো বিষয়টা বোঝেন তারপর বীমা করেন তাহলে তাঁকে কেউ সহজে ঠকাতে পারবে না বলে জানান তিনি।

গ্রাহক সচেতনতার পাশাপাশি ইনস্যুরেন্স কম্পানিগুলোকে লোকবল নেওয়ার পর অবশ্যই তাদের অফিসের পক্ষ থেকে ট্রেনিং দেওয়ার পরামর্শ দেন এই সিইও। তিনি বলেন, এখনো বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই লোক নেওয়ার পরেই তাদের মার্কেটে নামিয়ে দেওয়া হচ্ছে। যে কারণে তারা মানুষকে ঠিকভাবে তথ্য দিতে পারছে না। এসব কারণেই কম্পানি ও গ্রাহকের মধ্যে একটি খারাপ সম্পর্ক তৈরি হচ্ছে।

মার্কেট নষ্ট হচ্ছে। বিভিন্ন কম্পানির মধ্যে প্রতিযোগিতাটাও হচ্ছে একটা খারাপ পর্যায়ের। মনজুর নাদিম বলেন, অনেক কম্পানিই একটা টার্গেট দিয়ে কর্মকর্তাদের ওপর একটি বোঝা তৈরি করে। এটা বন্ধ করতে হবে। আমার মার্কেটিং এজেন্টদের কঠোরভাবে নির্দেশনা দেওয়া আছে তারা যেন ঠিকঠাক না বুঝিয়ে কোনো গ্রাহকের পলিসি না করে। কেউ যদি অন্য কম্পানির পলিসি করতে আমাদের টিমের সহযোগিতা চায় সেটাও করার নির্দেশনা দেওয়া আছে। আমরা মনে করি, এভাবে কাজ করলে একজন গ্রাহক আজকে না হোক ৬ মাস বা ১ বছর পর হলেও পলিসি করতে আসবেই। এতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু এই ধৈর্যটাই কেউ ধরে না। উল্টোপথে হাঁটছে সবাই। তবে সত্যিকারের যারা ভালো গ্রাহক তারা কিন্তু জেনে-বুঝেই বীমা করতে চান। রাতারাতি বড় হতে চাওয়ার একটা মানসিকতা অনেকের মধ্যেই কাজ করে। ফিউচার একটা প্ল্যানিং করার কাজটা বেশির ভাগ কম্পানিই করে না। মার্কেটিং করাই উচিত দীর্ঘ সময়ের লক্ষ্য নিয়ে।

তিনি বলেন, আইডিআরএ জানে মার্কেটে একটা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই, কিন্তু দরকার। সেটা করার জন্য তাঁরা কাজও করছেন। কিন্তু বিষয়টা আরো একটু দ্রুত করা উচিত। বীমা খাতের প্রডাক্টগুলো নিয়ে মনজুর নাদিম বলেন, ট্র্যাডিশনাল প্রডাক্ট যেমন মেরিন, ফায়ার এগুলোর বাইরে ইউনাইটেড ইনস্যুরেন্স প্রথম হেলথ ইনস্যুরেন্স শুরু করেছিল। তারপর অনেকেই শুরু করেছে। হেলথ ইনস্যুরেন্স এখনো পেছনে থাকার একটা বড় কারণ হলো এগুলো বাধ্যতামূলক নয়। কিন্তু বাইরের বিভিন্ন দেশে সব ক্ষেত্রে ইনস্যুরেন্স বাধ্যতামূলক। এ কারণে আমরা হেলথে অনেক পেছনে। সরকার যদি বাধ্যতামূলক করে দেয় তবে পলিসি দ্রুত বেড়ে যাবে, মানুষও লাইন ধরবে বীমা করার জন্য। ভারতের জিডিপিতে বীমার অবদান যেখানে ৪ শতাংশ সেখানে আমরা ১ শতাংশ অবদানও রাখতে পারছি না। এর প্রধান কারণই হলো বীমাগুলো মেন্ডেটরি নয় বলে।

তবে বড় বড় কম্পানি এখন স্বাস্থ্যবীমায় বেশ আগ্রহ দেখাচ্ছে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘এখানে আমাদের কোনো প্রফিট নেই। আমরা এটাকে সিএসআর হিসেবে নিয়েছি। কেউ মেডিক্যাল বিল দিতে না পারলে সেটা আমরা দিচ্ছি, আমাদের শর্তানুযায়ী। প্রেগনেন্সির সময়, অপারেশন, ডাক্তার দেখালে, আউটডোরে গেলে একেক রকমের চার্জ রয়েছে। ’

ক্লেইম করলে টাকা দিতে দেরি হওয়ার কারণ কী জানতে চাইলে মনজুর নাদিম বলেন, ‘ক্লেইম করতে হলে কিছু কাগজপত্র দিতে হয়। যেগুলো ক্লায়েন্টের কাছে থাকে। সেগুলো তাঁরা কম্পানিকে দিতে ঢিলেমি করেন, সময় নেন। আমাদের বাস্তব অভিজ্ঞতায় আমরা দেখতে পাই অনেককে কাগজপত্র জমা দেওয়ার জন্য চারবার পর্যন্ত চিঠি দিয়েও পাওয়া যায় না। পরে কিন্তু পুরো দোষটা দেওয়া হচ্ছে আমাদের। আমাদের নিয়ম হচ্ছে একটা চিঠিতে সারা না পেলে এভাবে পরপর তিনটা চিঠি দিয়ে তাঁদের তাগাদা দেওয়া। এর মধ্যেও যদি সব কিছু না দেন তারপর আমরা চতুর্থবার চিঠি দিয়ে বলি এ সময়ের মধ্যে আপনি যদি কাগজপত্র না দেন তবে আমরা ফাইল ক্লোজ করে দিতে বাধ্য হব। কারণ আমাদের আইডিআরের কাছে জবাবদিহি করতে হয়। অসুবিধা দেখলেই তাঁরা আমাদের জরিমানা করে বসেন। তাই দ্রুত সেটলমেন্টের জন্য দুই পক্ষের সহযোগিতা খুবই জরুরি। 

সময়োপযোগী ভালো মানের কী প্রডাক্ট নিয়ে ইউনাইটেড কাজ করছে জানতে চাইলে মনজুর নাদিম বলেন, ব্যাংক গ্যারান্টির জন্য নতুন একটি প্রডাক্ট আমরা বাজারে আনার জন্য কাজ করছি। এটা একটা ব্যতিক্রমী পণ্য। কেউ যখন একটা লোন নেন তখন তাঁদের তো নিয়মিত কিস্তি দিতে হয়। উদাহরণস্বরূপ কেউ ১০ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে একটি ফ্ল্যাট কিনেছেন। কিস্তির সময় ৫ বছর। এর মধ্যে তাঁরা যেকোনো সময় একটি দুর্ঘটনায় পড়তে পারেন। দুর্ঘটনায় তিনি মারা যেতে পারেন, চাকরি করতে অক্ষম হয়ে পড়তে পারেন, বড় কোনো অসুখে পড়তে পারেন, যেসব কারণে গ্রাহক আর কিস্তির টাকা শোধ করতে পারছেন না। যেখানে এ রকম প্রায় ১৮টি বিষয়ে আমরা অন্তর্ভুক্ত করেছি। ঋণগ্রহীতা পলিসি করার ৩০ দিন পরে এর যেকোনো একটি দুর্ঘটনায় পড়লে আমরা তাঁর সব ঋণ পরিশোধ করে দেব। ব্যাংকের সঙ্গে ইনস্যুরেন্স কম্পানির একটা চুক্তি হবে। এর জন্য ব্যাংকগুলোর সহযোগিতা এবং আগ্রহ দরকার। আমরা তাদের সঙ্গে আলোচনাও চালিয়ে যাচ্ছি।

এটাতে কী খেলাপি কমানো সম্ভব কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, অবশ্যই সম্ভব। ঋণের সঙ্গে এই বীমা যুক্ত হলে খেলাপি হওয়ার তো কোনো সুযোগ নেই এখানে। কারণ গ্রাহক অসমর্থ হলে বীমা কম্পানি পুরো টাকাটা পরিশোধ করবে ব্যাংককে। এর জন্য গ্রাহকের আর জামানতেরও দরকার পড়বে না। একই সঙ্গে যেমন খেলাপি কমবে তেমনি কোনো গ্রাহককে রাস্তায় নামতেও হবে না বলে জানান তিনি।

বীমার উন্নয়নে কর্তৃপক্ষের কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া দরকার এ প্রশ্নের উত্তরে এ সিইও বলেন, ‘আমাদের দেশে অনেক বেশি কম্পানি হয়ে গেছে। সে তুলনায় ব্যবসার ক্ষেত্রটা অনেক কম। এর মধ্যেও অনেকে কম্পানির অবস্থা চলছে জোড়াতালি দিয়ে। যাদের আসলে কোনো মার্কেট অ্যানালিসিস নেই। অন্যায্য প্রতিযোগিতা চলছে। এই বিষয়গুলো সরকারের দেখা উচিত। তাদের উন্নয়ন কিভাবে ঘটানো যায় সেটার জন্য নীতিগুলো দেখতে হবে। কয়েকটি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। ভালোভালো প্রডাক্ট নিয়ে আসা, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করা, গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরগুলোতে বীমা বাধ্যতামূলক করা, মার্কেটিংয়ের লোকজনকে উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দিয়ে যদি বাজারে ছাড়া হয় তাহলে এই বীমা খাতটিও চাঙ্গা হবে বলে মনে করেন তিনি। 

অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ

নিয়মিত সংবাদ পেতে সাবস্ক্রাইব করুন

Logo
BSCCL-logo