বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
শিরোনাম
নোয়াখালীতে দুই ডেন্টাল ল্যাবের কার্যক্রম বন্ধ, জরিমানা লাখ টাকা শার্শার বেলতলা বাজারে অপরিপক্ক হিমসাগরের ছড়াছড়ি : - কেমিক্যাল ছিটিয়ে পাকানো হচ্ছে আম বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের পাবজি দলের জন্য এয়ারটেলের থিম সং সব অপারেটরের গ্রাহকরা স্থানীয় রিটেইলারদের মাধ্যমে নিতে পারবেন টফি সাবস্ক্রিপশন তফসিলি ব্যাংকের মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ সম্মেলন অনুষ্ঠিত চূড়ান্ত অনুমোদন পেলো পদ্মা ব্যারেজ, ব্যয় ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা কুরবানির পশুর চামড়ার দাম নির্ধারণ একনেকে ৩৬ হাজার ৬৯৫ কোটি টাকার ৯ প্রকল্প অনুমোদন প্রাইম ইন্স্যুরেন্সের প্রথম প্রান্তিক প্রকাশ 1st Quarter Un-Audited Financial Statements of Prime Islami Insurance PLC
জাতীয়

চূড়ান্ত অনুমোদন পেলো পদ্মা ব্যারেজ, ব্যয় ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা

দেশের প্রধান নদী ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার, লবণাক্ততার আগ্রাসন হ্রাস, সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘পদ্মা ব্যারাজ (প্রথম পর্যায়)’ প্রকল্প গ্রহণ করেছে সরকার।

বুধবার (১৩ মে) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এই মেগা প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়। একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সভায় সভাপতিত্ব করেন।

একনেক সভায় মোট ১৬টি প্রকল্প উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে ১১ নম্বর কার্যতালিকায় রাখা হয়েছিল পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প।

জানা যায়, মূলত ফারাক্কা বাঁধের কারণে শুষ্ক মৌসুমে পানির যে সংকট দেখা দেয়, তা থেকে রেহাই পেতে প্রকল্পটির অনুমোদন করা হয়েছে। কয়েক দশকের পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে পদ্মা ব্যারাজ নামে প্রকল্পটি অবশেষে চূড়ান্ত অনুমোদন পেলো। গত মাসে পরিকল্পনা কমিশন প্রকল্পটি বর্তমান সরকারের প্রথম একনেক সভায় উপস্থাপনের জন্য প্রস্তুতি নিলেও শেষ মুহূর্তে তা প্রত্যাহার করা হয়।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, পদ্মা ব্যারাজ (প্রথম পর্যায়) প্রকল্পটি প্রস্তাব করেছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়। চলতি বছর থেকে শুরু করে ২০৩৩ সালের জুনের মধ্যে এটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো)। প্রকল্পটির মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৫০ হাজার ৪৪৩ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। তবে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি (পিইসি) ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছে। প্রথম ধাপের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা। পুরো অর্থায়ন সরকারি তহবিল থেকেই করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ব্যারাজ নির্মাণের মাধ্যমে পদ্মা নদীতে প্রায় দুই হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনমিটার পানি সংরক্ষণ করা হবে। সংরক্ষিত পানি দিয়ে পাঁচটি নদীর পানিপ্রবাহ পুনরুজ্জীবিত করা হবে। এগুলো হলো— হিসনা-মাথাভাঙ্গা, গড়াই-মধুমতি, চন্দনা-বারাশিয়া, বড়াল ও ইছামতী নদী। শুষ্ক মৌসুমে এসব নদীতে প্রায় ৮০০ কিউসেক মিটার পানি সরবরাহ করা হবে। এতে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পানি ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রথম ধাপে রাজবাড়ীর পাংশায় ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ করা হবে। ব্যারাজটিতে থাকবে ৭৮টি স্পিলওয়ে, ১৮টি আন্ডার স্লুইসগেট, মাছ চলাচলের জন্য দুটি ফিশ পাস, একটি নেভিগেশন লক এবং গাইড ও সংযোগ বাঁধ।

প্রকল্প প্রস্তাবে বলা হয়েছে, পদ্মা ব্যারাজ ও গড়াই অফ-টেক এলাকায় জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। এসব কেন্দ্র থেকে মোট ১১৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম ধাপের আওতায় ১৩৫ দশমিক ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ গড়াই-মধুমতি নদী এবং ২৪৬ দশমিক ৪৬ কিলোমিটার হিসনা নদী ব্যবস্থার ড্রেজিং ও পুনঃখননের কাজও করা হবে। অন্যান্য কাজের মধ্যে রয়েছে ১৫টি স্পিলওয়েসহ গড়াই অফ-টেক, ফিশ পাস, নেভিগেশন লক ও ৩৬ দশমিক ৬ মেগাওয়াট ক্ষমতার জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ। পাশাপাশি চন্দনা অফ-টেকে চারটি স্পিলওয়ে, হিসনা অফ-টেকে পাঁচটি স্পিলওয়ে এবং ১৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ অ্যাফ্লাক্স বাঁধ নির্মাণ করা হবে। হিসনা অফ-টেককে হিসনা-মাথাভাঙ্গা নদী ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এটি গঙ্গা নদীব্যবস্থা থেকে পানিপ্রবাহ পুনরুদ্ধারে ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে পলি জমা কমানো ও শুষ্ক মৌসুমে পানি সরবরাহ নিশ্চিতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

প্রকল্প প্রস্তাবে আরো বলা হয়েছে, প্রকল্পে কৃষি ও মৎস্য খাতে উৎপাদন বৃদ্ধিতেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতি বছর ধান উৎপাদন প্রায় ২৩ লাখ ৯০ হাজার টন এবং মৎস্য উৎপাদন প্রায় দুই লাখ ৩৪ হাজার টন বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রেও প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প বাংলাদেশের মোট এলাকার প্রায় ৩৭ শতাংশ, যা দেশের চারটি বিভাগের ২৬ জেলার ১৬৩ উপজেলায় বিস্তৃত। তবে প্রথম ধাপ বাস্তবায়িত হলে খুলনা, ঢাকা, রাজশাহী ও বরিশাল বিভাগের অবহেলিত অন্তত ১৯ জেলা ও ১২০ উপজেলা সরাসরি উপকৃত হবে। জেলাগুলো হলো—কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, মাগুরা, যশোর, নড়াইল, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, পাবনা, রাজশাহী, নাটোর, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং পিরোজপুর। দ্বিতীয় ধাপে অতিরিক্ত সহায়ক অবকাঠামো নির্মাণ এবং চন্দনা-বারাশিয়া, বড়াল ও ইছামতী নদীব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের কাজ করা হবে।

পদ্মার ওপর ব্যারাজ নির্মাণের ধারণা নতুন নয়। প্রায় ২৫ বছর আগে তৎকালীন ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকার পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিল। ১৯৬০ থেকে ২০০০ সালের মধ্যে সম্ভাব্য স্থান নির্ধারণে চারটি সমীক্ষা পরিচালিত হয়। পরে ২০০৫ সালে বিস্তারিত সম্ভাব্যতা যাচাই শুরু হয় এবং স্থানীয় ও বিদেশি পরামর্শকদের একটি কনসোর্টিয়াম ২০১৩ সালে ওই সমীক্ষা শেষ করে।

এছাড়া সভায় প্রায় ৩৬ হাজার ৬৯৫ কোটি ৭২ লাখ টাকা ব্যয়ে ৯টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে তিনটি নতুন প্রকল্প, পাঁচটি সংশোধিত প্রকল্প এবং একটি প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে। মোট প্রকল্প ব্যয়ের মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ৩৬ হাজার ৪৯০ কোটি ৯৩ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ২০৪ কোটি ৭৯ লাখ টাকা যোগান দেওয়া হবে।

সর্বশেষ পাওয়া সংবাদ