সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬
সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬
শিরোনাম
স্বল্প সময়ের মধ্যেই শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা হতে পারে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পাওয়ার গ্রিডের পর্ষদ সভা ৮ নভেম্বর ডেসকোর পর্ষদ সভা ৫ নভেম্বর ডরিন পাওয়ারের পর্ষদ সভা ৫ নভেম্বর ৪ নভেম্বর নাহি অ্যালুমিনিয়ামের পর্ষদ সভা কৃষক কার্ডের মাধ্যমে আবহাওয়ার আগাম বার্তা পাবেন কৃষকরা গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধ, ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন ভর্তুকি ৫০০ কোটি টাকা কমাতে চায় টিসিবি, লক্ষ্য আর্থিক স্বনির্ভরতা ২০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ - ফেঁসে গেলেন সিএমপি'র এসি শরীফুলসহ ৩ পুলিশ এইচএসসির ফলাফলে ৯ বোর্ডে ৮ম যশোর, - এবার যশোর বোর্ডে ইংরেজি ও আইসিটিতে ফেলের ধাক্কায় ফল বিপর্যয়
advertisement
আইন-আদালত

প্রেমের জেরে মেয়েকে হত্যা

লাশ বস্তাবন্দি করে সড়কে ফেলল বাবা-মা, গ্রেপ্তার মা

মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক মেনে নিতে না পেরে আরফানা হোসেন নির্জনা (১৬) নামের এক কিশোরীকে পিটিয়ে হত্যা করেছে তার নিজস্ব জন্মদাতা বাবা-মা। শুধু তাই নয়, হত্যার পর মরদেহ প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে সড়কের পাশে ফেলে ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চালায় তারা। তবে শেষ রক্ষা হয়নি; ঘটনার মাত্র ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে এই রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি)।

এই ঘটনায় নিহতের মা আরিফা ইয়াসমিন সিমা (৩৫)-কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি ইতিমধ্যে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলার অপর পলাতক আসামি ও নিহতের বাবা মো. আলিম হোসেন আকাশকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।

শনিবার (১১ জুলাই) সকালে কেএমপি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান।

বস্তাবন্দি লাশ থেকে রহস্যের সূত্রপাত:
পুলিশ জানায়, গত ৮ জুলাই রাত ৯টার দিকে খুলনা সদর থানার প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার ৩ নম্বর সড়কে একটি প্লাস্টিকের বস্তার ভেতর অজ্ঞাত এক কিশোরীর লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয় স্থানীয়রা। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায় এবং তদন্তে নামে। প্রাথমিকভাবে পরিচয় না পাওয়ায় পিবিআই ও সিআইডিসহ বিভিন্ন সংস্থার সহায়তায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বেতার বার্তার মাধ্যমে নিহতের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করা হয়। কোনো পরিচয় না মেলায় ১০ জুলাই খুলনা সদর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

তদন্তের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পরিচয় ও ঘাতক শনাক্ত:
মামলা দায়েরের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ নিহতের পরিচয় শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। জানা যায়, ওই কিশোরী সোনাডাঙ্গা থানার বসুপাড়া এলাকার বাসিন্দা আরফানা হোসেন নির্জনা। এরপর পুলিশ তার বাসায় গিয়ে মা আরিফা ইয়াসমিন সিমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে প্রথমে তিনি বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে পুলিশকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন। তবে পুলিশের টানা জেরার মুখে একপর্যায়ে তিনি মেয়েকে হত্যার নির্মম সত্য স্বীকার করেন।

যে কারণে এই নির্মম হত্যাকাণ্ড:
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, নির্জনার বিভিন্ন ছেলের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে পরিবারে দীর্ঘদিন ধরে অশান্তি ও বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন এই নিয়ে তর্কের একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে বাবা আলিম হোসেন মেয়ের মাথায় লাঠি দিয়ে উপর্যুপরি ৩-৪টি আঘাত করেন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই নির্জনার মৃত্যু হলে, বাবা-মা মিলে লাশটি বস্তাবন্দি করে প্রান্তিকা আবাসিক এলাকায় ফেলে দিয়ে আসেন।

পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান জানান, যেহেতু এই হত্যাকাণ্ডে ভুক্তভোগীর বাবা-মা সরাসরি জড়িত, তাই পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছে। ঘাতক বাবাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।

▐ সর্বশেষ পাওয়া সংবাদ