রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম
সিগারেট-ওষুধসহ ১১ খাতে অনলাইনে ভ্যাট রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক জাতিসংঘে প্রথম ভাষণে গণতান্ত্রিক যাত্রা ও রোহিঙ্গা সংকট তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ জনের মৃত্যু সেপ্টেম্বরে ১৯ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ১৮৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার যমুনা ব্যাংকের আয়োজনে পিডিবিএলের বোর্ড ও দ্বি-মাসিক সভা অনুষ্ঠিত জামায়াত নেতাকে মারধর - সাবেক সভাপতিসহ বিএনপির ২০ জনের বিরুদ্ধে মামলা ‘ফিফা আসিয়ান কাপ-২০২৬’ সরাসরি দেখা যাবে টফিতে ইসলামী ব্যাংকের শরী’আহ সুপারভাইজরি কমিটির সভা অনুষ্ঠিত তল্লাশিতে মিললো না শরীরে থাকা সোনার পেস্ট, এক্সরেতে ধরা মমেক হাসপাতালে হাম উপসর্গে শিশু ও ডেঙ্গু জ্বরে যুবকের মৃত্যু
advertisement
তথ্য-প্রযুক্তি

এআই-এর বিস্তারে বাড়ছে সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি: ক্যাসপারস্কি

এশিয়া-প্যাসিফিক (এপিএসি) অঞ্চলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের পরিধি বাড়ার সাথে সাথে এর নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। ক্যাসপারস্কির অভ্যন্তরীণ গবেষণায় দেখা গেছে, ১৩ শতাংশ প্রতিষ্ঠান এআই-সংক্রান্ত দুর্বলতাকে তাদের প্রধান সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে বিবেচনা করছে। তবে সফটওয়্যারের দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে হামলা (২০ শতাংশ) এবং ফিশিং (১৯ শতাংশ) এখনো প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান উদ্বেগ। একই সঙ্গে এআই-সম্পর্কিত ঝুঁকিও ক্রমেই গুরুত্ব পাচ্ছে।

এআই-সংক্রান্ত দুর্বলতাকে বড় সাইবার ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করা প্রতিষ্ঠানের হার ভারতে সবচেয়ে বেশি, ২০ শতাংশ। এরপর রয়েছে মালয়েশিয়া ১৫ শতাংশ, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম ১৩ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়া ১০ শতাংশ এবং চীন ৭ শতাংশ।

কর্মক্ষেত্রে চ্যাটজিপিটি ও ডিপসিক-এর মতো তৃতীয় পক্ষের এআই টুল ব্যবহারের প্রবণতা, যা ‘শ্যাডো এআই’ নামে পরিচিত, নতুন আরেকটি ঝুঁকি তৈরি করছে। এপিএসি অঞ্চলের ৩০ শতাংশ প্রতিষ্ঠান কর্মীদের বাহ্যিক এআই টুল ব্যবহারের বিষয়টিকে সাধারণ নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এই হার ভারতে ৩৬ শতাংশ এবং মালয়েশিয়ায় ৩৫ শতাংশ। এরপর রয়েছে ভিয়েতনাম ৩৩ শতাংশ, চীন ৩১ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়া ২৪ শতাংশ এবং থাইল্যান্ড ১৮ শতাংশ।

তবে অনেক প্রতিষ্ঠানই নির্দিষ্ট নিয়মের আওতায় তৃতীয় পক্ষের এআই টুল ব্যবহারের অনুমতি দিচ্ছে। এপিএসি অঞ্চলের ৬০ শতাংশ প্রতিষ্ঠান এসব টুল ব্যবহারের অনুমতি দেয়, তবে কোম্পানির নাম বা অভ্যন্তরীণ নথি আপলোড না করা, নির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া এবং কর্মীদের প্রশিক্ষণের মতো বিধিনিষেধ রয়েছে।

এদিকে এআই ব্যবহারের প্রবণতাও দ্রুত বাড়ছে। এপিএসি অঞ্চলের ৮৫ শতাংশ প্রতিষ্ঠান লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল (এলএলএম)-নির্ভর নিজস্ব এআই টুল নিয়ে আলোচনা, উন্নয়ন বা পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চালাচ্ছে। এর মধ্যে ১০ শতাংশ প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে এসব টুল নিজেদের কাজের প্রক্রিয়ায় যুক্ত করেছে। দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া, কাজের দক্ষতা বাড়ানো এবং মানবিক ভুল কমানোর প্রয়োজনীয়তাই এআই ব্যবহারের প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।

ক্যাসপারস্কির এআই টেকনোলজি রিসার্স সেন্টার-এর গ্রুপ ম্যানেজার ভ্লাদিস্লাভ তুশকানোভ বলেন, “ব্যবসায়িক কাজ দ্রুত করা এবং নিয়মিত কাজের চাপ কমাতে প্রতিষ্ঠানগুলো যখন এআই ব্যবহার বাড়াচ্ছে, তখন এআই-এর দুর্বলতা ও শ্যাডো এআই-এর মতো নিরাপত্তা ঝুঁকিও বাড়ছে। কার্যকর সুরক্ষার জন্য ক্যাসপারস্কি নেক্সট-এর মতো পূর্ণাঙ্গ সাইবার নিরাপত্তা সমাধান ব্যবহার করা যেতে পারে, যেখানে উন্নত এআই সক্ষমতা ইতোমধ্যে যুক্ত রয়েছে। এ ধরনের সলিউশন সাইবার হামলা প্রতিরোধ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা সহজ করার মাধ্যমে খরচ কমাতে পারে। পাশাপাশি দ্রুত হামলা নিয়ন্ত্রণ ও ক্ষয়ক্ষতি কমানোর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম আরও স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করে। অতিরিক্ত জনবল না বাড়িয়েও নিরাপত্তা ব্যবস্থার দক্ষতা বাড়ানো এবং একাধিক নিরাপত্তা টুলকে একত্র করার মাধ্যমে বিনিয়োগের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব।”

ক্যাসপারস্কির এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যাড্রিয়ান হিয়া বলেন, “আমরা যে পরিবর্তনটি স্পষ্টভাবে দেখতে পাচ্ছি, তা হলো- প্রতিষ্ঠানগুলো এখন আর শুধু ব্যবসায় এআই ব্যবহার করা উচিত কি না, সেই প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই। বরং কীভাবে দায়িত্বশীলভাবে এআই গ্রহণ করা যায়, সেটি নির্ধারণের দিকে এগোচ্ছে। ডিজিটাল রূপান্তরের ক্ষেত্রেও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। নতুন প্রযুক্তি চালু করাই এখন আর সাফল্যের একমাত্র মাপকাঠি নয়। বরং প্রতিষ্ঠান কতটা ঝুঁকি বুঝতে পারছে, সঠিক নীতিমালা ও ব্যবস্থাপনা কাঠামো তৈরি করতে পারছে এবং এআই ব্যবহারের পরিধি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আস্থা তৈরি করতে পারছে- সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। যেসব প্রতিষ্ঠান শুরু থেকেই এআই কৌশলের সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তাকে যুক্ত করবে, এআই ব্যবহারের পরিধি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা আরও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে উদ্ভাবনের সুযোগ কাজে লাগাতে পারবে।”

সর্বশেষ পাওয়া সংবাদ