বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
শিরোনাম
advertisement
স্বাস্থ্য-লাইফস্টাইল

১৪ মাস পর ২৮ জুন দেশব্যাপী ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন

দীর্ঘ ১৪ মাস পর আগামী ২৮ জুন দেশব্যাপী ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন শুরু হতে যাচ্ছে। অন্ধত্ব প্রতিরোধ ও শিশুদের পুষ্টিহীনতা দূরীকরণের লক্ষ্যে আয়োজিত এই বিশেষ ক্যাম্পেইন ওইদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে। এবারের ক্যাম্পেইনে ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী ২ কোটি ৩৫ লাখের বেশি শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন রাজধানীর শাহবাগস্থ আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করবেন। এ সময় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত এবং প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার উপস্থিত থাকবেন।

জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইউনুস আলী এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, এবারের ক্যাম্পেইনে মোট ২ কোটি ৩৫ লাখ ১৪ হাজার ৯৭২ জন শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে। এর মধ্যে:

৬ থেকে ১১ মাস বয়সী শিশু: ২৮ লাখ ৩৮ হাজার ৭৯৪ জন (এদের নীল রঙের ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে)।

১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশু: ২ কোটি ৫ লাখ ৭৬ হাজার ১৭৮ জন (এদের লাল রঙের ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে)।

ক্যাম্পেইনের মূল দিন ছাড়াও দেশের ১২টি জেলার ৫৮টি উপজেলার ২৯0টি ইউনিয়নের ৭১৪টি ওয়ার্ডে (দুর্গম অঞ্চল) পরবর্তী চারদিন 'চাইল্ড টু চাইল্ড সার্চিং' কার্যক্রম চালানো হবে।

জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক জানান, ক্যাম্পেইন সফল করতে ইতোমধ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ক্যাপসুলও পৌঁছে গেছে। মাঠ পর্যায়ে মোট ১ লাখ ২০ হাজার নিয়মিত ইপিআই কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। এছাড়া লঞ্চঘাট, ফেরীঘাট, রেল ও বাস স্টেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় আরও ৫০০টি মোবাইল কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।

জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যরা স্থানীয় প্রশাসনকে সাথে নিয়ে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। মাঠকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে ক্যাম্পেইন বাস্তবায়নের পাশাপাশি সিভিল সার্জন ও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা এটি মনিটরিং করবেন। কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকেও তদারকির নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রণালয়।

নিয়ম অনুসারে বছরে দুবার এই ক্যাম্পেইন হওয়ার কথা থাকলেও, ক্যাপসুল সংকটের কারণে গত বছরের মার্চ মাসের পর এটি আর অনুষ্ঠিত হয়নি। দীর্ঘ ১৪ মাস পর আবারও এই কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, "দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন আমরা আবার চালু করেছি। ক্যাম্পেইনটি সফল করতে সবাইকে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছি।" তিনি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী সকল শিশুকে নিকটস্থ কেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে ক্যাপসুল খাওয়ানো নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ জানান।

জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের প্রচারপত্র অনুযায়ী, ভিটামিন ‘এ’ শুধু শিশুদের অপুষ্টিজনিত অন্ধত্ব থেকেই রক্ষা করে না, বরং এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, দীর্ঘমেয়াদি ডায়রিয়া প্রতিরোধ করে এবং শিশুর মৃত্যুঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে দেয়।

উল্লেখ্য, শিশুদের অন্ধত্ব ও পুষ্টিহীনতা দূর করতে বাংলাদেশে ১৯৭৩ সাল থেকে ‘জাতীয় রাতকানা রোগ প্রতিরোধ কার্যক্রম’-এর অধীনে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো শুরু হয়। ১৯৯৫ সালে এটি জাতীয় টিকাদান দিবসের সঙ্গে যুক্ত হয় এবং ২০০৩ সাল থেকে এর নাম দেওয়া হয় ‘জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন’। ২০১১ সাল থেকে এটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় পুষ্টিসেবা (এনএনএস) কার্যক্রমের আওতায় পরিচালিত হয়ে আসছে।

সর্বশেষ পাওয়া সংবাদ