চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। এ বছরর ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। এতে পাস করেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন শিক্ষার্থী। এছাড়া পরীক্ষায় ফেল করেছে ৬ লাখ ৯০ হাজার ৬০৮ জন। এছাড়া সারা দেশে ৩১২ প্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। এর মধ্যে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের ৫৭টি, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের ২২৬টি এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ২৯টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এছাড়া বিদেশের একটি পরীক্ষাকেন্দ্রেও কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১০টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশের উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
চলতি বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করেছিল। এর মধ্যে নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য ফরম পূরণ করে ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দাখিল পরীক্ষায় ফরম পূরণ করে ৩ লাখ ৪ হাজার ২৮৬ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় ফরম পূরণ করে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন শিক্ষার্থী।
ফলাফলে দেখা গেছে, এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেনি। বিশেষ করে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীন ২২৬টি প্রতিষ্ঠানে শতভাগ শিক্ষার্থী ফেল করেছে, যা শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি।
মাদসা শিক্ষা বোর্ডে এ বছর গড় পাসের হার ৫৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ। এ বোর্ড জিপিএ–৫ পেয়েছেন ৬ হাজার ৭১৬ জন পরীক্ষার্থী। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৫৮ দশমিক ২০ শতাংশ। জিপিএ–৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৯৫১ জন পরীক্ষার্থী।
ফলাফলে ছাত্রদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে ছাত্রীরা। সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে ছাত্রদের চেয়ে ১ লাখ ৭ হাজার ৯৮২ জন বেশি ছাত্রী উত্তীর্ণ হয়েছে। শুধু পাসের হার নয়, জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রেও এগিয়ে ছাত্রীরা—ছাত্রদের চেয়ে ১১ হাজার ৪০১ জন বেশি ছাত্রী জিপিএ-৫ পেয়েছে।
এসএমএসে যেভাবে ফল জানা যাবে
পরীক্ষার্থীরা শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট ও মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে ফলাফল জানতে পারছেন। ফল দেখা যাচ্ছে ‘eduboardresults.gov.bd’ (https://eduboardresults.gov.bd) এবং ‘educationboardresults.gov.bd’ (https://educationboardresults.gov.bd) ওয়েবসাইটে।
এছাড়া মুঠোফোনে যেকোনো সিম ব্যবহার করে এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানা যাবে। এ জন্য মেসেজ অপশনে গিয়ে প্রথমে SSC লিখে স্পেস দিয়ে বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর, এরপর রোল নম্বর লিখতে হবে। এরপর স্পেস দিয়ে YEAR লিখে ১৬১৪০ নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হবে। ফিরতি এসএমএসে পরীক্ষার ফল জানিয়ে দেয়া হবে।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এসএমএসের ফরম্যাট হবে SSC DHA ROLL YEAR। মাদরাসা বোর্ডের অধীন দাখিল পরীক্ষার্থীদের ফল জানতে SSC MAD ROLL YEAR লিখে ১৬১৪০ নম্বরে পাঠাতে হবে। আর কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষার্থীদের SSC TEC ROLL YEAR লিখে একই নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হবে।
প্রতিটি এসএমএসের জন্য ১ টাকা ৩৯ পয়সা চার্জ প্রযোজ্য হবে। এই চার্জের মধ্যে সব ধরনের কর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এদিকে ফল প্রকাশের পর কোনো পরীক্ষার্থী তার প্রাপ্ত নম্বর নিয়ে অসন্তুষ্ট হলে পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করতে পারবেন। আগামী ১১ আগস্ট থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত অনলাইনে এ আবেদন নেয়া হবে।
শনিবার (৮ আগস্ট) বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা ২০২৬-এর ফল প্রকাশের পর পুনর্নিরীক্ষণের জন্য ১১ থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করা যাবে। আবেদনপ্রক্রিয়া ও সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা নিজ নিজ শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।
যেভাবে ফল জানা যাবে
ফল প্রকাশের পর পরীক্ষার্থীরা তিনটি প্রধান উপায়ে ফল জানতে পারবেন
শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট
নিজ নিজ শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে ফলাফল দেখা যাবে।
কেন্দ্রীয় ওয়েবসাইট
eduboardresult.gov.bd এবং educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইট থেকেও ফল জানা যাবে।
এসএমএস
মুঠোফোনের যেকোনো সিম থেকে নির্ধারিত ফরম্যাটে ১৬১৪০ নম্বরে এসএমএস পাঠিয়ে ফল জানা যাবে।
উল্লেখ্য, গত ২১ এপ্রিল সারা দেশে একযোগে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়। এতে অংশ নেয় ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে সাধারণ ৯টি শিক্ষা বোর্ডে ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন, মাদ্রাসা বোর্ডের অধীন দাখিলে ৩ লাখ ৪ হাজার ২৮৬ জন এবং কারিগরি বোর্ডের অধীন পরীক্ষায় বসে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন শিক্ষার্থী।
সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর অধীন এসএসসির লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ২০ মে। অন্যদিকে মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের দাখিল এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষার লিখিত অংশ শেষ হয় ২৪ মে।
নিয়ম অনুযায়ী পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে ফল প্রকাশের বিধান থাকলেও এ বছর নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেছে।