বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
শিরোনাম
ঝুপড়ি ঘরে এসি-সিসি ক্যামেরার রাজকীয় মাদক আস্তানা গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন ভাগনেকে বিয়ে করলেন মামী, দেশে ফিরে আত্মহত্যা প্রবাসীর সেপ্টেম্বর-অক্টোবর থেকে ধাপে ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচন: সংসদে সমবায়মন্ত্রী স্ত্রীকে হত্যার পর আত্মহত্যার নাটক, স্বামী গ্রেপ্তার কলকাতায় ‘হেনস্তার’ বিষয়ে যা বললেন মোশাররফ করিম শুরু হলো ‘প্লে উইথ আইপিডিসি’ ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ ক্যাম্পেইন নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, তত্ত্বাবধায়ক ক্লোজড রাষ্ট্র এখন গণমাধ্যমের সহযোগী অংশীদার, চোখ রাঙানোর দিন শেষ: তথ্যমন্ত্রী ক্যালিফোর্নিয়ায় বোমারু বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ৮ সূচকের পতনে লেনদেন শেষ
advertisement
অর্থ-বাণিজ্য

কর্মসংস্থান ও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে কৃষির ব্যয় কাঠামো পরিবর্তনের পরামর্শ বিশ্বব্যাংকের

বাংলাদেশে কৃষি খাতের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান বাড়াতে সরকারি ব্যয়ের ধরনে বড় পরিবর্তনের পরামর্শ দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটির মতে, শুধু সার ভর্তুকি ও ধানকেন্দ্রিক নীতিতে আটকে না থেকে কৃষি গবেষণা, আধুনিক সেচ, বাজার সংযোগ এবং জলবায়ু সহনশীলতায় বেশি বিনিয়োগ করা প্রয়োজন।

সোমবার (১৫ জুন) প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কৃষিতে আরও কার্যকর ও লক্ষ্যভিত্তিক সরকারি ব্যয় উৎপাদনশীলতা বাড়াতে, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে এবং জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় বড় সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

‘রিপারপোজিং অ্যাগ্রিকালচারাল পাবলিক স্পেন্ডিং ফর কোয়ালিটি গ্রোথ অ্যান্ড জবস ইন বাংলাদেশ’জ অ্যাগ্রিফুড সিস্টেম’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ মোট সরকারি ব্যয়ের প্রায় ১০ শতাংশ কৃষি খাতে বরাদ্দ দেয়, যা এই খাতের প্রতি সরকারের উচ্চ অগ্রাধিকারকে নির্দেশ করে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কৃষি প্রবৃদ্ধির গতি কমেছে, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির হার শ্লথ হয়েছে এবং উচ্চমূল্যের কৃষিপণ্যে বৈচিত্র্য আনার ক্ষেত্রেও কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে কৃষি মন্ত্রণালয়ের বাজেটের প্রায় ৮০ শতাংশই চলে যায় সার ভর্তুকিতে। যদিও এই ভর্তুকি দেশের কৃষি উৎপাদন ও খাদ্যের মূল্য স্থিতি বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে, তবে এর বিতরণ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বৈষম্য রয়েছে।

ভর্তুকি মূলত সারের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে দেওয়া হয়, যার ফলে বেশি জমির মালিকেরা এর বড় সুবিধাভোগী। দেশের শীর্ষ ২০ শতাংশ বড় ভূমির মালিক মোট সার ভর্তুকির প্রায় অর্ধেক (৫০%) সুবিধা পান। বিপরীতে, নিচের সারির ৪০ শতাংশ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক পান মাত্র ১৫ শতাংশ সুবিধা।

বিশ্বব্যাংকের মতে, দেশে সারের ব্যবহারেও তীব্র ভারসাম্যহীনতা রয়েছে। মাত্র ৫ শতাংশ কৃষক সুপারিশকৃত মাত্রায় সুষম সার ব্যবহার করেন। এ অবস্থার উন্নতি করা গেলে ফসলের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব।

বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানবিষয়ক কান্ট্রি ডিরেক্টর জিন পেসমি বলেন, 

“কৃষি বাংলাদেশের উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্য হ্রাসের কেন্দ্রবিন্দু। তবে জলবায়ু ঝুঁকি, খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন, সীমিত আর্থিক সক্ষমতা এবং বৈশ্বিক ভূরাজনীতি ও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে সার সরবরাহ ও দামের অস্থিরতা বর্তমান নীতিমালা ও ব্যয় কাঠামোর দুর্বলতাগুলোকে সামনে নিয়ে এসেছে।”

তিনি আরও যোগ করেন, সহায়তা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং ধীরে ধীরে উচ্চ ফলদায়ী বিনিয়োগের দিকে ব্যয় পুনর্বিন্যাস করলে বাংলাদেশ আরও উৎপাদনশীল ও সহনশীল কৃষি-খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারবে।

প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, সরকারি সহায়তার বড় অংশ ধান উৎপাদনকে কেন্দ্র করে থাকায় কৃষিতে বৈচিত্র্য আনার গতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বর্তমানে দেশের আবাদযোগ্য জমির প্রায় ৭২ শতাংশে ধান চাষ হয় এবং মোট ভর্তুকির প্রায় ৮০ শতাংশই পায় এ খাত। অথচ প্রাণিসম্পদ, মৎস্য, শাকসবজি ও কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো উচ্চমূল্যের কৃষি খাতে আয় বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা তুলনামূলক অনেক বেশি।

বিশ্বব্যাংকের সংস্কার সুপারিশসমূহ
পরিস্থিতি উত্তরণে প্রতিবেদনে ধাপে ধাপে কিছু সংস্কারের সুপারিশ করা হয়েছে:

স্বল্পমেয়াদি পদক্ষেপ: মাটির গুণাগুণ পরীক্ষা ব্যবস্থার সম্প্রসারণ, কৃষকদের জন্য আধুনিক পরামর্শসেবা জোরদার করা এবং ডিজিটাল ‘কৃষক কার্ড’ ও ‘ই-ভাউচার’ ব্যবস্থার মাধ্যমে সরাসরি দরিদ্র ও জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের কৃষকদের কাছে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া।

দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ: ভর্তুকি ব্যবস্থাপনা আরও দক্ষ ও লক্ষ্যভিত্তিক করা। এর মাধ্যমে সাশ্রয় হওয়া অর্থ সরাসরি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও উচ্চমূল্যের কৃষিখাতে বিনিয়োগ করা।

বিশ্বব্যাংকের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ এবং এই প্রতিবেদনের সহলেখক মনসুর আহমেদ বলেন,

“সার ভর্তুকির নকশা ও বিতরণব্যবস্থার আধুনিকায়ন বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়, কৃষি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং মাটির উর্বরতা রক্ষার পাশাপাশি প্রকৃতপক্ষে যার প্রয়োজন, সেই ক্ষুদ্র কৃষকের কাছে সহায়তা পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

সর্বশেষ পাওয়া সংবাদ