শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬
শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম
সিএনজি-কাভার্ডভ্যান সংঘর্ষে মাদরাসা ছাত্রের মৃত্যু মদ্যপ হয়ে অশোভন আচরণ - প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিনের এমপিও স্থগিত বাফেদার উদ্যোগে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ - আজই শুরু হচ্ছে শেষ ষোলোর লড়াই, দেখে নিন সময়সূচি জুলাই আন্দোলনকে কটাক্ষ - অভিনেত্রী শাওন ও মাহিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ১ ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির দিকে এগোচ্ছে দেশ: অর্থমন্ত্রী এসআইবিএলে রাজশাহী-রংপুর অঞ্চলের শাখাসমূহের বিজনেস রিভিউ মিটিং অনুষ্ঠিত ‘জুলাই অভ্যুত্থান কোনো দল বা ব্যক্তির নয়, এটি সব মানুষের অর্জন’: প্রধানমন্ত্রী শিল্পী সমিতির সভাপতি শিবা শানু, সম্পাদক জয় চৌধুরী আরও ৫ লাখ টন জ্বালানি তেল কিনছে সরকার
advertisement
সারাদেশ

‘ছেলে জঙ্গি হবে এটা বিশ্বাস করতে পারছি না’

সেলিম রেজা, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: টানা চৌদ্দ বছর দেশের বাইরে থেকে উপার্জন করেছেন। এরপর নিজ বাড়ি যমুনায় ভেঙ্গে গেলে বাসাভাড়া নিয়ে শহরে থেকে ছেলেকে পড়িয়েছেন। সেই ছেলে জঙ্গি হবে মানতেই পারছেন না রাফিউলের পিতা সাইফুল ইসলাম।

তিনি বলেন, আমার একমাত্র ছেলে রাফিউল ইসলাম রিয়ান ছোটবেলা থেকেই খুবই শান্ত এবং মেধাবী। শান্ত স্বভাব এবং পড়ালেখায় ভালো ছিলো বলে এলাকায় সবাই ওকে খুব আদর করতো। সেই ছেলে যে আমার কুলাউড়ার জঙ্গি আস্তানায় ধরা পড়বে এটা ভাবতে পারছি না। ও ছাত্রলীগের রাজনীতিকে ওর আদর্শ মানতো। আমি নিজেও ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলাম। কিন্তু কেমন করে কি হয়ে গেলো। আমি হার্টের রোগী। এসব কিভাবে সামলাবো? এখন নিজের গ্রাম যমুনায় ভেঙ্গে যাবার পরে অন্য স্থানে চলে এসেছি। এখন কাউকেই একথা বলে বোঝাতে পারছি না। কথাগুলো বলতে বলতে অনেকবার দম নেন কুলাউড়ার জঙ্গি আস্তানায় গ্রেপ্তার রাফিউল ইসলাম ওরফে রিয়ানের পিতা সাইফুল ইসলাম(৫১)। তার জন্মস্থান সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার মাইজবাড়ী ইউনিয়নের ঢেকৃরিয়া গ্রামে।

যমুনায় নিজের ভিটেমাটি হারানোর পরে ২০০৩ সাল থেকে বগুড়ার শেরপুর শহরে বাসাভাড়া নিয়ে পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন তিনি। রাফিউলের মা রেবা খাতুন মাইজবাড়ী ইউনিয়নের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ২০০১ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করেন। সদস্যপদে দায়িত্ব পালন করেছেন ২০১০ সাল পর্যন্ত। একমাত্র ছেলেকে ভালো স্কুলে পড়ানোর জন্যে সাইফুল পরিবার সহ ২০০৮ সাল থেকে স্থায়ীভাবে শেরপুর শহরে বাসাভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেন। সেখানকার সামিট ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজে ছেলেকে ভর্তি করেন। সেখান থেকে ২০২০ সালে এসএসসি পাস করেন রাফিউল। এরপর একই প্রতিষ্ঠান থেকে ২০২২ সালে এইচএসসি পাশ করেন তিনি। এরপর লক্ষ ছিলো প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার। কিন্তু সেটি না হবার কারণে কাজিপুর সরকারি মনসুর আলী কলেজে ভর্তি হন। সেখান থেকে চারমাস পরে চলে যান পাবনায়। কিন্তু পাবনা গিয়ে তিনি শিক্ষকতার চাকুরি নেন সেখানকার তালিমুল একাডেমিতে-জানান রাফিউলের পিতা।

তিনি বলেন, ছেলের বন্ধু বান্ধবেরা অনেকেই ভালো জায়গায় চান্স না পাওয়ায় আবারো ভর্তির সুযোগ নেবার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু পাবনা যাবার পরে সেখানে মাদ্রাসায় চাকুরি নিলে সে বাড়ি আসতো দেরিতে। মনে করেছি ছেলে আমার ভালই আছে। কিন্তু কিযে হয়ে গেলো।

রাফিউলের মা রেবা খাতুন জানান, দুই সপ্তাহ আগে ফোনে ছেলে জানায় সে বন্ধুদের সাথে কক্সবাজার ঘুরতে যাবে। কয়েকদিন থাকবে সেখানে। কয়েকদিন যাবৎ তার সাথে ফোনে কথাও হয়না। এরইমধ্যে মুনতে পেলাম ছেলে আমার গ্রেপ্তার হয়েছে। কিন্তু আমার ছেলে এমনটি করতেই পারে না। বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে হয়তো এমনটি করেছে।

সাইফুল ইসলাম জানান, তিনি ১৯৯১-৯২ সালে কাজিপুর সরকারি মনসুর আলী কলেজ ছাত্র সংসদের ছাত্রলীগের প্যানেলের নির্বাচিত ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। এরপর আগে তিনি মাইজবাড়ী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন বলে জানান।

২০২২ সালে ছেলে শেরপুর থেকে চলে গেলে সাইফুল ইসলাম বসবাস বগুড়া জেলার ধুনট থানার মাটিকোড়া গ্রামে বসতি গড়েছেন।

আরও পড়ুন:

স্ত্রীসহ চিকিৎসকের জঙ্গি সংশ্লিষ্টতায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি, বিব্রত পরিবার

সর্বশেষ পাওয়া সংবাদ