29 C
Dhaka
জুলাই ৪, ২০২০
Latest BD News – Corporate Sangbad | Online Bangla NewsPaper BD
অর্থ-বাণিজ্য

১০ মিনিটে পণ্য শুল্কায়নের রেকর্ড বেনাপোল কাস্টমসের

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক : শুল্কায়ন সময় হ্রাসে নতুন রেকর্ড গড়লো বেনাপোল কাস্টমস। ১০ মিনিটে শুল্কায়ন শেষ। ১৯ মিনিটে রিলিজ অর্ডার। গত ১৯ মে এ রেকর্ড করে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বেনাপোল কাস্টমস হাউস। ভারত থেকে ২১টি রেল ওয়াগন বোঝাই পাটবীজ আমদানি হয়। এছাড়া ৭ লাখ ৭৫ হাজার কেজি (৭৭৫ মেট্রিক টন) ধানবীজ। সম্ভাব্য খাদ্য সংকট রোধে ধানবীজ দ্রুত কৃষকের হাতে পৌঁছাতে নজিরবিহীন এ পদক্ষেপ নেন কমিশনার বেলাল হোসাইন চৌধুরী।

এনবিআরের কেন্দ্রীয় কাস্টমস সফটওয়্যার অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ডর তথ্যে দেখা যায়, ধানবীজের ওয়াগনগুলো ১৯ মে সন্ধ্যা ৭টা ১৯ মিনিটে রেলওয়াগনে বেনাপোল রেলস্টেশনে পৌঁছে। রাত ১১টা ২৭ মিনিটে সিএন্ডএফ এজেন্ট সারথি এন্টারপ্রাইজ সিস্টেমে বিল অব এন্ট্রি রেজিস্ট্রেশন করে আর ১১টা ৩৬ মিনিটে রাজস্ব কর্মকর্তা নঈম মীরন শুল্কায়ন অনুমোদন করেন। আর ৯ মিনিটে সিএন্ডএফ এজেন্ট পরবর্তী সোনালী ব্যাংকে শুল্ককর জমা করেন। আর ১১টা ৪৬ মিনিটে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মিজানুর রহমান রিলিজ অর্ডার প্রিন্টেড করে। সর্বসাকুল্যে ১৯ মিনিটে শুল্কায়ন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। এর মধ্যে ১০ মিনিটে শুল্কায়ন ও পরবর্তী ৯ মিনিটে রিলিজ অর্ডার প্রিন্ট হয়।

রাজস্ব কর্মকর্তা নঈম মীরন বলেন, সমগ্র আমদানি প্রক্রিয়ায় এটুকুই কাস্টমসের কাজ। শেষ ৯ মিনিট সময় সিএন্ডএফ এজেন্ট টাকা জমা দিতে নিয়েছেন। সব ঠিক থাকলে ৫ মিনিটেও আমরা শুল্কায়ন করার দক্ষতা অর্জন করেছি। কাগজপত্র ঠিক থাকলে কেবল রেল কার্গো নয়, সব ধরণের চালানই দ্রুত শুল্কায়ন করা যায়।

আমদানি চালান বৃত্তান্তে দেখা যায়, ভারত থেকে ২টি চালানে রাইসসীড (ধানবীজ) আমদানি হয়। ২১টি রেল ওয়াগনে ৭ লাখ ৭৫ হাজার কেজি ধানবীজ আমদানি হয়। ঢাকার গুলশানের বায়ার ক্রপসাইন্স লিমিটেড ভারতের বায়ারবায়ো সায়েন্স প্রাইভেট লিমিটেড থেকে এসব বীজ ক্রয় করে। সিএন্ডএফ এজেন্ট সারথী এন্টারপ্রাইজ বিল অব এন্ট্রি দাখিল করে (সি-২১৯৯৩ ও ২১৯৯৪)। দি সিটি ব্যাংক গুলশান শাখায় এলসি খোলে। এসব বীজের শুল্ক-কর ৭৫ লাখ ৩৩ হাজার ৫০৮ টাকা।

রেল কার্গোতে আমদানি দ্রুত শুল্কায়ন ও খালাস হয়। সময় ও খরচ সাশ্রয়ের সাথে পণ্য নষ্ট হয় না। পার্কিং সিন্ডিকেট মাঝপথে ট্রাক আটকে চাঁদাবাজি করতে পারে না। রেল কার্গোতে লকডাউন ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে আমদানি করা হয় এবং করোনা ঝুঁকি থাকে না।

ট্রাক ও রেল কার্গোর তুলনা করে দেখা যায়, বর্তমান রেল কার্গোটি মাত্র সাড়ে ৩ ঘণ্টায় ভারত থেকে বেনাপোলে পৌঁছে। এক ওয়াগন ৪ ট্রাকের সমান পণ্য আনা যায়। রেল কার্গোতে মিথ্যা ঘোষণার সুযোগ কম। ভাড়া ট্রাকের তুলনায় অর্ধেকেরও কম। দিনে ১০০ বগির একটি ট্রেন ৪০০ ট্রাকের সমান পণ্য আনতে পারে।

ট্রাকে ধানবীজের এ চালানটি আমদানি হলে ৫ থেকে ৬ দিন খালাস পর্যন্ত লাগত। ৫০টির বেশি ট্রাকের প্রয়োজন হতো। ৫০ জন ড্রাইভার, একজন না এলে খালাস বন্ধ। যানজট বন্দরে ও রাস্তায় সৃ্ষ্টির কারণ হতো। ট্রাকে একই চালানের ভাড়া দ্বিগুণেরও বেশি। প্রান্তিক ভোক্তা কৃষকের ব্যয় প্রায় ২৫% বেড়ে যেত। শুল্কায়নে এ রেকর্ড চোখে আঙ্গুল দিয়ে কয়েকটি জিনিস দেখিয়ে দিল। আমরা চাইলে পারি! এ সকল ক্ষেত্রে দরকার যোগ্য নেতৃত্ব। বেনাপোল যেটা সম্ভব করেছে।

এভাবে দেশের অন্যান্য কাস্টমসের কর্মকর্তা, বন্দর, সিএন্ডএফ এজেন্ট, দেশের ব্যবসায়ীরা উদ্বুদ্ধ হয়ে কাজ করলে এবং বাণিজ্য সংশ্লিষ্ট সরকারে অন্যান্য সংস্থাগুলো একই গতিতে বিশ্বব্যাংকের ‘ডুয়িং বিজনেস ইনডেক্স’ খুব দ্রুত ৫০ নিচে নামিয়ে আনা সম্ভব। আমরা বিশ্বকে এভাবে ‘কাজে বড়’ প্রমাণ করতে চাই।


আরো খবর »

শিল্পখাতের চাহিদা অনুযায়ী শিক্ষা কারিকুলামের যুগোপযোগীকরণ চায় ব্যবাসয়ীরা

*

শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা পৌছে যাবে রূপালী ব্যাংক শিওরক্যাশের মাধ্যমে

Polash

জমি ও ফ্ল্যাটের নিবন্ধন ফি কমল

*