29 C
Dhaka
সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২০
Latest BD News – Corporate Sangbad | Online Bangla NewsPaper BD
আর্কাইভ জানা অজানা শেয়ার বাজার

উদ্যোক্তা-পরিচালকদের বেশি শেয়ার ও অধিক লভ্যাংশের ৭ এমএনসি !

বিশেষ প্রতিবেদক; পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত এমন অনেক কোম্পানি রয়েছে, যেখানে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ শেয়ার নেই যা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এর নির্দেশনা লংঘনের শামিল। আবার অন্যদিকে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থরক্ষা এবং দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ শেয়ার থাকাটাও জরুরি। অবশ্য পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির মধ্যে কতিপয় কোম্পানির উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের নিজনিজ কোম্পানিতে ৫০ শতাংশের অধিক শেয়ার রয়েছে। এসব কোম্পানি আবার প্রতি বছর অধিক লভ্যাংশও দেয় বিনিয়োগকারীদের।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের দায়বদ্ধতা নির্ভর করে তাদের শেয়ার ধারণের ওপর। যেসব কোম্পানিতে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের শেয়ার ধারণের পরিমাণ বেশি, সেসব কোম্পানির ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের ওপর তাদের নজরদারি ও দায়-দায়িত্ব অনেক বেশি থাকে। ফলে তারা নিজেদের স্বার্থে এবং দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে বিনিয়োগকারীদের ভালো লভ্যাংশ দিয়ে থাকেন, আর এ বিষয়টি বিনিয়োগকারীদের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের আস্থা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের শেয়ারহোল্ডিং বেশি না থাকলে তাদের দায়বদ্ধতা থাকে ঠিকই কিন্তু তা তারা এড়িয়ে যান, কারন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এর নির্দেশনা লংঘনের কারনে তাদের কিছুই হয়না। আর দায়বদ্ধতার না থাকার কারণে কোম্পানিগুলো শেয়ারহোল্ডারদের ভালো লভ্যাংশ দেয়না। এ জন্য কোম্পানিগুলোতে যাদের বড় শেয়ার ধারণ রয়েছে এমন  শেয়ারহোল্ডারদের নিয়ে পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা উচিত। এতে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের দায়বদ্ধতা বাড়বে। আমাদের পুঁজিবাজারে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের বড় শেয়ার ধারণ করা কোম্পানির সংখ্যা খুবই কম, কিন্তু যেগুলোতে আছে সে কোম্পানিগুলো বিনিয়োগকারীদের ভালো লভ্যাংশ দিচ্ছে। সুতরাং তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর জন্য শেয়ারহোল্ডিং স্ট্রাকচার নির্ধারণ করা খুবই প্রয়োজন।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের শেয়ারহোল্ডিং পজিশন/অবস্থা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, তালিকাভুক্ত কোম্পানির মধ্যে কতিপয় কোম্পানি রয়েছে যাদের উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের স্ব স্ব কোম্পানিতে ৫০ শতাংশের অধিক শেয়ার ধারণ রয়েছে। এসব ভাল উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কোম্পানির মধ্যে শুধু দেশীয় না ও বহুজাতিক কোম্পানিও আছে।

বার্জার পেইন্টস : ডিএসইতে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, কোম্পানিটির মোট শেয়ার সংখ্যা ৪ কোটি ৬৩ লাখ ৭৭ হাজার ৮৮০টি। এর মধ্যে ৯৫  শতাংশ শেয়ার রয়েছে  কোম্পানির উদ্যোক্তা-পরিচালকদের হাতে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ২ দশমিক ৪৫ শতাংশ, প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের হাতে ১ দশমিক ১৪ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে ১ দশমিক ৪১ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। কোম্পানিটির ৫ বছরের ডিভিডেন্ড বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০১৫ সালে ৩৭০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ, ২০১৭ সালে ৬০০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ, ২০১৮ সালে ২০০ শতাংশ নগদ ও ১০০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ এবং ২০১৯ সালে ২৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল । 

ইউনাইটেড পাওয়ার : ডিএসইতে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, কোম্পানিটির মোট শেয়ার সংখ্যা ৫২ কোটি ৬৯ লাখ ৯৫ হাজার ৭০১টি। এর মধ্যে ৯০ শতাংশ শেয়ার রয়েছে  কোম্পানির উদ্যোক্তা-পরিচালকদের হাতে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ৭ দশমিক ১৩ শতাংশ, প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের হাতে শূণ্য দশমিক ০৫ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে ২ দশমিক ৮২ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। কোম্পানিটির ৫ বছরের ডিভিডেন্ড বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০১৫ সালে কোম্পানিটি ৩০ শতাংশ নগদ ও ১০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছিল, ২০১৬ সালে ১২৫ শতাংশ নগদ , ২০১৭ সালে কোম্পানিটি ৯০ শতাংশ নগদ ও ১০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ, ২০১৮ সালে কোম্পানিটি ৯০ শতাংশ নগদ ও  ২০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ এবং ২০১৯ সালে কোম্পানিটি ১৩০ শতাংশ নগদ ও  ১০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছিল। 

গ্রামীণফোন:  ডিএসইতে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, কোম্পানিটির মোট শেয়ার সংখ্যা ১৩৫ কোটি ৩ লাখ ২২টি। এর মধ্যে ৯০ শতাংশ শেয়ার রয়েছে  কোম্পানির উদ্যোক্তা-পরিচালকদের হাতে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ৩ দশমিক ৯৯ শতাংশ, প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের হাতে ৩ দশমিক ৮৭ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে ২ দশমিক ১৪ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। কোম্পানিটির ৫ বছরের ডিভিডেন্ড বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০১৫ সালে ১৪০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ, ২০১৬ সালে ১৭৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ, ২০১৭ সালে ২০৫  শতাংশ নগদ লভ্যাংশ এবং ২০১৮ সালে ২৮০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল । 

রেকিট বেনকিজার : কোম্পানিটির মোট শেয়ার সংখ্যা ৪৭ লাখ ২৫ হাজার। এর মধ্যে ৮২ দশমিক ৯৬ শতাংশ শেয়ার রয়েছে  কোম্পানির উদ্যোক্তা-পরিচালকদের হাতে। এছাড়া সরকারের কাছে রয়েছে ৩ দশমিক ৭৭ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ, প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের হাতে ৩ দশমিক ০১ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে ৬ দশমিক ৭৭ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। কোম্পানিটির ৪ বছরের ডিভিডেন্ড বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০১৫ সালে ৬৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ, ২০১৬ সালে ৭৭৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ, ২০১৭ সালে ৭৯০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ এবং ২০১৮ সালে ৭০০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল ।

গ্লাক্সোস্মিথক্লাইন : কোম্পানিটির মোট শেয়ার সংখ্যা ১ কোটি ২০ লাখ ৪৬ হাজার ৪৪৯টি। এর মধ্যে ৮১ দশমিক ৯৮ শতাংশ শেয়ার রয়েছে  কোম্পানির উদ্যোক্তা-পরিচালকদের হাতে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ১৫ দশমিক ৫৩ শতাংশ, প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের হাতে শূণ্য দশমিক ৩৭ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে ২ দশমিক ১২ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। কোম্পানিটির ৪ বছরের ডিভিডেন্ড বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০১৫ সালে ৫৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ, ২০১৬ সালে ৫০০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ, ২০১৭ সালে ৫৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ এবং ২০১৮ সালে ৫৩০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল। 

বিএটিবিসি : কোম্পানিটির মোট শেয়ার সংখ্যা ১৮ কোটি। এর মধ্যে ৭২ দশমিক ৯১ শতাংশ শেয়ার রয়েছে কোম্পানির উদ্যোক্তা-পরিচালকদের হাতে। এছাড়া সরকারের কাছে রয়েছে শূণ্য দশমিক ৬৪ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ১০ দশমিক ১৫ শতাংশ, প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের হাতে ১৩ দশমিক ৭৪ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে ২ দশমিক ৫৬ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। কোম্পানিটির ৪ বছরের ডিভিডেন্ড বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০১৫ সালে ৫৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ, ২০১৬ সালে ৬০০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ, ২০১৭ সালে ৬০০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ এবং ২০১৮ সালে ৫০০ শতাংশ নগদ ও ২০০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছিল।

বাটা সু : কোম্পানিটির মোট শেয়ার সংখ্যা ১ কোটি ৩৬ লাখ ৮০ হাজার। এর মধ্যে ৭০ শতাংশ শেয়ার রয়েছে  কোম্পানির উদ্যোক্তা-পরিচালকদের হাতে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ১৮ দশমিক ৯৭ শতাংশ, প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের হাতে ১ দশমিক ৯৪ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে ৯ দশমিক ০৯ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। কোম্পানিটির ৪ বছরের ডিভিডেন্ড বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০১৫ সালে ৩২০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ, ২০১৬ সালে ৩৩০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ, ২০১৭ সালে ৩৩৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ এবং ২০১৮ সালে ৩৪৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল। 

এছাড়াও, উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের শেয়ার ধারণ ৫০% বেশি রয়েছে এমন বেশকিছু কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত রয়েছে যে কোম্পানিগুলোও ধারাবাহিকভাবে বিনিয়োগকারীদের প্রতি বছর বেশি বেশি লভ্যাংশ দিচ্ছে এবং কোম্পানিগুলোর শেয়ার দরও পুঁজিবাজারে ভালো অবস্থানে রয়েছে। উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের বড় শেয়ার হোল্ডিং থাকা কোম্পানিগুলো ভালো নগদ লভ্যাংশ দিয়ে থাকে। কোম্পানিগুলোর লভ্যাংশ প্রদানের এ ধারাবাহিকতা বজায় রাখলে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ আরো বাড়বে। এছাড়া, উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের বড় শেয়ার ধারণের কারণে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিতে প্রতিষ্ঠানিক ও বৈদেশিক বিনিয়োগ ভালো পরিমাণে রয়েছে। ফলে সার্বিক দিক বিবেচনায় কোম্পানিগুলো বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের তালিকায় রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের বড় শেয়ার ধারণ থাকা কোম্পানিগুলো প্রাতিষ্ঠানিক সুশান মেনে চলে। এতে কোম্পানিগুলোতে অনিয়মের সম্ভাবনা কম থাকে। ফলে কোম্পানিগুলোর শেয়ার দর ভালো অবস্থানে রয়েছে। এ কারণেই ওই কোম্পানিগুলোতে প্রাতিষ্ঠানিক ও বৈদেশিক বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে রয়েছে। পাশাপাশি, কোম্পানি কর্তৃপক্ষ প্রতিবছর বিনিয়োগকারীদের জন্য ভালো পরিমাণ নগদ ও বোনাস লভ্যাংশ দিচ্ছে। এতে বিনিয়োগকারীরা ক্যাপিটাল গেইনের পাশাপাশি ডিভিডেন্ড গেইনও করছেন। কিন্তু এখানে বুঝবার বিষয় হলো লভ্যাংশ আসলে কারা বেশি পেলো ?


আরো খবর »

সপ্তাহজুড়ে ব্লক মার্কেটে মোট লেনদেন ৪৫ কোটি টাকা

Tanvina

শচীন কন্যা সারার সঙ্গে গোপন প্রেমে শুভমান গিল?

উজ্জ্বল

বিডিবিএল সিকিউরিটিজের পরিচালক হলেন কামরুল হক

Tanvina