32 C
Dhaka
অগাস্ট ৭, ২০২০
Latest BD News – Corporate Sangbad | Online Bangla NewsPaper BD
আইন-আদালত আর্কাইভ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হত্যা মামলায় স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড, বাবার যাবজ্জীবন

মাজহারুল করিম অভি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে একটি হত্যা মামলায় স্বামী-স্ত্রীকে মৃত্যুদণ্ড ও বাবাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।বুধবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক সাবেরা সুলতানা খানম এই দন্ডাদেশ প্রদান করেন। রায়ে অভিযোগ প্রমানিত না হওয়ার দুইজনকে বেকসুর খালাস প্রদান করা হয়।

মৃত্যুদন্ডাদেশ প্রাপ্তরা হলেন- নায়ায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার খাদুল গ্রামের আমির উদ্দিনের ছেলে আফজাল কৈয়া ও তার স্ত্রী হেলেনা বেগম। মামলায় আফজাল কৈয়ার পিতা আমির উদ্দিনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড ও ১০হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো ৬ মাসের সশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা হয়। এ ছাড়া আমির উদ্দিনের অপর দুই ছেলে মোঃ সুমন এবং ওমর ফারুককে বেকসুর খালাস প্রদান করেন আদালত।

রায় ঘোষনার সময় আফজাল কৈয়া ও তার পিতা আমির উদ্দিন আদালতে উপস্থিত ছিলেন এবং হেলেনা বেগম ইতিপূর্বে আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার খাদুল গ্রামের শুক্কুর আলী প্রকাশ ফালান মিয়া একই এলাকার আমির উদ্দিনের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা দিয়ে ১ কাঠা জমি ক্রয় করেন। পরে ফালান মিয়ার নামে জমি রেজিষ্ট্রি করে দিতে টালবাহানা শুরু করেন আমির উদ্দিন।

এক পর্যায়ে ২০১২ সালের ৯ ডিসেম্বর ফালান মিয়াকে জমি রেজিষ্ট্রি করে দেয়ার কথা বলেন আমির। পরে নির্ধারিত তারিখের দুইদিন আগে ২০১২ সালের ৭ ডিসেম্বর আমির উদ্দিন ও তার ছেলে আফজাল কৈয়া শুক্কুর আলী প্রকাশ ফালান মিয়াকে পার্শ্ববর্তী ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার চর-মরিচাকান্দি গ্রামে আফজাল কৈয়ার শ্বশুর বাড়িতে দাওয়াত করে নিয়ে যান।

সেখানে যাওয়ার পর শুক্কুর আলীকে স্থানীয় মরিচাকান্দি এলাকার মেঘনা নদীর কাছে নিয়ে আফজাল কৈয়া ও তার স্ত্রী হেলেনা বেগম এলোপাতারি ছুরিকাঘাত করে হত্যা শেষে লাশ মেঘনা নদীতে ভাসিয়ে দেন। পরদিন ৮ ডিসেম্বর সকালে বাঞ্ছারামপুর উপজেলার সোনারামপুর ইউনিয়নের কানাইনগর এলাকার মেঘনা নদী থেকে শুক্কুর আলী প্রকাশ ফালান মিয়ার লাশ অজ্ঞাতনামা হিসেবে উদ্ধার করে লাশের ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে পুলিশ।

এদিকে মেঘনা নদী থেকে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির লাশ উদ্ধারের পর সোনারামপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের চৌকিদার মোঃ শাহআলম বাদী হয়ে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলামের মাধ্যমে ফালান মিয়ার লাশ দাফন করে।

এদিকে ঘটনার এক সপ্তাহ পরে আফজাল কৈয়া ও তার স্ত্রী হেলেনা বেগম গ্রামে ফিরে আসলে তাদের কাছে শুক্কুর আলী প্রকাশ ফালান মিয়া কোথায় আছে জানতে চান ফালানের স্ত্রী পারভীন আক্তার।

এ সময় স্বামী-স্ত্রী প্রথমে অসংলগ্ন কথাবার্তা বললেও পরে স্থানীয় ইউপি মেম্বারের উপস্থিতিতে পুনরায় তাদেরকে জিজ্ঞেস করলে তারা জানায়, শুক্কুর আলীকে মেরে মেঘনা নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে। এসময় গ্রামের লোকজন হেলেনা বেগমকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। এ সময় আফজল কেয়া কৌশলে পালিয়ে যান। পরে গ্রেপ্তারকৃত হেলেনা বেগম আদালতে ১৬৪ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।

দীর্ঘ তদন্ত শেষে গত ২০১৩ সালের ২৯ মে বাঞ্ছারামপুর থানার তৎকালীর এস.আই ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা অংশু কুমার দে এই মামলায় ৫জনকে আসামী করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী শরীফ হোসেন রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

অপর দিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী আমজাদ হোসেন ও আনোয়ার হোসেন বলেন, তারা ন্যায় বিচার পাননি। উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।

আরও পড়ুন: শাজাহান খানের বিরুদ্ধে ইলিয়াস কাঞ্চনের মামলা


আরো খবর »

‘সরকারি কর্মকর্তাদের অফিস করতে হবে ৯টা-৫টা’

*

সিনহা হত্যা: ওসি প্রদীপসহ ৯ আসামিকে কারাগারে

*

টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ গ্রেপ্তার

*