15 C
Dhaka
জানুয়ারী ২২, ২০২০
Latest BD News – Corporate Sangbad | Online Bangla NewsPaper BD
শেয়ার বাজার

সিজিসি পরিপালন করেছে তালিকাভুক্ত ৪ ব্যাংক, মানেনি ২৬টি

নুরুজ্জামান তানিম, কর্পোরেট সংবাদ : পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ‘কর্পোরেট গর্ভনেন্স কোড (সিজিসি)’, ২০১৮ প্রণয়ন করেছে। প্রত্যেকটি তালিকাভুক্ত কোম্পানির জন্য সিজিসি’র সকল কন্ডিশন (শর্ত) পরিপালন করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এক্ষেত্রে বিভিন্ন খাতের কোম্পানিগুলো সিজিসি’র সকল শর্ত পরিপালন করলেও, ব্যাংক খাতের অধিকাংশ ব্যাংক তা যথাযথভাবে মানছে না। মূলত, সিজিসি’র শর্ত ৪(২) ও ৬ তে উল্লিখিত ‘নমিনেশন ও রেমুনারেশন কমিটি (এনআরসি)’ গঠন করার বিষয়টি কৌশলে এড়িয়ে যাচ্ছে ব্যাংকগুলো। ফলে ব্যাংকগুলোর সিজিসি’র শর্ত যথাযথভাবে পরিপালনের বিষয়টি কেবল কাগজ-কলমেই সীমাবদ্ধ রয়ে যাচ্ছে।

এদিকে সিজিসি’র শর্ত পরিপালন না করা সত্ত্বেও কমপ্লায়েন্স অডিট রিপোর্টে ‘হাইলি সেটিসফ্যাক্টরি’ (পরিপূর্ণ সন্তুষ্ট) সার্টিফিকেট (সনদ) পেয়েছে বেশ কয়েকটি ব্যাংক।

পুঁজিবাজারে বর্তমানে ব্যাংক খাতে ৩০টি ব্যাংক তালিকাভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে ২৬টি বা ৮৭ শতাংশ ব্যাংকই সিজিসি’র শর্ত ৪(২) ও ৬ এর নির্দশনা অনুযায়ী ‘নমিনেশন ও রেমুনারেশন কমিটি’ গঠন করেনি। মাত্র ৪টি বা ১৩ শতাংশ ব্যাংক সিজিসি’র শর্ত পরিপালন করে কমিটি গঠন করেছে। আর ওই ২৬টির মধ্যে ৪টি ব্যাংক শর্তগুলো পরিপালন করেছে বলে ভুল তথ্য দিয়েছে।

তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোর সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনা করে এসব তথ্য পেয়েছে কর্পোরেট সংবাদ

সিজিসি’র শর্ত ৪(২) ও ৬ পরিপালন করা ব্যাংকগুলো হলো- আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক, ন্যাশনাল ক্রেডিট অ্যান্ড কমার্স (এনসিসি) ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক ও পূবালী ব্যাংক।

ওই শর্ত পরিপালন না করা উল্লেখযোগ্য ব্যাংকের মধ্যে রয়েছে- ব্রাক ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামি ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া ও এবি ব্যাংক।

মূলত, বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০১১ সালের ২৬ অক্টোবর ও ২০১৩ সালের ২৭ অক্টোবর  জারি করা নির্দেশনার অযুহাত দেখিয়ে ব্যাংকগুলো কৌশলে নমিনেশন ও রেমুনারেশন কমিটি গঠন করেনি।

এক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোর অভিমত- প্রত্যেকটি ব্যাংকের প্রাইমারি রেগুলেটর বাংলাদেশ ব্যাংক। তাই বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা লঙ্ঘন করে বিএসইসি’র নির্দেশনা পরিপালন করার সুযোগ নেই। ফলে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত অধিকাংশ ব্যাংক সিজিসি’র শর্ত ৪(২) ও ৬ পরিপালন করছে না। এ সমস্যাটি সমাধানের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিএসইসি কাজ করছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি পেলেই সিজিসি’র শর্ত ৪(২) ও ৬ পরিপালনে ব্যাংকগুলোর কোনো বাধা থাকবে না।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০১১ সালের ২৬ অক্টোবর জারি করা নির্দেশনায় উল্লেখ রয়েছে- জরুরি বিষয়ে সিদ্ধান্তের জন্য পর্ষদের পরিচালক সমন্বয়ে সর্বোচ্চ ৫ সদস্যের একটি নির্বাহী কমিটি গঠন করা যেতে পারে। নির্বাহী কমিটি ও নিরীক্ষা (অডিট) কমিটি ব্যাতিত পর্ষদ কর্তৃপক্ষ অন্য কোনো স্থায়ী-অস্থায়ী কমিটি বা সাব-কমিটি গঠন করা যাবে না।

এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংককের ২০১৩ সালের ২৭ অক্টোবর  জারি করা নির্দেশনায় উল্লেখ রয়েছে- প্রতিটি ব্যাংককের ক্ষেত্রে একটি ‘নির্বাহী কমিটি’, একটি ‘অডিট কমিটি’ ও একটি রিক্স ম্যানেজমেন্ট কমিটি’ ছাড়া আর কোনো স্থায়ী বা অস্থায়ী বা সাব্-কমিটি গঠন করতে পারবে না।

তবে বিএসইসি’র সিজিসি’র শর্ত ৪(২) ও ৬ এ উল্লেখ রয়েছে- প্রত্যেক তালিকাভুক্ত কোম্পানিকে উপ-কমিটি হিসেবে ‘নমিনেশন ও রেমুনারেশন কমিটি’ গঠন করতে হবে। আর সকল শর্ত পরিপালনের বিষয়ে বিএসইসি’র কর্পোরেট গর্ভনেন্স কোডে বলা হয়েছে- বাংলাদেশের যে কোনো স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোকে সিজিসি’র সকল শর্ত বাধ্যতামূলকভাবে মেনে চলতে হবে। সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অধ্যাদেশ, ১৯৬৯ এর ২সিসি ধারার ক্ষমতাবলে বিএসইসি তা প্রযোজ্য করেছে।

এছাড়া সিজিসি’র শর্ত ৪(২) ও ৬ এ আরো উল্লেখ রয়েছে- সিজিসি পরিপালন সাপেক্ষে কমপ্লায়েন্স অডিট রিপোর্টে শর্ত ‘পরিপালন হয়েছে’ অথবা ‘পরিপালন হয়নি’ বলে তা ‘টিক চিহ্ন’ দিয়ে উল্লেখ করতে হবে। যদি শর্তটি ‘পরিপালন হয়নি’ বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয় তাহলে এর কারণ ব্যাখ্যা দিতে হবে।

এক্ষেত্রে বিএসইসি’র নির্দেশনানুযায়ী ওই ২৬টি ব্যাংক সিজিসি’র শর্ত ৪(২) ও ৬ অনুযায়ী ‘নমিনেশন ও রেমুনারেশন কমিটি’ গঠন করতে ব্যর্থ হয়েছে। এছাড়া ওই ২৬টি মধ্যে ২৪টি ব্যাংক ‘নমিনেশন ও রেমুনারেশন কমিটি’ গঠন না করার বিষয়টি কমপ্লায়েন্স অডিট রিপোর্টে ‘টিক চিহ্ন’ দিয়ে উল্লেখ করেনি। বরং শর্তটি পরিপালন না করার কারণ হিসেবে শুধুমাত্র ব্যাখ্যা দিয়েছে। প্রকৃতপক্ষে ব্যাংকগুলো এ বিষয়টি পরিপালনের ক্ষেত্রে কৌশল অবলম্বন করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে ‘কমপ্লায়েন্স অডিট রিপোর্ট’- এ ‘হাইলি সেটিসফ্যাক্টরি’ সার্টিফিকেট প্রদানের বিষয়ে একাধিক ‘কমপ্লায়েন্স অডিটর’ কর্পোরেট সংবাদকে জানান, সিজিসি’র সকল শর্ত যথাযথভাবে পরিপালনের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিএসইসি’র মধ্যে সমন্বয়হীনতা থাকায় বিভিন্ন কোম্পানির মতোই কমপ্লায়েন্স অডিটররাও দ্বিধান্বিত। কোম্পানিগুলোর কমপ্লায়েন্স অডিট করতে তাদের সব সময়ই বিব্রত হতে হচ্ছে। ফলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে সিজিসি’র সকল শর্ত পরিপালন না করা সত্ত্বেও সার্বিক দিক বিবেচনা করে কমপ্লায়েন্স অডিট রিপোর্টে ‘হাইলি সেটিসফ্যাক্টরি’ উল্লেখ করে সার্টিফিকেট দিতে হচ্ছে কমপ্লাইন্স অডিটরদের। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

কর্পোরেট সেক্টরে প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এ বিষয়টি দ্রুত সুরাহা হওয়া জরুরি বলে মনে করেন কমপ্লাইন্স অডিটররা।

এ বিষয়ে মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ব্যাংক নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) সভাপতি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান কর্পোরেট সংবাদকে বলেন, ‘সিজিসি’র শর্ত পরিপালনের ক্ষেত্রে তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলো যেসব সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে, তা সমাধানের বিষয়ে এবিবি আলোচনা করবে। বাংলাদেশ ব্যাংকেও এ সমস্যা সমাধানের বিষয়ে অবহিত করা হবে।’

‘নমিনেশন ও রেমুনারেশন কমিটি’ গঠন না করার বিষয়ে উত্তরা ব্যাংকের নির্বাহী মহাব্যবস্থাপক ও সচিব ইফতেখার জামান কর্পোরেট সংবাদকে বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনার আলোকেই ‘নমিনেশন ও রেমুনারেশন কমিটি’ গঠন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি। তবে সিজিসি’র শর্তানুসারে উত্তরা ব্যাংক ‘নমিনেশন ও রেমুনারেশন কমিটি’ গঠনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে চিঠিও দেয়া হয়েছে। তাদের অনুমতি পেলেই আমরা কমিটি গঠন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করব।’

এদিকে ‘নমিনেশন ও রেমুনারেশন কমিটি’ গঠন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার বিষয়ে ন্যাশনাল ক্রেডিট অ্যান্ড কমার্স (এনসিসি) ব্যাংকের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও সচিব মো. মনিরুল আলম কর্পোরেট সংবাদকে বলেন, ‘বিএসইসি’র নির্দেশনা অনুযায়ী সিজিসি’র আলোকে আমরা ‘নমিনেশন ও রেমুনারেশন কমিটি’ গঠন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছি এবং এ বিষয়টি অনুমোদনের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকেও অবহিত করেছি।’

একইভাবে আইসিবি ইসলামিক ব্যাংকের সচিব ইমরান বিন আহমাদ কর্পোরেট সংবাদকে বলেন, ‘সিজিসি’র শর্তানুযায়ী আমরা ‘নমিনেশন ও রেমুনারেশন কমিটি’ গঠন করেছি। তবে এ কমিটির কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি পেলে কমিটির কার্যক্রম শুরু করা হবে।’

বিষয়টি নিয়ে বিএসইসি’র নির্বাহী পরিচালক মো. সাইফুর রহমান কর্পোরেট সংবাদকে বলেন, ‘সিজিসি’র শর্ত পরিপালনের বিষয়ে যে আপত্তি উঠেছে, তা সমাধানের লক্ষ্যে কাজ চলছে। যে কোনো নতুন আইন চালু করা হলে, তা পুরোপুরি বাস্তবায়ন হতে একটু সময় লাগে। তাই আশা করা যায়, শিগগিরই আলোচনা সাপেক্ষে সমস্যাটির সুরাহা করা হবে।’

এ সমস্যা সমাধানের বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম কর্পোরেট সংবাদকে বলেন, ‘আর্থিক খাতের কোম্পানিগুলো বিএসইসি’র অনুমোদন সাপেক্ষে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত। তাই কোম্পানিগুলো চাইলে বিএসইসি’র নির্দেশ (সিজিসি) মানতে পারে, এতে কোনো বাধা থাকার কথা নয়। যেহেতু বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলা হচ্ছে, সেহেতু বিএসইসি ও বাংলাদেশ ব্যাংক আলোচনার মাধ্যমে তা সমাধান করতে পারে।’

কর্পোরেট সংবাদ/এনটি/

আরো পড়ুন

কর্পোরেট গভর্নেন্স কোড যথাযথ পরিপালনে ব্যর্থ আইডিএলসি ফাইন্যান্স

আইসিবি’র কমপ্লায়েন্স অডিট রিপোর্টে নানা অসঙ্গতি

কর্পোরেট গভর্নেন্স কোড মানছে না তালিকাভুক্ত ২১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান

 

আরো খবর »

৩ কোম্পানির বোর্ড সভা আজ

Tanvina

এইচ.আর. টেক্সটাইলের এজিএম আজ

Tanvina

নগদ লভ্যাংশ পাঠিয়েছে ৬ কোম্পানি

Tanvina