22 C
Dhaka
নভেম্বর ১৬, ২০১৯
Latest BD News – Corporate Sangbad | Online Bangla NewsPaper BD
খেলাধূলা

বাংলাদেশকে হারিয়ে সমতা ফেরাল ভারত

স্পোর্টস ডেস্ক: প্রথম টি২০তে জেতার পর দ্বিতীয় টি২০ও জিতে যাবে বাংলাদেশ, এমন আশা তৈরি হয়েছিল। তাতে সিরিজ জয় হয়ে যেত। ভারতের মাটিতে প্রথমবারের মতো সিরিজ জয়ের ইতিহাস গড়ত। কিন্তু রোহিত শর্মার ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ম্যাচটি ভারত ৮ উইকেটে জিতে যায়। সিরিজেও ১-১ সমতা আনে। রাজকোটের স্বরাষ্ট্র ক্রিকেট এ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় টি২০তে টস জিতে আগে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। প্রথম টি২০তে বাংলাদেশ টস জিতে ভারতকে আগে ব্যাটিং করতে পাঠায়। এবার ভারত টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠায়। ব্যাটিংয়ের জন্য আদর্শ উইকেট বলেই মনে করেছেন ভারতের কিংবদন্তি ব্যাটসম্যান সুনীল গাভাস্কার। তার কাছে ১৭০ থেকে ১৮০ রান হওয়াটা খুব স্বাভাবিক মনে হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ ৬ উইকেট হারিয়ে ২০ ওভারে ১৫৩ রানের বেশি করতে পারেনি। নাঈম শেখের ৩৬, সৌম্য সরকারের ৩০, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের ৩০ ও লিটন কুমার দাসের ২৯ রানে এই রান হয়। এই রান তুলতে গিয়ে রোহিত শর্মা এমনই ঝড় তুলেন, ৪৩ বলে ৮৫ রানের ইনিংস খেলে দলকে জেতান। ভারত ২ উইকেট হারিয়ে ১৫.৪ ওভারে ১৫৪ রান করে জিতে। সিরিজেও সমতা আনেন রোহিত।

ম্যাচ পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে ভারত অধিনায়ক রোহিত শর্মা বলেছিলেন, ‘যদি পিচ ভাল থাকে, তাহলে টিম ইন্ডিয়ার ভিন্ন এ্যাপ্রোচ দেখবেন।’ ভারতের হয়ে সবচেয়ে বেশি টি২০ খেলা, নিজের ১০০তম টি২০ ম্যাচে নিজেই ব্যাটিং ঝলক দেখালেন। এমনই মারমুখি হয়ে ব্যাটিং করলেন, ২৩ বলেই ৫০ রান করে ফেলেন। ১০ম ওভারেই স্কোরবোর্ডে ১০০ রান যোগ হয়ে যায়। মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের করা ১০ম ওভারে টানা তিন বলে তিন ছক্কা হাকান। শিখর ধাওয়ান উইকেট আকড়ে থাকেন। রোহিতকে স্ট্রাইক দেন। রোহিত মহা বড় বড় ছক্কা হাকান। নিশ্চিত জয়ের দিকে চলে যায় ভারত। যখন দলের ১১৮ রান হয়ে যায়, তখন লেগ স্পিনার আমিনুল ইসলাম বিপ্লবের ঘূর্ণিতে বোল্ড হন ধাওয়ান (৩১)। কোনভাবে একটি উইকেট ফেলে বাংলাদেশ। রোহিত-ধাওয়ান মিলে ১১৮ রানের জুটি গড়েন। অবশেষে রোহিতকেও (৬ ছক্কা, ৬ চারে ৪৩ বলে ৮৫ রান) আটকান বিপ্লব। কিন্তু ততক্ষণে ১৩তম ওভারেই ১২৫ রান করে ফেলে ভারত। শেষে লোকেশ রাহুল (৮*) ও শ্রেয়াশ আইয়ার (২৪*) মিলে ম্যাচ জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন। ২৬ বল বাকি থাকতেই ১৫৪ রান করে ফেলে ভারত।

শুরু থেকে দুই ওপেনার লিটন কুমার দাস ও নাঈম শেখ উজ্জ্বলতা ছড়ানো ব্যাটিং করতে থাকেন। দ্বিতীয় ওভারে টানা তিন বলে মিড অন, স্কয়ার লেগ, মিড অফ দিয়ে তিন চার হাকান নাঈম। সবদিকেই সমান তালে ব্যাটিং পারদর্শিতা দেখাতে থাকেন। খুব সুন্দর এগিয়ে যেতে থাকেন দু’জনই। আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ব্যাটিং করতে থাকেন। ৫ ওভারেই ৪১ রান হয়ে যায়। যেই লেগ স্পিনার আনা হয়, যুজবেন্দ্র চাহাল বল করা শুরু করতেই লিটন এলোমেলো হয়ে যান। ব্যাটিংয়ে তাড়াহুড়ো শুরু করে দেন। ষষ্ঠ ওভারের তৃতীয় বলে গিয়ে উইকেটরক্ষক ঋষভ পন্থের ভুলে স্ট্যাম্পিং হওয়া থেকে বাঁচেন ১৭ রানে থাকা লিটন। চাহাল বল ছুড়তেই এগিয়ে গিয়ে খেলতে যান লিটন। বল ব্যাটে না লেগে পন্থের হাতে যায়। পন্থ স্ট্যাম্পিংও করেন। লিটনও সাজঘরের দিকে হাঁটা শুরু করে দেন। কিন্তু টিভি রিপ্লেতে দেখা যায় পন্থের হাত স্ট্যাম্পের একটু সামনে ছিল। তাতে ‘নো’ বল হয়। লিটন বেঁচে যান। কিন্তু সেই বেঁচে যাওয়া কাজে লাগাতে পারেননি।

পরের দুই বলেই দুই বাউন্ডারি হাকান লিটন। পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে বাংলাদেশও ৫৪ রান করে ফেলে। পরের ওভারে ওয়াশিংটন সুন্দরের বলে স্লগ সুইপ মারতে গিয়ে রোহিত শর্মার হাতে ক্যাচ আউট হওয়া থেকে বাঁচেন। ২৬ রানে আবার ‘নতুন জীবন’ পেয়েও কাজ হয়নি। অষ্টম ওভারের দ্বিতীয় বলে চাহালের ঘূর্ণি বলটিতে আবার এগিয়ে গিয়ে মারতে যান। বল আবারও ব্যাটে লাগেনি। পায়ে লাগে। পন্থ এলবিডব্লিউয়ের আবেদনও করেন। আম্পায়ার ‘নট আউট’ও দেন। কোনদিকে না তাকিয়ে রান নিতে দৌড়ান লিটন। যখন বুঝলেন বল উইকেটরক্ষকের সামনেই আছে, তখন আবার স্ট্রাইকে আসতে চাইলেও পারেননি। ততক্ষণে পন্থ রান আউট করে দেন। দুইবার নতুন জীবন পেয়েও ২৯ রানের বেশি করতে পারেননি লিটন। তবে স্কোরবোর্ড মজবুতই থাকে তখন। ৬০ রান হয়।

লিটন আউটের পর রানের গতি কিছুটা কমে যায়। টি২০ হচ্ছে বাউন্ডারির খেলা। কিন্তু তাই মিলছিল না। চাপে পড়ে যান নাঈম। সঙ্গে ব্যাট হাতে নামা সৌম্য সরকারও। নাঈম তো (৩৬) শেষ পর্যন্ত আউটই হয়ে যান। তবে আউট হওয়ার আগে নিজের কাজটা ঠিকই করে যান। দলের ৮৩ রানে গিয়ে দ্বিতীয় উইকেট পড়ে বাংলাদেশের। এরপর নামেন মুশফিকুর রহীম। যিনি প্রথম টি২০ তে অপরাজিত ৬০ রান করে বাংলাদেশকে জেতান। সৌম্য আর মুশফিকের তৃতীয় উইকেটে করা ৬০ রানের জুটিতেই প্রথম টি২০তে জয়ের আশাও জাগে। জয়ও মিলে।

এবার দ্বিতীয় টি২০তে সৌম্য-মুশফিক জুটি দলকে বেশি দূর নিতে পারেননি। ১৪ রানের জুটি হয়। দলের ৯৭ রানে চাহালের লেগ স্পিনে ধোঁকা খেয়ে ডিপ মিডউইকেটে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন মুশফিক (৪)। তখন যেন হতাশা ঘিরে ধরে। সৌম্য ধুমধারাক্কা ব্যাটিং করছিলেন। যেমনটি দরকার ছিল। কিন্তু ১৩তম ওভারে মুশফিককে আউট করার পর গুগলিতে সৌম্যকেও (২০ বলে ৩০ রান) সাজঘরে ফেরান চাহাল। বড় স্কোর হওয়ার যে আশা, তা যেন এখানেই শেষ হয়ে যায়। চাহাল ম্যাচের মোড় এই ওভারেই যেন ঘুরিয়ে দেন।

যেখানে শেষদিকে বেশি রান হওয়ার কথা। টি২০ ক্রিকেটে শেষদিকেই ধুমধারাক্কা ব্যাটিং হয়। সেখানে ১২তম ওভারের দ্বিতীয় বলে যে সৌম্য ছক্কা হাকান, এরপর ১৬তম ওভারের পঞ্চম বলের আগ পর্যন্ত আর কোন বাউন্ডারি হয়নি! টানা ২৬ বলে কোন বাউন্ডারিই হয়নি। ১৩তম ওভারে গিয়ে স্কোরবোর্ডে ১০০ রান জমা হয়। আফিফ হোসেন ধ্রুব (৬) উইকেটে খুব কষ্ট করে টিকে থাকতে চেয়েও পারেননি। মাহমুদুল্লাহ ১৭তম ওভারে যদি তিনটি বাউন্ডারি না হাকাতেন, তাহলে রানের গতি আরও দুর্বল হয়ে থাকত। দীপক চাহারের গতির কাছে হার না মানলে মাহমুদুল্লাহ (২১ বলে ৩০ রান) দলকে আরও দূরে নিয়ে যেতে পারতেন। ১৪২ রানে মাহমুদুল্লাহ আউটের পর হাতে থাকে ৯ বল। তাতে ১১ রান আসে। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ১৫৩ রান করে।

যেখানে ৬ ওভারেই ৫৪ রান হয়ে যায়, সেখানে শেষ ১৪ ওভারে গিয়ে ৯৯ রান আসে। প্রথম ১০ ওভারে বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে ৭৮ রান হয়। শেষ ১০ ওভারে ৭৫ রান করে বাংলাদেশ। শেষ ১০ ওভারেই রানের গতি দুর্বল হয়ে পড়ায় রানও কম হয়। চাহাল যে ১৩তম ওভারে গিয়ে, এক ওভারেই মুশফিক ও সৌম্যকে আউট করে দেন, সেখানেই ম্যাচ ভারতের দখলে চলে যায়। শুরুতে যেভাবে ব্যাটিং করেন বাংলাদেশ ক্রিকেটাররা দেড় শ’ রান ছড়ানো খুব সহজই মনে হয়েছে। কিন্তু মাঝপথে এলোমেলো হয়ে যায় সব। তাতে অনেক কষ্টে দেড় শ’ ছাড়ানো স্কোর করা গেছে। ভারতও রোহিতের ব্যাটিং তা-বে সহজেই জিতে যায়। সাইক্লোন ‘মহা’র প্রভাব শেষ পর্যন্ত ম্যাচে পড়েনি। তবে চাহালের বোলিং আর রোহিতের ব্যাটিংয়ের প্রভাব বাংলাদেশ শিবিরে পড়ে। জিতে সিরিজেও ১-১ সমতা আনে ভারত। প্রথম টি২০তে ৭ উইকেটে বাংলাদেশ জেতায় সিরিজে সমতা আসে। এখন রবিবার তৃতীয় ও শেষ টি২০তে সিরিজের ফয়সালা হবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

আরো খবর »

কোহলিকে শূন্য রানে ফেরালেন রাহী

*

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জিতল বাংলাদেশের যুবারা

*

ইডেন টেস্টে ধারাভাষ্যের প্রস্তাব মাশরাফীর প্রত্যাখ্যান

*