হোম লীড নিউজ বিনিয়োগকারীদের ব্যাংক হিসাবে লভ্যাংশ পাঠিয়েছে তিন কোম্পানি

বিনিয়োগকারীদের ব্যাংক হিসাবে লভ্যাংশ পাঠিয়েছে তিন কোম্পানি

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : at 12:42 pm
111
0
divident

শেয়ারবাজার ডেস্ক: পুঁজিবাজারে তালিকাভূক্ত তিন কোম্পানি- ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স লিমিটেড ও পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ সমাপ্ত হিসাববছরের জন্য ঘোষিত নগদ লভ্যাংশ বাংলাদেশ ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার নেটওয়ার্কের (বিইএফটিএন) মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হয়েছে। সূত্র: ডিএসই।

ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড: ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাববছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে বিনিয়োগকারীদের জন্য কোম্পানিটি ২৬ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে।

এদিকে গতকাল ডিএসইতে শেয়ারদর দুই দশমিক চার শতাংশ বা এক টাকা ৯০ পয়সা বেড়ে প্রতিটি সর্বশেষ ৯৪ টাকা ৯০ পয়সায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দর ছিল ৯৩ টাকা ৪০ পয়সা। ওইদিন কোম্পানিটির ২৪ হাজার ২৩০টি শেয়ার মোট ৯০ বার হাতবদল হয়, যার বাজারদর ২২ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। আর দিনভর শেয়ারদর সর্বনিম্ন ৯২ টাকা ৭০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ৯৪ টাকা ৯০ পয়সায় ওঠানামা করে। এক বছরের মধ্যে শেয়ারদর ৯০ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ১২৫ টাকা ৫০ পয়সায় ওঠানামা করে।এর আগে ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাববছরে কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের জন্য ২৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে, যা

২০১৬ সালে ছিল ২০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ। বিমা খাতের এ কোম্পানিটি ১৯৯৫ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়ে বর্তমানে ‘এ’ ক্যাটেগরিতে অবস্থান করছে। ৫০০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন ১২৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। কোম্পানিটির ১২ কোটি ৩৭ লাখ ৫০ হাজার শেয়ার রয়েছে। ডিএসই থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্যমতে, কোম্পানির মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে রয়েছে ৩৩ দশমিক ২৬ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক ২২ দশমিক ৫২ শতাংশ, বিদেশি বিনিয়োগকারী দুই দশমিক আট শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে ৪২ দশমিক ১৪ শতাংশ শেয়ার।

পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড: ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ সমাপ্ত হিসাববছরের জন্য কোম্পানিটি ৪০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। আলোচিত সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে চার টাকা ৫৫ পয়সা এবং শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ৬৮ টাকা ২৯ পয়সা, যা আগের বছর একই সময় যথাক্রমে চার টাকা ২৭ পয়সা ও ৮০ টাকা ৫২ পয়সা ছিল।

এদিকে গতকাল ডিএসইতে শেয়ারদর শূন্য দশমিক ৬১ শতাংশ বা ৬০ পয়সা বেড়ে প্রতিটি সর্বশেষ ৯৮ টাকা ৬০ পয়সায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দরও ছিল ৯৮ টাকা ৬০ পয়সা। দিনজুড়ে তিন হাজার ৯২৯টি শেয়ার মোট ২৪ বার হাতবদল হয়, যার বাজারদর তিন লাখ ৮৭ হাজার টাকা। দিনজুড়ে শেয়ারদর সর্বনিম্ন ৯৮ টাকা ১০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ৯৯ টাকায় হাতবদল হয়। এক বছরে শেয়ারদর ৭৫ টাকা থেকে ১২৭ টাকা ৮০ পয়সার মধ্যে ওঠানামা করে।

এর আগে ২০১৫, ২০১৬ ও ২০১৭ সালের জন্য কোম্পানিটি ৪০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল। ‘এ’ ক্যাটেগরির এ কোম্পানিটি ২০০৫ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। ৫০০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন ৬০ কোটি ৪২ লাখ ৮০ হাজার টাকা। কোম্পানিটির মোট শেয়ারের সংখ্যা ছয় কোটি চার লাখ ২৮ হাজার ৩৫৮টি। ডিএসই থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্যমতে, মোট শেয়ারের ২৮ দশমিক ৯২ শতাংশ উদ্যোক্তা বা পরিচালকদের, সাত দশমিক ৮৪ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক, শূন্য দশমিক ২১ শতাংশ বিদেশি ও ৬৩ দশমিক তিন শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে।

প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স লিমিটেড: কোম্পানিটি ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাববছরে নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে বিনিয়োগকারীদের পাঁচ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ড দিয়েছে।
এদিকে গতকাল ডিএসইতে শেয়ারদর এক দশমিক ৪৩ শতাংশ বা ১০ পয়সা বেড়ে প্রতিটি সর্বশেষ সাত টাকা ১০ পয়সায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দর ছিল সাত টাকা। ওইদিন কোম্পানিটির দুই লাখ ৯৪ হাজার ছয়টি শেয়ার মোট ১০২ বার হাতবদল হয়, যার বাজারদর ২০ লাখ ৫৩ হাজার টাকা। দিনভর শেয়ারদর সর্বনি¤œ ছয় টাকা ৯০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ সাত টাকা ১০ পয়সায় ওঠানামা করে। এক বছরের মধ্যে শেয়ারদর ছয় টাকা ২০ পয়সা থেকে ১৪ টাকা ২০ পয়সায় ওঠানামা করে।

এর আগে ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাববছরে কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের জন্য পাঁচ শতাংশ নগদ ও পাঁচ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছে। আর তার আগের বছর অর্থাৎ ২০১৬ সালেও একই পরিমাণ লভ্যাংশ দিয়েছিল। ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাববছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছিল এক টাকা ১২ পয়সা এবং শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ১৬ টাকা ৬৪ পয়সা। ওই সময় মুনাফা করে ১৩ কোটি ৫৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা। আর তার আগের বছর অর্থাৎ ২০১৬ সালের একই সময়ে ইপিএস হয়েছিল এক টাকা ৩০ পয়সা এবং এনএভি হয়েছিল ১২ টাকা ৬৭ পয়সা এবং কর-পরবর্তী মুনাফা করে ১৪ কোটি ৯৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা।

কোম্পানিটি ২০০৫ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়ে বর্তমানে ‘বি’ ক্যাটেগরিতে অবস্থান করছে। ৩০০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন ১৩২ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। রিজার্ভের পরিমাণ ৭৩ কোটি ২১ লাখ ২০ হাজার টাকা। কোম্পানিটির ১৩ কোটি ২৯ লাখ ৭০ হাজার ২১১টি শেয়ার রয়েছে। ডিএসইর সর্বশেষ তথ্যমতে, মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা বা পরিচালকের কাছে ৩১ দশমিক ৯৫ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর কাছে ২৭ দশমিক ১৪ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীর কাছে রয়েছে ৪০ দশমিক ৯১ শতাংশ শেয়ার। সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন ও বাজারদরের ভিত্তিতে শেয়ারের মূল্য আয় (পিই) অনুপাত ১২ দশমিক সাত এবং হালনাগাদ অনিরীক্ষিত ইপিএসের ভিত্তিতে ৫০।

আরও পড়ুন: বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাবে বোনাস পাঠিয়েছে জনতা ইন্স্যুরেন্স