হোম আইন-আদালত হাইকোর্টে ওসি মোয়াজ্জেমের জামিন আবেদন

হাইকোর্টে ওসি মোয়াজ্জেমের জামিন আবেদন

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : at 3:17 pm
176
0

নিজস্ব প্রতিবেদক : বহুল আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যার ঘটনায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলায় ফেনীর সোনাগাজী থানার প্রাক্তন ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন হাইকোর্টে আবারো জামিন আবেদন করেছেন। আজ মঙ্গলবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ আবেদন করা হয়েছে। ওসি মোয়াজ্জেমের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রানা কাওছার এ তথ্য জানিয়েছেন।

কোন যুক্তিতে জামিন চেয়েছেন জানতে চাইলে আইনজীবী রানা কাওসার বলেন, ‘তিনি (ওসি মোয়াজ্জেম) অসুস্থ, তা ছাড়া তিনি একজন পুলিশ অফিসার। তিনিতো আর পালিয়ে ‍যাবেন না। এসব গ্রাউন্ডে জামিন চেয়ে আবেদন করেছি।’

এর আগে গত ১ জুলাই ওসি মোয়াজ্জেমের জামিন আবেদন উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করে দেন বিচারপতি মো. মঈনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি খিজির হায়াতের হাইকোর্ট বেঞ্চ।

গত ১৬ জুন হাইকোর্ট এলাকার বাইরে থেকে গ্রেপ্তার হন ওসি মোয়াজ্জেম। এরপর ১৭ জুন তাকে আদালতে হাজির করা হলে তার জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন সাইবার ট্রাইব্যুনালের (বাংলাদেশ) বিচারক মোহাম্মদ আস শামস জগলুল হোসেন।

কারাগার যাওয়ার পর থেকে এ নিয়ে তিনি দুইবার জামিন আবেদন করলেন।

ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে তার মা ২৭ মার্চ থানায় অভিযোগ দাখিল করেন। ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন নুসরাতকে থানায় ডেকে নিয়ে তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং তা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেন। ৬ এপ্রিল নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় অধ্যক্ষের অনুসারীরা। এরপর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১০ এপ্রিল মারা যান নুসরাত। এ ঘটনায় পৃথক একটি মামলায় তদন্ত শেষে ১৬ জনের বিরুদ্ধে ২৯ মে ফেনীর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনার পরই নুসরাতের জবানবন্দির বিষয়টি সবার সামনে আসে। এ অবস্থায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন ঢাকার সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালে ১৫ এপ্রিল মামলা করেন। ট্রাইব্যুনাল বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেয়। এই নির্দেশে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৬, ২৯ ও ৩১ নম্বর ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয় ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে।