হোম শিরোনাম ইংল্যান্ডকে ২৪২ রানের টার্গেট দিলো নিউজিল্যান্ড

    ইংল্যান্ডকে ২৪২ রানের টার্গেট দিলো নিউজিল্যান্ড

    সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : at 8:10 pm
    46
    0
    ইংল্যান্ড

    স্পোর্টস ডেস্ক: ২৭ বছর পর বিশ্বকাপে ফাইনালে উঠে স্বাগতিক ইংল্যান্ড আজ খেলছে ফেবারিটের মতোই। ইংলিশ পেসারদের দাপটে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে নিউজিল্যান্ডের সংগ্রহ ২৪১ রান। ক্রিকেটের তীর্থ লর্ডসে এই রান চেজ করতে পারলেই ইংল্যান্ডকে নতুন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে দেখবে ক্রিকেটবিশ্ব। আর না পারলে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের ইতিহাস গড়বে নিউজিল্যান্ড।

    এর আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে ইংলিশ পেসারদের তোপের মুখে পড়েছিল নিউজিল্যান্ড। তাদের শুরুটা ছিল সতর্ক। ক্রিস ওকসের বলে হেনরি নিকোলাসকে আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনা এলবিডাব্লিউ ঘোষণা করলেও রিভিউ নিয়ে বাঁচেন তিনি। তবে ফাইনালেও ব্যর্থ মার্টিন গাপটিল। দলীয় ২৯ রানে ১৯ রান করে ওকসের বলে এলবিডাব্লিউ হয়ে ফিরেন তিনি। শুরুর ধাক্কা সামলে নিকোলাসের সঙ্গে জুটি গড়ে দলকে এগিয়ে নিচ্ছিলেন কেন উইলিয়ামসন। দলের স্কোর একশ পার হতেই বিপদ।

    লিয়াম প্ল্যাংকেটের বলে উইকেটকিপার জস বাটলারের গ্লাভসবন্দি হন ৫৩ বলে ৩০ রান করা কিউই অধিনায়ক। এর সঙ্গেই ভাঙে ৭৪ রানের প্রয়োজনীয় এক জুটি। ৭১ বলে ৪ বাউন্ডারিতে হাফ সেঞ্চুরি পূরণ করেন নিকোলাস। আর বেশিদূর যেতে পারেননি। ৫৫ রানে তাকে বোল্ড করে দেন লিয়াম প্ল্যাংকেট। অভিজ্ঞ রস টেইলরকে নিয়ে স্বপ্ন দেখছিল কিউইরা। তাকে ১৫ রানে এলবিডাব্লিউ করে স্বপ্নভঙ্গ করেন মার্ক উড। আশার আলো হয়ে থাকা জেমস নিশামকে (১৯) ফিরিয়ে তৃতীয় শিকার ধরেন লিয়াম প্ল্যাংকেট।

    ৪৪তম ওভারে দুইশ পার হয় কিউইদের স্কোর। এরপরই গ্র্যান্ডহোমকে (১৬) বদলি ফিল্ডার জেমস ভিন্সের তালুবন্দি করেন ক্রিস ওকস। হাফসেঞ্চুরির কাছে গিয়ে ব্যর্থ হন ল্যাথাম। ৪৭ রান করে তৃতীয় শিকার হন ওকসের। শেষ ওভারে ম্যাট হেনরিকে (৪) বোল্ড করে দেন জোফরা আর্চার। ৩টি করে উইকেট নিয়েছেন ক্রিস ওকস এবং লিয়াম প্ল্যাংকেট। ১টি করে উইকেট নিয়েছেন মার্ক উড এবং জোফরা আর্চার। নির্ধারিত ৫০ ওভারে কিউইদের সংগ্রহ ৮ উইকেটে ২৪১ রান।

    আজকেও আম্পায়ারিংয়ের ভুল বাজেভাবে চোখে পড়েছে। ম্যাচের তৃতীয় ওভারে তৃতীয় বলে ওপেনার হেনরি নিকোলসের প্যাডে আঘাত করে ক্রিস ওকসের ডেলিভারি। ফিল্ডারদের জোরালো আবেদনে সাড়া দিয়ে তর্জনী তুলে দেন আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনা। নিকোলস রিভিউ নিলে দেখা যায়, বলটি প্যাডে না লাগলে স্ট্যাম্পের উপর দিয়ে চলে যেতো। ধর্মসেনাকে ক্ষমা চাইতে হয় এবং তার সিদ্ধান্ত বাতিল করে দেন টিভি আম্পায়ার রোড টাকার।

    তারপরেও ওপেনিং জুটিটা বড় করতে পারেননি মার্টিন গাপটিল। পুরো আসরে নিজের ছায়া হয়ে থাকা এ ওপেনার ব্যর্থতার ষোলকলা পূর্ণ করে ওকসের শিকার হন ১৯ রানে। নিজে তো গেলেনই, রিভিউটা নষ্ট করে গেলেন। যার মূল্য পরে দলের কঠিন সময়ে চুকাতে হয়েছে রস টেইলরকে।

    এরপর অবশ্য নিকোলসকে নিয়ে চাপ সামাল দেন অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। বিশ্বকাপের এক আসরে অধিনায়ক হিসেবে সর্বাধিক রানের রেকর্ড গড়ার পথে তিনি জুটি গড়েন ৭৪ রানে।

    তবে ২৩তম ওভারে আবারো ধর্মসেনার ভুলে একবার জীবন পান তিনি! লিয়াম প্লাঙ্কেটের বল উইলিয়ামসনের ব্যাট ছঁয়ে চলে যায় উইকেটরক্ষক জস বাটলারের হাতে। কিন্তু, ইংল্যান্ডের আবেদনে সাড়া দেননি ধর্মসেনা। ইংলিশ অধিনায়ক ইয়ন মরগান রিভিউ নিলে আল্ট্রা এজে দেখা যায়, বলটি ব্যাট ছুঁয়েছে। ফলে আবারো ক্ষমা চাইতে হয় ধর্মসেনাকে। আউট হয়ে ফেরেন ৫৩ বলে ৩০ রান করা উইলিয়ামসন।

    নিকোলসকেও দ্রুতই অধিনায়কের পথ ধরান প্লাঙ্কেট। বোল্ড হওয়ার আগে ৫৫ রান করে যান তিনি। ১১৮ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া নিউজিল্যান্ডকে যখন টেনে তোলার চেষ্টা করছিলেন অভিজ্ঞ রস টেইলর টিক তখনই আম্পায়ার মারিয়াস ইরাসমুসের ভুল সিদ্ধান্তের বলি হলেন। দলকে ফেলে গেলেন আরো বিপদে। মার্ক উডের জোরালো আবেদনে সাড়া দিয়ে আম্পায়ার আঙুল তুললেও টিভি রিপ্লেতে দেখা যায় বল স্ট্যাম্পের উপর দিয়ে চলে যাচ্ছিলো।

    টেইলের পোড়াকপালের পেছনে তার সতীর্থ গাপটিল আর নিকোলসের হাতও কম নয়। ম্যাচের সপ্তম ওভারে ক্রিস ওকসের বলে লেগ বিফোর হয়ে সাজঘরে ফেরেন ১৯ রান করা গাপটিল। আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত পছন্দ না হওয়ায় নিয়েছিলেন রিভিউ। কিন্তু তাতে কোনো লাভ হয়নি। বরং, বড় লোকসানটা হয়ে গেছে রিভিউ নষ্ট করে। রিভিউ নেয়ার আগে গাপটিল পরামর্শ করেছিলেন নিকোলসের সঙ্গে। কিন্তু তিনিও সঠিক পরামর্শ দিতে পারেননি।

    রিভিউটা হাতে থাকলে হয়তো বেঁচে যেতেও পারতেন টেইলর। এরপর টম লাথাম একপাশ আগলে দারুণ ব্যাটিং করতে থাকলেও তাকে ঠিকভাবে সঙ্গ দিতে পারেননি অন্যরা। ৫৬ বলে ৪৭ রানের কার্যকরি ইনিংস খেলে ফেরেন তিনি।

    আরও পড়ুন:

    বিশ্বকাপ ফাইনালের এক টিকিটের দাম ১৪ লাখ!

    বিশ্বকাপে ’ম্যান অফ দা টুর্নামেন্ট’ এর দৌড়ে এগিয়ে কারা?