হোম স্বাস্থ্য-লাইফস্টাইল পুঁইশাকের স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে জেনে নিন

    পুঁইশাকের স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে জেনে নিন

    সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : at 2:52 pm
    100
    0

    ডেস্ক রির্পোট: আমাদের দেশের জনপ্রিয় এবং বেশ সুস্বাদু ও পুষ্টিকর একটি শাক হলো পুঁইশাক। বাজারে সারাবছরই পুঁইশাক পাওয়া যায়। ইলিশ-পুঁই ও চিংড়ি-পুঁই অনেকের অতি প্রিয় তরকারি। নানা ধরনের ভিটামিন সমৃদ্ধ এই শাকটি একদিকে রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে অন্যদিকে ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

    পুঁই এক প্রকার লতা জাতীয় উদ্ভিদ। পুঁই গাছের পাতা ও ডাটা শাক হিসেবে খাওয়া হয় বলে সচরাচর একে পুঁইশাক হিসাবে উল্লেখ করা হয়। পুঁই Basellaceae গোত্রভুক্ত বহুবর্ষজীবী উষ্ণমণ্ডলীয় গাছ। বাংলাদেশ ছাড়াও পশ্চিমবঙ্গে, আসামে এবং ত্রিপুরায় সর্বত্র এর চাষ হয়ে থাকে।

    এটি নরম বহুশাখা যুক্ত উদ্ভিদ। এর মাংসল লতা দ্রুতবেগে দৈর্ঘ্যে ১০ মিটার অবধি বাড়তে পারে। এর মোটা, রসালো, হরতন আকৃতির পাতাতে মৃদু সুগন্ধ আছে। পাতা মসৃণ, খানিকটা পিচ্ছিল ভাব আছে। এই শাক দুই ধরনের। একটি সবুজ পাতা ও ডাটা হালকা সবুজ। অন্যটি সবুজ পাতা কিন্তু কাণ্ড বা ডাটা লালচে বেগুনি রঙের। যা লালপুঁই হিসাবে পরিচিত।

    বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও ত্রিপুরায় পুঁইশাকের ভাজি প্রিয় খাদ্য। এছাড়া মাছ রাঁধতে পুঁইশাক ব্যবহার করা হয়। আফ্রিকায় পুঁই ডাটার রান্না বেশ প্রচলিত। উত্তর ভিয়েতনামে পুঁইয়ের স্যুপ খুব জনপ্রিয় খাবার। মালাবার উপকূলে স্যুপ ঘন করার জন্য রসুন ও মরিচের সঙ্গে ভাজা হিসাবে এটি খাওয়ার প্রচলন আছে।

    অন্যান্য শাকের মত এর মধ্যে অনেক ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, লোহা ও ক্যালসিয়াম আছে। আমিষের পরিমাণও বেশি। এছাড়া এর মধ্যে ছিবড়ের পরিমাণও অনেক।

    এবার জেনে নিন পুঁইশাকের উপকারিতা-

    প্রবাদে আছে- শাকের মধ্যে পুঁই, মাছের মধ্যে রুই। স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এর রয়েছে অনেক পুষ্টিগুণ।

    ১. পুঁইশাকে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আঁশ, যা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে, দেহের বর্জ্য বের করতে সাহায্য করে।

    ২. পুঁইশাকে বিদ্যমান ভিটামিন এ এবং সি, যা ত্বকের রোগজীবাণু দূর করে, শারীরিক বৃদ্ধিতে সাহায্য করে, চোখের দৃষ্টি শক্তি ভালো রাখে সেই সঙ্গে চুল মজবুত করে।

    ৩. নিয়মিত পুঁইশাক খেলে পাইলস, ফিস্টুলা ও হেমোরয়েড হওয়ার সম্ভাবনা থাকে খুবই কম।

    ৪. পুঁইশাকে প্রচুর পরিমাণ আঁশ বা ফাইবার থাকে যা পাকস্থলী ও কোলন ক্যান্সার প্রতিরোধ করে।

    ৫. যারা ব্রণ সমস্যায় ভোগেন, তাদের জন্য পুঁইশাক খুবই ভালো।

    ৬. বদহজম, গ্যাস, অ্যাসিডিটিসহ নানা সমস্যা দূর করে। এছাড়া পুষ্টিগুণ বেশি থাকায় এই শাক রোগ প্রতিরোধে বেশ কার্যকর।

    ৭. পুঁইশাকের আছে অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরি গুণ। শরীরের কোনো অংশ আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে ফুলে গেলে পুঁইশাকের শিকড় বেটে লাগালে দ্রুত উপশম হয়।

    ৮. শরীরে খোসপাঁচড়া কিংবা ফোড়ার মতো অনাবশ্যক সংক্রমণের বিরুদ্ধেও লড়তে পারদর্শী পুঁইশাক।

    যাদের প্রায় প্রতিদিনই মাথাব্যথা থাকে নিয়মিত পুঁইশাক খেলে তারা উপকার পাবেন খুব দ্রুত। তাই পরিবারের সবার স্বাস্থ্য সচেতনতায় খাদ্য তালিকায় নিয়মিত রাখুন পুঁইশাক।

    আরও পড়ুন:

    সন্তানের ওজন ঠিক রাখতে যা করবেন
    ‘ক্রিস্টাল মেথ বা আইস’ শরীরের জন্য কতটা ক্ষতিকর?
    জেনে নিন; ডেঙ্গু জ্বর হলে কী করবেন