হোম কর্পোরেট সংবাদ আজ ১৬ জুন চার্টার্ড সেক্রেটারিজ এ্যাক্ট ২০১০ উৎযাপনের দিন!

আজ ১৬ জুন চার্টার্ড সেক্রেটারিজ এ্যাক্ট ২০১০ উৎযাপনের দিন!

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : at 2:24 pm
608
0
সিএফও

২০১০ সালের ১৬ই জুন ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড সেক্রেটারীজ অব বাংলাদেশ (আইসিএসবি) এর enact বা আইন পাশ করার দিন। অর্থাৎ ২০১০ সালের ৭ই জুন মহান জাতীয় সংসদে বাজেট অধীবেশন চলাকালীন সময় পাস হয় চাটার্ড সেক্রেটারিজ এ্যাক্ট ২০১০। সে সময়ে কাউন্সিল সদস্যদের অক্লান্ত পরিশ্রম, সময় ও দুরদর্শিতার মাধ্যমে তৎকালীন ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড সেক্রেটারীজ এন্ড ম্যানেজারস অব বাংলাদেশ (আইসিএসএমবি) এর প্রেসিডেন্ট মোঃ আসাদউল্লাহ, এফসিএস এর সফল নেতৃত্বে আলোর দেখা পায় চাটার্ড সেক্রেটারীজ প্রফেশন।

নথিভূক্ত তথ্য পর্যালোচনায় জানা যায়, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রথম সরকার গঠনের পর আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে ১৯৯৭ সালে মোঃ মোজাফ্ফর আহমেদ, এফসিএমএ, এফসিএস (এফ-০০০১) এর নেতৃত্বে ১৩ জন কর্পোরেট প্রফেশনাল আইসিএসএমবি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। সে সময় বাংলাদেশে চার্টার্ড সেক্রেটারী প্রফেশনের প্লাটফরম বা ভীত তৈরীতে যাদের শ্রম ও মেধায় এই প্রফেশনের শুরু তারা হলেন-মরহুম এমএস আলম মিয়া, এফসিএস (এফ-০০০২), একেএম মুক্তাদির, এফসিএস (এফ-০০০৩), মোহাম্মদ সানাউল্লাহ এফসিএস (এফ-০০০৪), ইতরাত হোসেন, এফসিএমএ, এফসিএস (এফ-০০০৯), এনজি চক্রবর্তী, এফসিএ, এফসিএস (এফ-০০১৩)।

এছাড়াও আইসিএসএমবি‘র প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের মধ্যে ছিলেন-মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, এফসিএস (০০০৫), মোঃ সিদ্দিকুর রহমান, এফসিএস (এফ-০০০৬), মোঃ সাইদুজ্জামান, এফসিএ, এফসিএস (এফ-০০০৮), মোঃ ইয়ামিন হোসেন, এফসিআইএস, এফসিএস (এফ-০০০৮), সুলতান-উল-আবেদিন মোল্লা, এফসিএস (এফ-০০১০), মোঃ আবুল হাসেম, এলএলএম, এফসিএ, এফসিএস (এফ-০০০১১), মৃত আনোয়ারুল আফজাল, এফসিএস (এফ-০০১২)।

পরবর্তীতে সরকার পরিবর্তনের ফলে তৎকালীন আওয়ামীলীগ সরকার আইসিএসএমবি কে আইনীরুপ দিয়ে যেতে পারেনি। পরবর্তী সময়ে ২০০৭ ও ২০০৮ তৎত্বাবধায়ক সরকারের সময় এক অধ্যাদেশের মাধ্যমে তৎকালীন সরকার আইসিএসবিকে আইনগত স্বীকৃতি দিয়ে গেজেট প্রকাশ করে।  কিন্ত অধ্যাদেশ গুলোতে ত্রুটি থাকায় ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে ২০০৭-২০০৮ এর সমস্ত অধ্যাদেশ বাতিল করলে আইসিএসবির অধ্যাদেশও বাতিল হয়ে যায়।

তারপর তৎকালীন আওয়ামীলীগ সরকারের বানিজ্যমন্ত্রী মো: ফারুক খান এবং বানিজ্য মন্ত্রনালয় বিষয়ক সংসদীয় কমিটির সভাপতি এ্যাডভোকেট লুৎফল হাই (সাচ্ছু) (এইচ-০০০৩) এর সহযোগিতায় আইসিএসএমবি এর তৎকালীন কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট মো: আসাদউল্লাহ, ড্রাফট আইনটি আবার মহান সংসদে পাশের জন্য উত্থাপন করার ব্যবস্থা করেন এবং তাকে সার্বিক সহযোগিতা করেন আইসিএসএমবি এর, সিনিয়র সহ সভাপতি সহিদ ফারুকী, ভাইস প্রেসিডেন্ট নন্দ গোপাল চক্রবর্তী, ট্রেজারার এম নাছিমুল হাই, সহ তৎকালীন কাউন্সিল সদস্য একেএম মুক্তাদির, মোহাম্মদ সানাউল্লাহ, ইতরাত হোসেন, এম শফিকুল ইসলাম খান, মোঃ আব্দুস ছালাম, আক্তার মতিন চৌধুরী, মনসুর আলম, মোঃ সেলিম রেজা, মোঃ মনিরুল আলম ও এস. আব্দুর রশিদ।

সিএস প্রফেশনের আইনি স্বীকৃতি আদায়ের ক্ষেত্রে সে সময় যাদের অবদান অনস্বীকার্য তাদের সেই ৯ জন আমলা ও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সম্মানিত ফেলো সদস্য প্রদান করে আইসিএসবি‘র ২০১০ সালের পূর্ণগঠিত নতুন পর্ষদ। ৯ জন কে তাদের অনবদ্য অবদানের জন্য দেওয়া হয় আইসিএসবি গোল্ড মেডেল। সেই সাথে চার্টার্ড সেক্রেটারীজ এ্যাক্ট ২০১০ অর্জনে অত্যাবশ্যকীয়, গুরুত্বপূর্ন এবং অসাধারণ অবদানের জন্য মো: আসাদউল্লাহ কেও দেওয়া হয় আইসিএসবি গোল্ড মেডেল। সব মিলিয়ে ২০১০ এর কনভোকেশন রুপ নিয়েছিল, ভালোবাসা, ফেলোশিপ আর সদস্যদের বন্ধুত্বের এক মিলন মেলায়। যে ৯জন কে নবগঠিত আইসিএসবি এর সম্মানিত ফেলো দেওয়া হয় তাঁরা হলেন-মোহাম্মদ ফারুক খান (এইচ-০০০১), ব্যারিষ্টার শফিক আহমেদ (এইচ-০০০২), এ্যাডভোকেট লুৎফল হাই (সাজু) (এইচ-০০০৩), ব্যারিষ্টার মওদুদ আহমেদ (এইচ-০০০৪), ডা: এ.বি. মির্জা মোঃ আজিজুল ইসলাম (এইচ-০০০৫), ডা: হোসেন জিল্লুর রহমান (এইচ-০০০৬), মোঃ গোলাম হোসেন (এইচ-০০০৭), সোহেল আহমেদ চৌধুরী (এইচ-০০০৮) এবং ফিরোজ আহমেদ (এইচ-০০০৯)।

২০০৯ সালের ৫ই আগস্ট চার্টার্ড সেক্রেটারীজ বিল কেবিনেট মিটিংয়ে উঠানো হয় এবং ১০ই আগস্ট বিলটি কেবিনেট মিটিংয়ে অনুমোদন পেয়ে ৭ই সেপ্টেম্বর আইন মন্ত্রণালয়ে যায় ভেটিং বা যাচাই-বাছাই এর জন্য। এরই মধ্যে ২৬ই আগস্ট ২০০৯-২০১০ সময়ের জন্য আইসিএসএমবি‘র কাউন্সিল নির্বাচন সম্পন্ন হয় এবং পুনরায় মো: আসাদউল্লাহ কে কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করা হয়। অন্য দিকে, চাটার্ড সেক্রেটারীজ বিল আইন মন্ত্রণালয়ে যাচাই-বাচাই শেষে ২০১০ সালের ১৫ই ফেব্রয়ারী কেবিনেট মিটিংয়ে চুড়ান্ত অনুমোদন পায় চাটার্ড সেক্রেটারীজ বিল ২০১০। পরবর্তীতে সে সময়ের বানিজ্যমন্ত্রী মো: ফারুক খান বিলটি পাশের জন্য মহান সংসদে উপস্থাপন করেন এবং সে সময় আইনটি পাশে আবার জটিলতা দেখা দিলে কাউন্সিল প্রেসিডেন্ট মো: আসাদউল্লাহ, কাউন্সিল সদস্য মো: সানাউল্লাকে সাথে নিয়ে বানিজ্যমন্ত্রণালয় সংস্লিষ্ট সংসদীয় কমিটিতে বিলটি পাশের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপনের জন্য জাতীয় সংসদ ভবনে বানিজ্যমন্ত্রী ও সংসদীয় কমিটি বৈঠকে যোগদিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে বিলের পক্ষে সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিলটিতে কোন পরিবর্তন ছাড়াই সংসদে চাটার্ড সেক্রেটারীজ এ্যাক্ট ২০১০ পাশ করানোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখেন।

অতপর, সেই মাহেন্দ্রক্ষণ বাজেট অধিবেশন ৭ই জুন ২০১০ পাশ হয়ে যায় মহান জাতীয় সংসদে চার্টার্ড সেক্রেটারীজ এ্যাক্ট ২০১০। ‍মুহূর্ত্বের মধ্যে খবরটি ছড়িয়ে যায় এক কান, দুই কান বহুকান হয়ে চাটার্ড সেক্রেটারীজ প্রফেশনের সকল সদস্যদের মধ্যে বয়ে যায় আনন্দের বন্যা। শুরু হয়ে যায় দিনটিকে স্বরণীয় করে বরণ করার জন্য দিনক্ষন। অবশেষে ৭ থেকে ১১ জুন ২০১০ চার্টার্ড সেক্রেটারী সদস্যদের মধ্যে বয়ে চলে চাপা আনন্দের উল্লাস যার বহিপ্রকাশ ঘটে ১২ জুন ২০১০। ঢাকার গুলশানে ইসপেক্টা কনভেনশন সেন্টারে দুই শতাধিক মেম্বারদের উপস্থিতিতে উৎযাপিত হয় গ্রান্ড সেলিব্রেশন অব চার্টার্ড সেক্রেটারিজ এ্যাক্ট ২০১০ যা পরবর্তীতে জুনের ১৬ তারিখে গেজেট আকারে প্রকাশ পায়। তারপর থেকে আইসিএসবি এর প্রতিটি কাউন্সিল প্রতি বছর ১৬ই জুন দিনটিকে শ্রদ্ধার সাথে স্বরণ করে আনন্দ উৎসবের মাধ্যমে বরণ করে আসছে।

এখানে উল্লেখ্য যে, চার্টার্ড সেক্রেটারিজ এ্যাক্ট ২০১০ মহান সংসদে পাশ হওয়ার পর প্রতি বছর ১৬ই জুন আইসিএসবি তার সদস্যদের জন্য একটি বড় উৎসবের আয়োজন করে, সেলিব্রেট হয় সিএস enact দিবস এবং স্বরণ করা হয় তাদেরকে, যাদের সময়, শ্রম ও মেধার কল্যাণে চার্টার্ড সেক্রেটারিজ প্রফেশন আইনি স্বীকৃতি পায়। এবং আলোচনা করা হয় আওয়ামীলীগ সরকারের যাদের সদিচ্ছা ও সহযোগিতার কারণে চার্টার্ড সেক্রেটারিজ এ্যাক্ট ২০১০ মহান সংসদে পাশ হয়। পাশাপাশি ঐ দিন আইসিএসবির সদস্যদের চার্টার্ড সেক্রেটারিজ প্রফেশনে তাদের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না ও অভিজ্ঞতা শেয়ার করে থাকেন। অর্থ্যাৎ ১৬ই জুন সকল চার্টার্ড সেক্রেটারিজ সদস্যদের আইন স্বীকৃত আনন্দের দিন। সিএস এ্যাক্ট ২০১০ উৎযাপনের দিন সদস্যদের মিলন মেলা ও প্রফেশনকে সেলিব্রেট করার মহান দিন, ২০১০ পরবর্তী সদস্যদের চোখে আলো ছড়াবার দিন, সবকিছু মিলে নতুন ও পুরাতন সদস্যদের জানা-বোঝার দিন হল ১৬ই জুন। ২৬ মার্চ যেমন সমগ্র বাঙ্গালী জাতির কাছে মহান ও গৌরবের, ১৬ই ডিসেম্বর যেমন বাংলার মানুষের বিজয় অর্জনের দিন, ঠিক তেমনই আমার, আপনার, সিএস প্রফেশনে আমাদের সবার জন্য ১৬ই জুন মহান গৌরবের এবং বিজয়ের দিন।

লেখক: মোঃ মিজানুর রহমান, এফসিএস, সম্পাদক, কর্পোরেট সংবাদ।

তথ্য সুত্র: 6th National Convention of ICSB and Journals of the Institute.