হোম স্বাস্থ্য-লাইফস্টাইল জামরুলের ঔষধি গুণাগুণ সম্পর্কে জেনে নিন

    জামরুলের ঔষধি গুণাগুণ সম্পর্কে জেনে নিন

    সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : at 11:43 am
    271
    0
    জামরুল

    ডেস্ক রির্পোট: জামরুল বা গোলাপজাম অথবা সাদা জাম কয়েক নামেই পরিচিত। এই সময়টাতেই সাধারণত জামরুল বাজারে আসে। ফলটি দেখতে যেমন সুন্দর তেমনি এর গুণাবলীও অনেক।

    আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ হতে পর্তুগিজ নাবিকেরা প্রথম এই ফল অত্র অঞ্চলে নিয়ে আসে। ইংরেজি নাম Eugenia javanica। এর আঞ্চলিক নাম অনেক। যেমন- জামরুল, আমরুজ, কোন কোন অঞ্চলে লকট নামেও পরিচিত। জামরুল বিভিন্ন রঙের হয়ে থাকে। তবে সাদা, হালকা সবুজ ও লাল-গোলাপী রঙেরই বেশি দেখা যায়।

    Spellbit Limited

    জামরুল ফল দেখতে ঘন্টাকৃতির। এ কারণে এটি Bell Fruit নামেও পরিচিত। জামরুল ফলের মধ্যে একটি ছোট বীজ থাকে। এই ফলের গাছ চির সবুজ ও মাঝারি আকারের হয়ে থাকে। মার্চ-এপ্রিল মাসে ফুল আসে এবং মে-জুনে ফল পাকে।

    রসালো ও আঁশবিহীন এই ফল হালকা মিষ্টি ও পানি পানি স্বাদের হয়ে থাকে। এটি একটি ভিটামিন বি-২ সমৃদ্ধ ফল। ফলের উপরের অংশ মসৃণ ও তেল তেলে।

    পুষ্টিমান: জামরুল স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারি। এতে খনিজ পদার্থ রয়েছে কমলার তিন গুণ এবং আম, আনারস ও তরমুজের সমান। ক্যালসিয়ামের পরিমাণ লিচু ও কুলের সমান এবং আঙুরের দ্বিগুণ। আয়রনের পরিমাণ কমলা, আঙুর, পেঁপে ও কাঁঠালের চেয়েও বেশি। ফসফরাসের পরিমাণ আপেল, আঙুর, আম ও কমলার চেয়ে বেশি।

    জামরুলের গুনাগুণ:
    হজম শক্তি বৃদ্ধি করতে: জামরুলের উচ্চমাত্রার ফাইবার হজমে জন্য দারুণ উপকারি। কোষ্ঠকাঠিন্য বলতে কোনো সমস্যাই থাকে না। এর বিচি ডায়রিয়া প্রতিরোধে অনেকটা ওষুধের মতো কাজ করে।

    ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করতে: জাম্বোসাইন হচ্ছে একধরনের ক্ষারজাতীয় উপাদান। এটি স্টার্চকে চিনিতে রূপান্তরিত হওয়ার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং সুস্থ মানুষের দেহে ডায়াবেটিস বাসা বাঁধা ঠেকিয়ে দিতে দক্ষ জামরুল। কাজেই জামরুল খেলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বিপজ্জনক পর্যায়ে যাবে না।

    ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে: জামরুলে আছে ক্যান্সার প্রতিরোধের উপাদান। তাই নিয়মিত জামরুল খেলে ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায় এবং ক্যান্সার প্রতিরোধ করে।

    কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করতে: পুষ্টি উপাদানের সম্মিলত উপস্থিতি দেহের কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে খুবী কার্যকরি। অ্যাথেরোসক্লেরোসিসের ঝুঁকিও কমে আসে উল্লেখযোগ্য হারে। কার্ডিওভাসকুলার বিষয়ক জটিলতা হ্রাস পায়। হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক আর করোনারি রোগের ঝুঁকিও আপনাকে পেরেশানিতে রাখবে না।

    মস্তিষ্ক ও লিভারের সুস্থ্য রাখতে: মস্তিষ্ক ও লিভারের সুস্থ্য রাখতে জামরুল টনিক হিসাবে কাজ করে।

    বাতের জন্য: জামরুল ভেষজগুণ সমৃদ্ধ ফল। বাত নিরাময়ে এটি ব্যবহার করা হয়।

    চোখের কালি দূর করতে: ঘুম না হওয়া কিংবা দুশ্চিন্তায় যাদের চোখের নিচে কালি পড়ে গেছে তারা সেই কালি দূর করতে নিয়মিত একটি করে জামরুল খেয়ে দেখতে পারেন।

    রোগ প্রতিরোধক: জামরুলের শক্তিশালী উপাদানগুলো জীবাণু এবং ছত্রাকনাশক হিসেবে কাজ করে। গবেষণায় দেখা গেছে, ত্বকে ভাইরাস সংক্রমণ ঠেকায় এই ফল। এতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।

    বিষাক্ত উপাদান পরিষ্কার করতে: শরীরে প্রতিনিয়ত বিষাক্ত উপাদান ঘুরে বেড়ায়। শত শত বছর ধরে দেহ থেকে বিষাক্ত পদার্থ ধুয়ে বের করে দিতে জামরুলের কাযর্কারী ভূমিকা পালন করে। লিভার আর কিডনির বিষ দূর করে বিপাকক্রিয়া সুষ্ঠু রাখতে যেন এক অব্যর্থ টোটকা এই জামরুল।

    আরও পড়ুন:
    কালো জামের উপকারিতা সম্পর্কে জেনে নিন
    কোন ধরনের প্লাস্টিকের পাত্র ব্যবহার করা নিরাপদ?
    পিঠের মেদ ঝরাবেন যেভাবে